ঢাকাSaturday , 3 January 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এলজিআরডি সচিবের আশকারায় বেপরোয়া প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া

Link Copied!

দেখার যেন কেউ নেই। এলজিআরডি সচিবের আশকারায় বেপরোয়া ঢাকা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া। স্থানীয় সরকার বিভাগ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত। দুর্নীতির বরপুত্র ইতিমধ্যে চলে গেছেন। কিন্তু থেকে গেছে তার পরীক্ষিত দোসর। তিনি কত শত কোটি টাকার মালিক, হিসাব কষলে যে কারো চোখ কপালে উঠবে। তিনি আর কেউ নন-স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। দুর্নীতি দমন কমিশন যদি শতভাগ স্বাধীন হতো, তাহলে জনাব জাহেদীরা এতদিন চৌদ্দ শিকের ভেতরে থাকতেন বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের অভিমত। কিন্তু বিধি বাম। ফলে তিনি বহালতবিয়তে। আর বহালতবিয়তে থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটিকে জনপ্রত্যাশা পূরণের বদলে দুর্নীতির মচ্চবে পরিণত করেছেন।
জনমনে প্রশ্ন, যে মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার এপিএস সাড়ে চারশত কোটি টাকার মালিক, সে মন্ত্রণালয়ে কর্তাব্যক্তিরা কত শত কোটি টাকার মালিক, তা বুঝতে কারো জজ-ব্যারিস্টার হওয়ার দরকার নেই। ফলে বিষয়টি বিশেষ করে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশব্যাপী সার্বিক কার্যক্রমের খরচের একটি স্বেতপত্র এবং এ নিয়ে দুর্নীতিবাজদের তালিকা জনস্বার্থে প্রকাশ করা জরুরি। এটা হলে অন্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হ্রাস পাবে। আর না হলে অন্যরা দুর্নীতিতে গা-ভাসালে দেশের সমূহ ক্ষতি হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রেজাউল মাকছুদ জাহেদী চেয়ে চেয়ে, দেখে দেখে তার নিজের লোক বসিয়েছেন। এর বিনিময়ে তিনি নেন নাকি মোটা অঙ্কের অর্থ। তাদের মাধ্যমে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা ধরনের বাণিজ্য। তিনি নিজেকে কখনো বিএনপি, কখনো জামায়াত ও আবার কখনো হেফাজতের লোক হিসেবে পরিচয় দেন। যখন যেটা দরকার তখন সেটা ব্যবহার করেন। তিনি মাঝেমধ্যে মন্ত্রণালয়ে হেফাজত ও জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ মিটিং করেন। এর মাধ্যমে তিনি তার শক্তির উৎস্য জানান দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশ থেকে যত দুর্নীতির ফাইল রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর টেবিলে আসে, তিনি সেগুলো সযত্নে বগলদাবা করে ফায়দা লুটেন। এভাবে দুর্নীতিকে লালন তার অভ্যাসে পরিণত। আর চিহ্নিত দুর্নীতিবাজরা এভাবে আশকারা পেয়ে পেয়ে বেপরোয়া। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হওয়া উপক্রম। মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়টি ওপেন সিক্রেক্ট। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা পরাতে যত সমস্যা।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতির মহাজননী শেখ হাসিনা পালানোর পর স্থানীয় সরকার বিভাগে রেজাউল মাকছুদ জাহেদী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এতেই খুলে যায় তার ভাগ্যের চাকা। এই মন্ত্রণালয়ে তিন যোগদানের পর যত দুর্নীতি হয়েছে, তা কল্পনাতীত। এর মধ্যে কমিশন বাণিজ্য অন্যতম। এই মন্ত্রণালয়ের দুুর্নীতির স্বেতপত্র করলে যার অনেকটা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নিয়ে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি হওয়া জরুরি বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট অভিমত।

নিজের সহকর্মীদের রেজাউল মাকছুদ জাহেদী নাকি দম্ভ করে বলেন, গণমাধ্যম লেখালেখি করে তার নাকি কিছুই করতে পারবে না। কারণ তার শেকড় অনেক গভীরে। তার কাছে নাকি অনেক ট্রাম্প কার্ড আছে। যেগুলো সময়মতো ব্যবহার করবেন। ফলে তাকে এখান থেকে সরানো কঠিন। তিনি সহকর্মীদের আরো বলেন, যত লেখালেখি হোক না কেন, চাকরি জীবনের শেষ ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত তাকে কেউ এই মন্ত্রণালয় থেকে সরাতে পারবে না। তবে সংস্থাপন সচিব করা হলে আলাদা কথা।

