ঢাকাSaturday , 7 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিযানের নামে আইওয়াশ
বিআইডব্লিউটিএর অসাধু চক্রের যোগসাজসে তুরাগ নদীর মাটি লুট

Link Copied!

ঢাকা জেলার আশুলিয়ার তুরাগ নদীর মাটি লুটে নিচ্ছে বিআইডব্লিউটিএর একটি ‘অসাধু চক্র’। অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হওয়ায় হুমকির মুখে কোটি টাকার ওয়াকওয়ে।
​সাভারের আশুলিয়া সংলগ্ন তুরাগ নদ ও তীরবর্তী সরকারি জমি থেকে রাতের আঁধারে মাটি লুটের মহোৎসব থামছেই না। দৈনিক পাঞ্জেরীতে এ নিয়ে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ নামমাত্র একটি অভিযান পরিচালনা করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই অভিযান ছিল কেবলই একটি ‘আইওয়াশ’। পর্দার আড়ালে বিআইডব্লিউটিএর কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা/কর্মচারীর যোগসাজশে চলছে কোটি কোটি টাকার মাটি বিক্রির ‘মাসোয়ারা’ খেলা।
​তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য ​অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তুরাগ নদের পাড় এবং আশপাশের সরকারি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি শক্তিশালী দুর্বৃত্ত চক্র। এলাকাবাসী বারবার প্রতিবাদ জানালেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, বিআইডব্লিউটিএ-র ভেতরকার একটি অসাধু অংশ এই চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রতি মাসে এখান থেকে মোটা অঙ্কের টাকা মাসোয়ারা হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু পকেটে পৌঁছে যায়, যার ফলে অপরাধীরা হয়ে উঠেছে চরম বেপরোয়া।
​সরকারি ‘ওয়াকওয়ে’ এখন ধসের মুখে
​মাটি কাটার এই ভয়াবহতার প্রভাব পড়ছে সরাসরি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদের পাড় দিয়ে তৈরি করা কোটি টাকার ‘ওয়াকওয়ে’ এখন চরম ঝুঁকির মুখে। মাটি সরিয়ে নেওয়ায় ওয়াকওয়ের নিচ ফাঁকা হয়ে গেছে এবং পিলারগুলো আলগা হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগের স্থাপনাটি।
পোর্ট অফিসারের বক্তব্য ও ‘জিরো টলারেন্স’
​এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বরত পোর্ট অফিসার মোবারক হোসেন মজুমদারের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, “নদী সংলগ্ন ওয়াকওয়ের পাশের মাটি সরানোর জন্য কিছু ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই ওয়ার্ক অর্ডারগুলো বাতিল করা হয়েছে। সেই বাতিল হওয়া ওয়ার্ক অর্ডারের দোহাই দিয়ে কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ দিনরাত মাটি কাটছে।” ​বিআইডব্লিউটিএর ভেতরকার যোগসাজশ প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আমাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
​অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস: পলায়ন করল চক্র
দৈনিক পাঞ্জেরীতে সংবাদ প্রকাশের পর বিআইডব্লিউটিএ ও স্থানীয় নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে একটি ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানের ফলাফল নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের খবর আগেই অসাধু চক্রের কানে পৌঁছে যায়। ফলে প্রশাসনের টিম পৌঁছানোর আগেই চক্রের মূল হোতারা সব সরঞ্জাম নিয়ে সটকে পড়ে। অভিযানে কাউকে খুঁজে না পাওয়াকে ‘সাজানো নাটক’ বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
​জনমতে ক্ষোভ ও প্রশাসনের দায়
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “কোটি টাকার সরকারি সম্পদ চুরি হচ্ছে সবার চোখের সামনে। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালানো হয়, কিন্তু যারা মূল পাণ্ডা এবং যারা অফিসের ভেতরে বসে টাকা খাচ্ছে, তারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।” ​তুরাগের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা এবং সরকারি স্থাপনা বাঁচাতে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।