দেশব্যাপী বন বিভাগের আকাশচুম্বী সফলতা ম্লান করে দিচ্ছে কতিপয় চিহ্নিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশেই বেপরোয়া হওয়ায় কর্তৃপক্ষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিভিন্ন বন সার্কেলের গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনের লোভনীয় পোস্টিং বাগিয়ে নিতে এসব দুর্নীতিবাজ ও প্রভাবশালী কর্মচারীরা এহেন পন্থা নেই যে তারা প্রয়োগ করেন না। ছলে বলে কৌশলে তাদের লোভনীয় পদায়নে বাধ্য করা হয়। এ রকমই কয়েকজন বন কর্মচারীকে নিয়ে দৈনিক পাঞ্জেরীর আজকের প্রতিবেদন।
বন অধিদপ্তরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় সার্কেলের গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন টাঙ্গাইল। টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতায় ৯টি রেঞ্জ এবং ১টি চেক স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি রেঞ্জ রয়েছে। বাঁশতৈল রেঞ্জ, হতেয়া রেঞ্জ, ধলাপাড়া রেঞ্জ, বহেড়াতলী রেঞ্জ, সদর রেঞ্জ, মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জ, মধুপুর রেঞ্জ, দোখলা রেঞ্জ, অরণখোলা রেঞ্জ এবং করটিয়া চেক স্টেশন। উপরোক্ত রেঞ্জগুলোর মধ্যে অত্যন্ত লোভনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জ হচ্ছে বাঁশতৈল রেঞ্জ, হতেয়া রেঞ্জ এবং করটিয়া চেক স্টেশন। উক্ত লোভনীয় রেঞ্জ এবং চেক স্টেশনে পোস্টিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ রেওয়াজ অব্যাহত রয়েছে। আমাদের বিশেষ প্রতিনিধির কয়েক দিনের তথ্যানুসন্ধানে ঐসব রেঞ্জের নানা অনিয়ম ও লুটপাট সম্বলিত তথ্য আঁতকে ওঠার মতো। সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতাধীন হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রশীদ এবং বাঁশতৈল রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানের আর্থিক অনিয়ম, লুটপাট, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ফরেস্টার থেকে সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জার এসএম আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে রয়েছে ভয়াবহ অভিযোগ। ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে পোস্টিং নেওয়ার ক্ষেত্রে এসএম আব্দুর রশীদ শীর্ষে অবস্থান করছেন বলে অনেকেই মনে করেন। প্রশ্ন উঠেছে তার এহেন ক্ষমতার উৎস কোথায়? কোন অদৃশ্য শক্তির বলে তিনি বারবার পার পেয়ে যান।
কে এই আব্দুর রশীদ
আমাদের চট্রগ্রাম ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি রেঞ্জার এসএম আব্দুর রশীদ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে চট্রগাম উত্তর বন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ রাউজান ঢালা বিট কাম চেক স্টেশনে ১ বছরের স্থলে ৮ বছর দায়িত্ব পালনে এক ঘৃন্য নজীর স্থাপন করেন। সেই সময় রাউজানের ত্রাস আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর আর্শীবাদ পুষ্ট হয়ে তার ডিও লেটার নিয়ে তৎকালিন বন কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখানে ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। আর এই সুযোগে প্রচন্ড ধুরন্ধর, অর্থলোভী ও দুর্নীতিবাজ তৎকালিন ফরেস্টার এসএম আব্দুর রশীদ দুই হাতে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। কাউকে পাত্তাও দিতেন না এসএম আব্দুর রশীদ। তিনি সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীর ক্যাডার বাহিনীকে সংরক্ষিত বনের জমি দখল করার সুযোগ দিয়ে তার (এমপি) আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। আলোচিত সমালোচিত উক্ত ধান্ধাবাজ ডেপুটি রেঞ্জার এসএম আব্দুর রশীদ বিগত ২০২১ সালে কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে পোস্টিং নেন কেন্দ্রীয় বন সার্কেলে। এরপর তার লক্ষ্য পূরণে আবারও ফজলে করিম চৌধুরীর শরণাপন্ন হন। তৎকালিন কেন্দ্রীয় সার্কেলের বন সংরক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে পোস্টিং নেন টাঙ্গাইল বন বিভাগে। আর সেই থেকেই টাঙ্গাইল বন বিভাগে এক মূর্তমান আতঙ্কে পরিণত হন এসএম আব্দুর রশীদ। তার ক্ষমতার হাত বর্তমানে আরও বিস্তৃত। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে ফেলেছেন বলে তিনি দাবী করেন। কারো কারো আত্মীয়ও পরিচয় দেন। এসএম আব্দুর রশীদ বর্তমানে লোভনীয় রেঞ্জ হতেয়ায় কর্মরত থাকলেও তার লক্ষ্য এখন বাঁশতৈল রেঞ্জ। ইতোমধ্যে তিনি বাঁশতৈল রেঞ্জের সদর বিটে পোস্টিংও নিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে তিনি বাঁশতৈল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হওয়ার পথ সুগম করে ফেলেছেন। অন্যদিকে বাঁশতৈল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান ২ বছর ৮ মাস যাবত বাঁশতৈল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুবাধে অবৈধ পথে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সূত্র জানায়, উক্ত দুর্নীতিবাজ ডেপুটি রেঞ্জার শাহীনুর রহমান আলোচিত করটিয়া চেক স্টেশনে পোস্টিং নিতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। টাঙ্গাইল বন বিভাগের একটি সূত্র জানায়, শাহীনুর রহমান ইতোমধ্যে করটিয়া চেক স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তার পোস্টিং অনেকটাই নিশ্চিত করে রেখেছেন। সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল বন বিভাগে কর্মরত উপরোক্ত দুই শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ডেপুটি রেঞ্জার এসএম আব্দুর রশীদ এবং শাহীনুর রহমানের বাড়ী টাঙ্গাইল জেলায়। যে কারণে তার দাপটে অন্যরা থাকেন তটস্থ। অথচ বন বিভাগের বদলী নীতিমালানুযায়ী নিজ এলাকায় চাকরী করার কোন সুযোগ নেই। সূত্র আরও জানায়, এসএম আব্দুর রশীদের বাড়ী বাঁশতৈল এলাকায়। গতকাল রাতে এসএম আব্দুর রশীদের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে বাঁশতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। সচেতনমহল বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

