জয়পুরহাটে প্রান্তিক কৃষকদের গবাদিপশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে আধুনিক ভেটেরিনারি সেবা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গরুর গোবর পরীক্ষার মাধ্যমে পশুর রোগ শনাক্তে চালু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ল্যাব। গ্রামীণ জীবনে গবাদিপশু শুধু সম্পদ নয়, অনেক পরিবারের একমাত্র জীবিকার ভরসা। কিন্তু পশু অসুস্থ হলে প্রান্তিক কৃষকদের বড় দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় কোথায় যাবেন, কীভাবে চিকিৎসা পাবেন। সেই সংকট লাঘব করতেই মাঠপর্যায়ে এই ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ল্যাব সেবা চালু করা হয়েছে। জাকস ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় কৃষকের বাড়িতে গিয়েই গরুর গোবর সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে কৃমি সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি ও হজমজনিত নানা সমস্যা। পাশাপাশি পশুর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, ওষুধ প্রয়োগ এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাসান আলী (পাঁচবিবি, জয়পুরহাট) বলেন, গোবর পরীক্ষার মাধ্যমে আগেভাগেই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে গবাদিপশুর উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জাকস ফাউন্ডেশন। প্রকল্প পরিচালক ডা. জহুর আলী জানান, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সাশ্রয়ী ও সহজ ভেটেরিনারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রান্তিক কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাকস ফাউন্ডেশনের এই ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি ল্যাব ইতোমধ্যেই কৃষকদের আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই উদ্যোগ প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই উন্নয়নের পথ দেখাবে।

