ঢাকাMonday , 19 January 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরিষাবাড়ীতে রাস্তা ও জনমানবহীন চরে কোটি টাকার ব্রিজ নিমার্ণ : ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

Link Copied!

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে রাস্তা ও জনমানবহীন চরে নিমার্ণ করা হয়েছে কোটি টাকার ব্রিজ। রাস্তা না থাকায় কাজে আসছে না চরাঞ্চলের মানুষদের। এমন দৃশ্য দেখা যায় উপজেলার আওনা ইউনিয়নের ঘুইষ্ণার চরে। গার্ডার ব্রিজ নিমার্ণ প্রকল্পে গাফিলতির অভিযোগে এক বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পরে আছে নিমার্ন সামগ্রী, মরিচা ধরছে রড গুলোতে। বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শুরু হলেও বাস্তব অগ্রগতির ঘাটতি, সংযোগ সড়ক না থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় জনমনে উঠেছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, যাতায়াতের কোন সড়ক না থাকায় এই চরাঞ্চলের কুলপাল, কাজল গ্রাম, কুমারপাড়া, বারিকান্দি পার্শ্ববর্তী কাজীপুর উপজেলার পানিবাড়ী, ৬নং চর ও লক্ষীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষদের চলাচলে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষকে নৌকাযোগে চলাচল করতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্য সেবা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে “গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প”-এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ব্রিজ নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আওনা ইউনিয়নের আওনা-ঘুইষ্ণার চর এলাকার যমুনা নদীর শাখা অংশের জন্য ২ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ১১৪ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুইটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এবিএম ফয়সাল কনস্ট্রাকশন’। বর্তমানে একটি ব্রিজের কাজ শেষ হলেও অন্যটির নির্মাণ কাজ চলমান অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে। এ চরাঞ্চলে যাতায়াতের কোনো রাস্তা না থাকলেও সেখানে কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হচ্ছে দুইটি গার্ডার ব্রিজ, যা কোনো কাজেই আসছে না এই এলাকার জনসাধারণের। এভাবে সরকারি অর্থ অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকল্পের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান এলাকাবাসী। চরাঞ্চলের বাসিন্দা বৃদ্ধ খবির উদ্দিন, আমেনা বেওয়া, শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম, মনা, আখিসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বর্ষার সময় এই পুরো এলাকা পানিতে ডুবে থাকে, তখন নৌকা ছাড়া কোথাও চলাচল করা যায় না, ব্রিজের আগে এই চরাঞ্চলে চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মাণ করা জরুরি। যেখানে রাস্তাই নাই সেখানে ব্রিজ দিয়ে কি হবে। আমাদের এই ব্রিজ পর্যন্ত আসতে আরও দুইটি নদী নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। যেখানে আগে ব্রিজ প্রয়োজন ছিল, সেখানে না করে জনমানবহীন স্থানে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।অপরদিকে ঘুইষ্ণাচর গুচ্ছ গ্রাম (আশ্রয়ন প্রকল্প) জন্য নির্মাণাধীন অন্য গার্ডার ব্রিজটির ছাদে রড বাঁধা অবস্থায় ১ বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে রয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ে নেই কোনো অগ্রগতি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী। রডে মরিচা ধরছে, যা নির্মাণমান ও স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে মেসার্স এবিএম ফয়সাল কন্সট্রাকশনের ঠিকাদার মো. মকবুল হোসেন বলেন, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় নির্মান সামগ্রী পরিবহনে খুবই কষ্টকর ও ব্যায়বহুল। তবে ব্রিজের কাজ অতি দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল বলেন, এটা ২০২২-২৩ অর্থ বছরের কাজ। তৎকালিন কর্মকর্তা পরিদর্শন পূর্বক স্থান নির্ধারণ করেন। বর্তমানে সেই কাজটিই চলমান রয়েছে। এছাড়াও ইতিমধ্যে একটি ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক নিমার্ণ করার কাজ শুরু হয়েছে। অন্যটিতেও সড়কের কাজ শুরু করা হবে।