ঢাকাThursday , 22 January 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমাধানের উদ্যোগ নেই
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার কাম মাসেঞ্জাররা ৩৬ বছর ধরে বৈষম্যের শিকার

Link Copied!

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মিটার রিডার কাম মাসেঞ্জাররা (এমআরসিএম) দীর্ঘ ৩৬ বছর এর বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। এ পদে ১৫ হাজারের বেশি কর্মচারি তাদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসন, চাকরি নিয়মিতকরণ এবং আন্দোলনের কারণে চাকরিচ্যুত ১৬ জন কর্মীকে পুনর্বহালের দাবিতে বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের পরেও এ বৈষম্যের অবসান না ঘটায় তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মিটার রিডার কাম মাসেঞ্জাররা (এমআরসিএম) ইতিমধ্যে এ সমস্যার সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করলেও এখনো পর্যন্ত প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেননি। ভূক্তভোগী এমআরসিএম কর্মরত কর্মচারিরা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত মে মাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৬ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে উচ্চপদস্থ দুটি কমিটি গঠন করা হয়। এর একটি কমিটিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিতকরণ এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের বিষয় খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু, কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্টদের সাথে কোনো আলোচনা না করেই শুধুমাত্র বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (ব্রেব)-এর সঙ্গে আলোচনা করে একপাক্ষিক প্রতিবেদন দেয়। এর ভিত্তিতে গত ৭ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্তে ‘লাইন শ্রমিক (কাজ নাই মজুরি নাই)’ পদের চাকরি নিয়মিতকরণের সুপারিশ করা হলেও মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জারদের চাকরি নিয়মিতকরণের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে কমিটির প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন ঘটেনি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত বিলিং সহকারী, লাইন ক্রু ও অন্যান্য পদ নিয়মিত করা হলেও শুধু এমআরসিএমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এদিকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিযোগে বিভিন্ন সমিতি থেকে ১৬ জন চুক্তিভিত্তিক এমআরসিএমকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত এসব কর্মীর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করা হয়। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন, কেউ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষম। এমআরসিএম নেতারা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সূচনালগ্ন থেকেই মিটার রিডার ও ম্যাসেঞ্জার পদ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ম্যাসেঞ্জার পদটি নিয়মিত ছিল, পরবর্তীতে তা চুক্তিভিত্তিক করা হয় এবং বর্তমানে দুই পদ একত্রিত করে ‘মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার’ নামকরণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটির ওপর কাজ ছাড়া সমিতির প্রায় সব কার্যক্রমেই তারা অংশগ্রহণ করে থাকেন।
তাদের দাবি, একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর কিংবা সারাজীবন চুক্তিভিত্তিকভাবে কাজ করানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চাকরি নিয়মিতকরণে অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয়ও হবে না; বর্তমান বেতন কাঠামোর মধ্যেই এটি সম্ভব। মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জাররা বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কমিটির প্রতিবেদন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুত কর্মীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার বৈষম্য দূরীকরণের যে অঙ্গীকার করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এমআরসিএমদের দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত মানবিক বিবেচনায় নিষ্পত্তি করা হবে।