ঢাকাTuesday , 13 January 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আঃ রহিম অর্কের জালিয়াতির অন্ধকার সাম্রাজ্য
জাল স্বাক্ষর, কর ফাঁকি, হুন্ডি ও শতকোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

Link Copied!

ক্ষমতার রঙ বদলালেও আঃ রহিম অর্কের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ধকার ঘনীভূত হচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর প্রতারণা ও অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক আজ আলোচনার কেন্দ্রে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিমের ভাই নওশের বাদশা শামীমের ব্যবসায়িক পার্টনার এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত আঃ রহিম অর্কের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অর্ক গড়ে তোলেন একটি সংগঠিত অপরাধ সাম্রাজ্য। ক্ষমতার পালাবদলের পর কখনো বিএনপি, কখনো এনসিপির পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করলেও অভিযোগ রয়েছে গোপনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্বার্থে অর্থ জোগান দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
কর ফাঁকি ও জালিয়াতির ভয়াবহ হিসাব
অর্কের মালিকানাধীন উইন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রাঃ লিঃ–এর ম্যানেজার (অর্থ) সায়েম উল্লাহর দেওয়া তথ্য ও সরকারি নথি বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে ভয়ংকর চিত্র। প্রকৃত বিক্রয় গোপন করে পরিকল্পিতভাবে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী—
ভ্যাট ফাঁকি: ৭২ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার ৪০ টাকা
আয়কর ফাঁকি: ১২ কোটি ১৪ লাখ ১ হাজার ২২৫ টাকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিমাণ কর ফাঁকি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয় এটি সুসংগঠিত আর্থিক অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ।
ব্যাংক জালিয়াতি ও ঋণ কেলেঙ্কারি
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাউথইস্ট ব্যাংক, বনানী শাখার কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে স্বাক্ষর জাল করে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা নং ৩৩৮/২৩ বর্তমানে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন যা ব্যাংকিং খাতের ভেতরের দুর্নীতির দিকটিও উন্মোচন করেছে।
৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুন্ডি পাচার
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো কোম্পানির নামে থাকা ৬টি ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং বাকি অংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ না করে কৌশলে কোম্পানির সব শেয়ার এককভাবে নিজের নামে নেওয়ার ঘটনাও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীর সর্বনাশ
এই প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষও। রাজধানীর কানিজ ফাতেমা আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। টাকা ফেরত চাইলে তাকে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
কানিজ ফাতেমা বলেন, “ক্ষমতার অপব্যবহার করে আঃ রহিম অর্ক আমাকে শুধু আর্থিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও ভেঙে দিয়েছে। ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।”
শেয়ারবাজার ও বেনামি সম্পদের অভিযোগ
সায়েম উল্লাহর তথ্য অনুযায়ী, অর্ক তার স্ত্রী সানজিদা বেগমের নামে Ace Capital Management Service Ltd–এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এ অর্থ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হলেও এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় মামলা নং ৩৩৭/২৩ বর্তমানে সিআইডিতে তদন্তাধীন। পাশাপাশি পূর্বাচলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অর্ক দম্পতির নামে বেনামি প্লট ও ফ্ল্যাট থাকার অভিযোগ উঠেছে।
আইনি অবস্থান ও উদ্বেগ
মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬, ৪৬৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আর্থিক অপরাধের দৃষ্টান্ত।
জনস্বার্থে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল চৌধুরী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বিস্তারিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। যদিও তদন্ত চলমান, অভিযোগ রয়েছে বিপুল অংকের অর্থের প্রভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
প্রশ্ন এখন একটাই
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই প্রতারণা চক্রে বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—আইনের চোখ কি এবার সত্যিই সমান হবে?
স্থানীয়দের মতে, এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক রায় হলে শুধু আঃ রহিম অর্ক নয়, পুরো প্রতারণা নেটওয়ার্কের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে, আর সমাজ পাবে ন্যায়বিচারের স্পষ্ট বার্তা।