জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বোড়াই গ্রামের রত্নাহার পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক্টর ব্যবহার করে পুকুর থেকে মাটি কেটে পরিবহন করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পুকুরে ভেকু বা এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা, পুকুরের স্বাভাবিক গভীরতা পরিবর্তন এবং সেই মাটি বিক্রি করা স্পষ্টতই দণ্ডনীয় অপরাধ। পুকুর, খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ আইন, ২০০০–এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া পুকুর, খাল, বিল বা জলাশয়ের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট করতে কিংবা এর গভীরতা ও চরিত্র পরিবর্তন করতে পারবে না। একই আইনের ৫ ধারায় অনুমতি ছাড়া মাটি কাটা বা জলাধার ভরাট করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫–এর ৬ ধারায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে পুকুর খনন করে মাটি উত্তোলন ও বিক্রিও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এসব আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রত্নাহার পুকুরের মাটি কেটে বিক্রির ‘মহোৎসব’ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, ট্রাক্টর দিয়ে অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের ফলে একদিকে রাস্তায় মাটি পড়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে ধুলাবালির কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে কালাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখার রহমান বলেন, “ইতোপূর্বে ঘটনাস্থলে একবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আজও সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের গাড়ি দেখেই দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।” স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধ মাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

