ঢাকাSunday , 8 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লালমনিরহাটে মেয়াদ উত্তীর্ণ তিস্তা রেলওয়ে সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল; দুর্ঘটনার আশঙ্কা

Link Copied!

নির্ধারিত আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার প্রায় ২৭ বছর পরেও লালমনিরহাট ও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সংযোগস্থলে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক রেলসেতু দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। ফলে যে কোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা অভিযোগ স্থানীয়দের। ১৮৯৯ সালে তৎকালীন নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ১ শত ১০ ফুট দীর্ঘ এই রেলসেতুটি নির্মাণ করে। সেতুটির নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ১০০ বছর। ফলে ১৯৯৯ সালে এর কার্যকারিতা শেষ হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ৪ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ট্রেনের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগের উদ্বোধন করেন। ফলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল শুরু করে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে ঘটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে মাত্রাতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক পারাপারের ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেতুটির একাধিক স্থানে কাঠের স্লিপার পচে গেছে, কোথাও নাট-বল্টু ঢিলা, আবার কোথাও নেই আবার পাতাটন নষ্ট হয়ে গেছে। ভারি ট্রেন চলাচলের সময় সেতুর বিভিন্ন অংশে স্পষ্ট কম্পন অনুভূত হয়। সম্প্রতি স্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে ঝালাই ও প্যাচওয়ার্ক করে ট্রেন চলাচল চালু রাখা হয়। এ দিকে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে তিস্তা সড়ক সেতু চালু হওয়ার পর মেয়াদোত্তীর্ণ রেল সেতুর যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও রেল সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫টি লোকাল, মেইলসহ এক্সপ্রেস ট্রেন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে চলাচল করছে। সেতুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে এই সেতুতে। ফলে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল হক জানান, আমাদের এই তিস্তা রেলওয়ে সেতুটি ১৮৯৯ সালে স্থাপন করা হয় সে সময় ব্রিজের স্থায়িত্ব ছিল ১০০বছরের। কিন্তু ১২৬বছর অতিক্রম হাওয়ার কারণে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুতে ট্রেন ঢুকলেই সেতুর মাঝপথের পিলার ঝাকুনি দিয়ে ওঠে। এবং প্রচন্ড শব্দ করে মনে হয় যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে আমাদের দাবি নতুন সেতু নির্মাণের। সেতুতে ঘুরতে আসা কুড়িগ্রাম জেলার মাদ্রাসা ছাত্র জয়নাল আবেদীন জানান, এই সেতুটি লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। এই সেতু দিয়ে আগে প্রতিদিন বাস ট্রাক ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতো। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তৎকালীন সরকার বাস ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের জন্য তিস্তা নদীর উপর আরেকটি সড়ক সেতু নির্মাণ করেন। এখন নতুন একটি রেলওয়ে সেতু জরুরী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, আমার জন্মের পর হতে শুনি এই সেতুটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে এখন ঝুঁকিপূর্ণভাবে ট্রেন চলাচল করছে। আমরা বারবার সরকারের কাছে দারি জানিয়ে আসছি নতুন একটি রেলওয়ে সেতু নির্মাণের। একসময় এই সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করার কারণে সেতুর বিভিন্ন জায়গায় রেলওয়ে স্লিপারের পচন ধরেছে কোথাও নাট বল্টু খুলে গেছে এসব তদারকি করার লোকজন থাকলেও কোন কাজের কাজ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ শিপন আলী জানান, সম্প্রতি সেতুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা গেছে এই মুহূর্তে সেতুটি ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। ডুয়েল গেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এই সেতু নির্মাণ হলে ব্রড গেজের ট্রেনগুলো সান্তাহার লালমনিরহাট বুড়িমারী পর্যন্ত নেয়া সম্ভব হবে।