ঢাকাThursday , 5 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আশুলিয়ার তুরাগ নদীতে রাতের আধারে মাটি কাটার হিড়িক, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি

Link Copied!

ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় তুরাগ নদীকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতের অন্ধকারে একটি প্রভাবশালী চক্র নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে মাটি কেটে ট্রাক ও ডাম্পারের মাধ্যমে বিক্রি করছে। শুধু নদীর তীর থেকেই নয়, অনেক ক্ষেত্রে এলাকার কৃষকদের ফসলি জমিও রাতের আধারে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

‎ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন সকাল হলেই গ্রামের মানুষ দেখতে পাচ্ছে তাদের জমির অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে করে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকেই বলছেন, রাতের অন্ধকারে ট্রাক ও মাটি কাটার যন্ত্রের শব্দ শোনা গেলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

‎জানা যায়, আশুলিয়ার তুরাগ নদী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর অধীনস্থ। এই নদী ও এর তীরবর্তী এলাকায় কোনো ধরনের খনন বা মাটি উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও বৈধ ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে যে মাটি উত্তোলন চলছে তা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।

‎এদিকে বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, নদী উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য আগে অ্যাফ এ শুভ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে আবেদন করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স সনদ ও ভ্যাট নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিল এবং প্রাথমিকভাবে কাজের জন্য অনুমোদনও পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল—
‎হাউস: ০৫, রোড: ১২, সেক্টর: ০৬, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।

‎তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণে এবং কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ওই চুক্তি বা অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে তুরাগ নদীতে কোনো ধরনের কাজ পরিচালনার বৈধ অনুমতি নেই।

‎কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, চুক্তি বাতিল হওয়ার পরও রাতের আধারে নদী ও আশপাশের এলাকা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে নদী থেকে মাটি কাটলে নদীর তীর ভেঙে পড়া, নৌপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং আশপাশের জমির স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

‎এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দাবি করেছেন, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তুরাগ নদী ও আশপাশের ফসলি জমি রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎স্থানীয়দের মতে, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে তুরাগ নদীর পরিবেশ ও আশপাশের কৃষিজমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।