প্রথম আলো-ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন মব ভায়োলেন্স, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মনে রাখা উচিত তারা কোনো নির্বাচিত সরকার না। বৈধ সরকার হয়তো। অনির্বাচিত সরকারের শাসন করার ক্ষমতা যোগ্যতা থাকে ততক্ষণ যখন তার নৈতিক বৈধতা থাকে।’
গত সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব আয়োজিত যৌথ প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার তার নৈতিক বৈধতা অনেক ক্ষেত্রেই হ্রাস করে ফেলেছে। এটা যদি তারা পুনঃস্থাপন করতে না পারে, তাহলে আগামী দিনে যে উত্তরণের প্রক্রিয়া, অভ্যুত্থানের যে আদর্শ সেটাও তারা রক্ষা করতে পারবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। এখনই সময় একত্রিত হওয়ার, পদক্ষেপ নেয়ার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।
সিপিডি’র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘এরকম সভার প্রয়োজন পড়বে আমরা কল্পনাও করিনি। গত দেড় মাস যাবৎ বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে গিয়েছি। দুটি কথা মানুষ বড়ভাবেই বলেছেন। একটি হলো নিরাপত্তার অভাব। নিরাপত্তার কথা আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। এই নিরাপত্তার অভাবটাকেও তারা বহুভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এটা নারীদের ক্ষেত্রে সত্য। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে সত্য, আদিবাসী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ভিন্ন মতাবলম্বীদের জন্য সত্য, সেইরকমভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্যও সত্য। এগুলো ওসমান হাদি শহীদ হওয়ার আগের ঘটনা আমি বলছি। দ্বিতীয়ত, পরিষ্কারভাবে তারা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থার অভাব। তার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিতে পারবে এই আস্থারও অভাব। এগুলো যখন বলেছে তখনও এই ঘটনাগুলো ঘটেনি। এই ঘটনাগুলো যে ঘটতে পারে তার সংকেত বিভিন্ন সময়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে শুধু একটি রাজনৈতিক নির্বাচনী আন্দোলন হচ্ছে না। বাংলাদেশে একটি সাংস্কৃতিক ও আদর্শগত আন্দোলনও হচ্ছে। এই দুটি বিষয় ক্রমান্বয়ে একত্রিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ও রাজনীতি এবং আদর্শ ও সংস্কৃতি এই দুটি বিষয় একত্রিত হচ্ছে। নাগরিক সমাজ এখন পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানানোর ক্ষেত্রে সেরকম উদ্যোগ দেখতে পাইনি। আজকের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে উৎসাহিত করবে। নাগরিক উদ্যোগ না থাকলে নীরব সংখ্যালঘুদের ওপর সংখ্যাগুরুরা রাজত্ব করবে। আমাদের সাহস দেখানোর এটিই সময়।’

