গাইবান্ধার জেলার সাত উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এক সময় প্রাচীনকাল থেকে চেনা দেশী টক বড়াই বা টক বড়াই ফল এখন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাসীর মুখে এখন আর আগে মতো টক বড়াইয়ের স্বাদ পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিকায়নের চাপ, বাণিজ্যিক ফলের প্রাধান্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে এই প্রজাতি ঝুঁকির মুখে।
গ্রামের অনেক বৃদ্ধা-বৃদ্ধের স্মৃতিতে টক বড়াই শুধুমাত্র একটি ফল নয়, এটি ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। “আমরা ছোটবেলায় বর্ষার সময় টক বড়াইয়ের রস দিয়ে মিষ্টি-পানীয় বানাতাম। এখন সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে,” বলেন গাইবান্ধা সদরের কুটি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা। মোসাঃ ফরিদা ইয়াছমিন (৪৫)। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদমো: আতিকুল ইসলাম মতে, দেশী টক বড়াইয়ের গাছ প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এবং এতে প্রাকৃতিক ঔষধি গুণও রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যিক ফলের প্রতি মনোযোগ বাড়ার কারণে এই গাছগুলো আগের মতো রোপণ করা হচ্ছে না। এছাড়া, নতুন প্রজন্মের অনীহাও এই হারানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনও এনজিও এবং কৃষক সমিতি এখন টক বড়াই আচার তৈয়ারি করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা বীজ সংগ্রহ, গাছ রোপণ এবং গ্রামের শিশুদের মাঝে সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে। “যদি আমরা এখনি উদ্যোগ না নেই। আগামী আমাদের দেশে গ্রামে আর দেশী টক বড়াই খুঁজে না পাওয়ার সম্ভবনা অনেক কাংশে বেশী। জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক সমিতির সভাপতিরা। প্রকৃতির সাথে সম্পর্ক এবং গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষার জন্য দেশী টক বড়াই সংরক্ষণ এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলার গ্রামাঞ্চলে এক সময় প্রাচীনকাল থেকে পরিচিত দেশী টক বড়াই বা টক বড়াই ফল ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক ফলের চাষ, বাণিজ্যিক মনোভাব এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে এই গাছের সংখ্যা কমে এসেছে। গ্রামের অনেক বৃদ্ধা-বৃদ্ধের স্মৃতিতে টক বড়াই শুধু একটি ফল নয়, এটি ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। বেলঘর গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা ছোটবেলায় বর্ষার সময় টক বড়াইয়ের রস দিয়ে মিষ্টি-পানীয় বানাতাম। এখন সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে।” কৃষিবিদরা বলছেন, দেশী টক বড়াইয়ের গাছ প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এবং এতে রয়েছে ঔষধি গুণ। তবে বাণিজ্যিক ফলের দিকে মনোযোগ বেশি হওয়ায় এই গাছগুলো এখন আর আগের মতো রোপণ করা হচ্ছে না। গাইবান্ধা জেলা শহরের সমাজ সেবক জিয়াউল হক জনি বলেন, দেশী টক বড়াই রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফুল ছড়ি উপজেলার বালাসি রোডের দরদী নাসচারির মালিক বলেন,গ্রামীণ স্বাদ ও সংস্কৃতি বাঁচাতে দেশী টক বড়াইকে সংরক্ষণ করা এবং রোপন এখন সময়ের দাবি বলে আমি মনে করি। এ ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি ভাবে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

