পঞ্চগড় জেলার প্রবেশপথে অবস্থিত পঞ্চগড় ট্রাক টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে চরম জায়গা সংকটে ভুগছে। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক সড়কের ওপর পার্কিং করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা। এতে করে ওই এলাকায় লেগেই থাকছে যানজট, বাড়ছে পথচারীদের ভোগান্তি এবং প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা।
পঞ্চগড় জেলা দেশের চতুর্থ বৃহৎ স্থলবন্দর হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ট্রাক টার্মিনালের পরিসর বাড়ানো হয়নি। ফলে প্রতিদিন পাথর, বালি ও অন্যান্য পণ্য আনা–নেওয়ায় ব্যবহৃত বিপুল সংখ্যক ট্রাক টার্মিনালে জায়গা না পেয়ে সড়কের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে। এতে করে পুরো শহরের প্রবেশপথে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাক শ্রমিকদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বহুবার আলোচনা করা হয়েছে। বারবার আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাজ শুরু তো দূরের কথা, কোনো কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। পঞ্চগড় জেলা ট্রাক, মিনি ট্রাকসহ ট্রাক্টর, ট্যাংকলড়ী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃনং রাজ২০০০ সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জসিদুল ইসলাম জসিম বলেন, “শহরবাসীর ভোগান্তি কমাতে অনেক সময় আমি নিজেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাক পার্কিংয়ের দায়িত্ব নিই। কিন্তু জায়গা পর্যাপ্ত না থাকায় আমিও অসহায় হয়ে পড়ি। এত ছোট ট্রাক টার্মিনাল অন্য কোনো জেলায় নেই।” তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড় জেলার প্রধান ব্যবসা পাথর ও বালি নির্ভর। এই ব্যবসার ওপরই ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান জড়িত। কিন্তু টার্মিনালের সীমাবদ্ধতার কারণে সবাই চরম দুর্ভোগে আছেন। এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা ট্রাক, মিনি ট্রাকসহ ট্রাক্টর, ট্যাংক লড়ী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃনংরাজ ২০০০ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে যাতে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নিজেদের অর্থায়নে একটি জায়গা ভাড়া নিয়েছি। সেখানে অল্পসংখ্যক ট্রাক রাখা হচ্ছে। কিন্তু এতে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আরও বড় ও স্থায়ী জায়গা প্রয়োজন।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি সরকার দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে, তাহলে দাবি আদায়ের জন্য কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পঞ্চগড়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ট্রাক টার্মিনাল সম্প্রসারণ অথবা বিকল্প স্থানে আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পঞ্চগড় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণয় চন্দ্র দে বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আবেদন করা হয়েছে পৌর সভার দিক থেকে কিন্তু কোনো প্রকার সারা পাইনি।