সব ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিয়ম ও বিধি মোতাবেক একটি মন্ত্রণালয় চলবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। যে কারণে সারাদেশ থেকে আসা অধঃস্তনদের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ফাইল সচিবের টেবিলে এলে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে যায়। এভাবে একের পর এক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একধরনের অরাজকতা বিরাজ করছে। কেউ কাউকে মানতে চায় না। বিশেষ করে দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিতরা। যে কারণে পাহাড়সম অপরাধীদের বিরুদ্ধে এখন আর কেউ অ্যাকশন নিতে চান না। এভাবে একটি বিধিবদ্ধ শৃঙ্খলিত প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কিনারে চলে যাচ্ছে।

সচিবের টেবিলে লাল ফিতায় বন্দি একটি ফাইলের উদাহরণ না দিলেই নয়। এটি হলো ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ দৈনিক পাঞ্জেরীতে ‘নিশ্চুপ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়, এলজিইডির শীর্ষ দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী বাচ্চুর বদলির ফাইল লাল ফিতায় বন্দী’ শিরোনামে প্রকাশিত লিড নিউজের পরও কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক নীরব। ফাইলটি এখনও ফাইল বন্দী।
জনস্বার্থে সংবাদটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ঢাকা জেলা এলজিইডিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিয়ে নানা গুঞ্জন। সরকারি অর্থ ব্যয় করে কি কারণে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে জনমনে নানা প্রশ্ন। এই নিরাপত্তার আড়ালে ভয়াবহ দুর্নীতির সংবাদও ভেসে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন মহলে। যিনি এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ। ইতিমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক সুনির্দিষ্ট কারণে মামলাও দায়ের করেছে। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হলেও তার আচরণ একজন রাজনৈতিক প্রথম শ্রেণীর নেতার মতোই। এলজিইডিতে তিনি একজন মূর্তমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন। এই বহুল আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া। তিনি ঢাকা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী। ৫ আগস্টের পর ঢাকা জেলা এলজিইডির পদ বাগিয়ে নিতে নানা কৌশল প্রয়োগ করেন। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে ছাত্রদলের ভুয়া নেতার পরিচয় সামনে এনে জোর তদবির শুরু করেন। এলজিইডি ঢাকা জেলার দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী, দুদকের আসামী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতেই পারছে না মন্ত্রণালয়। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া অত্যন্ত ধুরন্ধর, ধূর্ত, ধান্ধাবাজ, দুর্নীতিবাজ, স্বেচ্ছাচারি, অসৎ আচরণপ্রদর্শকারী। তিনি ৫ আগস্টের বিএনপির রাজনীতিকে পুজিঁ করেন ঢাকা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন। সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তৎকালিন উপদেষ্টা এবং তার এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে ম্যানেজ করেই বাচ্চু মিয়া ঢাকা জেলার এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর পদটি জোর করে বাগাতে সক্ষম হন। যা ছিল ঐ সময় ব্যাপক আলোচিত। নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে বসেই আরেক দুর্নীতিবাজ সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী সাবের আলীকে তার কাছে নিয়ে আসেন। চোরে চোরে মাসতুতু ভাই এই প্রবাদ বাক্যকেও যেন হার মানান দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া। বাচ্চু আর সাবের মিলে এলজিইডিতে গড়ে তুলেন এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট। স্বেচ্ছাচারিতার শীর্ষে অবস্থান নেন তারা। তারা মনে করেন তাদের পথ রোধ করার সক্ষমতা কারো নেই। যা মন চায় তাই শুরু করেন গুরু শীষ্য মিলে। ঢাকা জেলার এলজিইডির উন্নয়ন কর্মকান্ডের অন্যতম স্টেক হোল্ডার ঠিকাদারগণ পড়ে যান বিপাকে। তিনি কোন ঠিকাদারকে পাত্তা দেন না। কারো সঙ্গে ভাল ব্যবহারটুকু পর্যন্ত করেন না বলে ভুক্তভোগী ঠিকাদারগণ জানিয়েছেন। কথায় কথায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের ভয় দেখান অধস্তনদের। প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন বলেন অভিযোগ রয়েছে। তার কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও থাকেন সর্বদা তটস্থ। বর্তমানে মূর্তমান এক আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন বাচ্চু মিয়া। বেপরোয়া আচরণের কারণে বাচ্চু মিয়ার কাছ থেকে নিজকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই। ইতোমধ্যে তিনি জন্ম দিয়েছেন নানা বিতর্কেরও। সম্প্রতি একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিককে মারধরের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। সূত্র জানায়, তার নির্দেশে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা ঐ সাংবাদিককে মারধরসহ ব্যাপকভাবে নাজেহাল করেন। এরই প্রেক্ষিতে কয়েকজন আনসার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও অদৃশ্য কারণে নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়া থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া। অন্যদিকে দুর্নীতির ভয়াবহ অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করলে আরও ব্যাপক আলোচনায় আসেন মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া । ক্ষমতার অপব্যবহার, লুটপাট, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, দুদকের আসামী এত কিছুর পরই বাচ্চু মিয়া রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অদৃশ্য শক্তির কারণে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এদিকে একটি সূত্র জানায়, মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া ছাত্র জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে কোনভাবেই জড়িত ছিলেন না। তিনি গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে অধ্যায়নকালীন সময়ে ছাত্র সমাজের একজন কর্মী ছিলেন। মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া যখন ডুয়েটে অধ্যায়নরত তখনকার সময়ে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ দৈনিক পাঞ্জেরীকে নিশ্চিত করেন মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া কোন দিন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। উপরন্তু তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নানাভাবে নাজেহাল করতেন। কারণ তিনি গাজীপুরের টঙ্গী থানার আরিচপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। এই সুবাদে গাজীপুরের বাইরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি প্রভাব খাটাতেন বলে ঐ সময়কার তার সহপাঠীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরিচপুরের স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার পরিবার কোন দিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এক সময় তারা জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তারা। মূলত বাচ্চু মিয়া একজন সুযোগ সন্ধানী ও ধান্ধাবাজ প্রকৌশলী। ছলে বলে কৌশলে তার কাজ উদ্ধারের ক্ষেত্রে নানা সময় রঙ পাল্টান। যেমনটি হয়েছে এলজিইডি ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ বাগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে। এলজিইডির তৎকালিন প্রকল্প পরিচালক মঞ্জুর আলীর শেল্টারে বিগত ৫ আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলজিইডিতে এক ধরনের ত্রাস সৃষ্টি করেন বাচ্চু মিয়া গং। সেই সুযোগে নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ বাগাতে সক্ষমও হন তিনি। তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে অনেকেই হতবাক, বিস্মিত। বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও খামখেয়ালীপনার সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হয় সে কারণে তিনি সাংবাদিকদের ভয় দেখান। গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দেন। অথচ তিনি নিজেই একজন স্বেচ্ছাচারি প্রকৌশলী। নিরাপত্তার নামে দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়ার সাঙ্গপাঙ্গরা এলজিইডি ঢাকা জেলায় রাষ্ট্রীয় বিপুল অর্থের অপচয় করে ৩ স্থরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এলজিইডি একটি সেবামূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতি মুহূর্তে সেবা প্রত্যাশীরা এখানে যাতায়াত করেন। সেখানে যাওয়ার পর সেবা প্রত্যাশীরা প্রবেশের ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। প্রশ্ন উঠেছে, এলজিইডিতে অন্যান্য প্রকৌশলী, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীদের কোন ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলেও বাচ্চু মিয়া তার নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি সাধন করে সবার চোখে ধুলো দিয়ে বেশ বহাল তবিয়তে রয়েছেন এবং দুর্নীতিকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সচেতনমহল বলছেন, বাচ্চু মিয়াকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। তার নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগে এলজিইডির অর্জিত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া গংদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় এলজিইডি পড়েছে মহাবিপাকে। যা এখন এলজিইডির গলার কাঁটাও। এ কারণে এলজিইডির বতর্মান প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা সকল ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকা জেলা থেকে প্রত্যাহারের জন্য এলজিআরডি সচিব বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না স্থানীয় সরকার বিভাগ। সূত্র জানায়, দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের উপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থও নিয়ে মাঠে নেমেছেন। যে কারণে তার প্রত্যাহারের ফাইলটি লাল ফিতায় বন্দি। এক কথায় বলায় যায় এলজিইডি মন্ত্রণালয় এখন অসহায়। পাহাড় সমান অভিযোগের পরও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী মুহাম্মদ বাচ্চু মিয়া কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন এ নিয়ে সচেতনমহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে। এ ব্যাপারে বাচ্চু মিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে তার মোবাইল ফোন কয়েকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।