ঢাকাSunday , 15 February 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হাতিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ নির্বাচনি প্রতিশোধ নাকি রাজনৈতিক প্রচারণা?

Link Copied!

নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি—নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে তার ওপর হামলা ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত, প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ফলে ঘটনাটি এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মারধরের অভিযোগ নিয়ে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আসেন নলেরচর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা তিন সন্তানের জননী (৩২)। প্রথমে তিনি মারধরের কথা উল্লেখ করলেও পরে চিকিৎসকদের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন।

হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে মারধরের অভিযোগ ছিল; পরে যৌন নির্যাতনের কথা জানালে তাকে গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। তিনি দাবি করেন, ‘কালা এমরান’ ও অজ্ঞাতনামা একজন দরজায় পাহারায় ছিলেন এবং ‘রহমান’ নামে এক ব্যক্তি তাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াই ছিল হামলার মূল কারণ।

ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পরদিন সকালে ৫০ থেকে ১০০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং তাকে টেনে বের করে মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। ‘শাপলা কলিতে ভোট দেওয়া’ নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। প্রথমে সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে বিষয়টি গোপন রাখলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা নিতে এসে ঘটনাটি প্রকাশ করেন বলে জানান তিনি।

তবে একই এলাকার কয়েকজন প্রতিবেশী জানিয়েছেন, তারা এমন কোনো ঘটনার শব্দ বা নড়াচড়া টের পাননি। অভিযুক্তদের বাড়িতে ঢুকতে দেখেননি বলেও দাবি তাদের। ভুক্তভোগীর অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযুক্ত রহমান ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তাকে একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার জন্য অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল; তা প্রত্যাখ্যান করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, হাতিয়ায় একাধিক ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে এবং প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি দ্রুত সেনাবাহিনী মোতায়েন ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলা উদ্দুর বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন; রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই ঘটনাটি প্রচার করা হচ্ছে।

হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নুরুল আনোয়ার জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। তার ভাষায়, এটি অতিরঞ্জিত প্রচারণা হতে পারে; তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ, মেডিকেল রিপোর্ট, সাক্ষ্য ও ঘটনার সময়কার তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এখন সবার নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে—কারণ প্রমাণই বলবে, এটি নির্বাচনি প্রতিশোধের ঘটনা, নাকি রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত এক প্রচারণা।