ঢাকাSunday , 7 December 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাজারে কারসাজির কথা স্বীকার করলেন কৃষি উপদেষ্টা 

Link Copied!

পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে জানান কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ফলে কৃষক এবং ভোক্তাদের ক্ষতি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম ৭০ টাকা হলে সবার জন্য ভালো। বাজারে দামের ক্ষেত্রে যোগসাজশ থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের চাকরি থাকবে না। গত রোববার সচিবালয়ে কৃষিবিষয়ক সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। কৃষি উপদেষ্টার বক্তব্য ও মন্তব্যে সচেতন জনগোষ্ঠী একদিক দিয়ে আশাবাদী অন্যদিক দিয়ে হতাশ। তাদের মতে, সঠিক নজরদারীর অভাবে কারসাজির সুযোগ পায় অসৎ ব্যবসায়ীরা।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে অসাধু চক্রের হাত রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে একটা চক্র আছে। এই চক্রকে খুঁজে বের করতে হবে। অনেকে আমদানির জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল। বাজারে পেঁয়াজ আছে, কিন্তু কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। এদিকে পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে রোববার থেকে থেকে সীমিত আকারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। শনিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগ সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাজারে পিঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই।

এতে বলা হয়, পেঁয়াজের বাজার সহনীয় রাখতে রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হবে। প্রতিদিন ৫০টি করে আইপি (আমদানি অনুমতি) ইস্যু করা হবে। প্রত্যেকটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজের অনুমোদন দেয়া হবে। পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পেঁয়াজের দাম ৭০ টাকা হলে সবার জন্য ভালো। বাজারে দামের ক্ষেত্রে যোগসাজশ থাকলে কৃষি কর্মকর্তাদের চাকরি থাকবে না। ব্যবসায়ীদের কারসাজি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখবে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, এ ব্যাপারে অসৎ ব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মুচন জরুরি।

নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ কর্মকর্তাদের রদবদলে লটারি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় এসপি ও ওসিদের বদলি করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কৃষি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণের বার্তা দেন তিনি। এ ছাড়া সবজির দাম এখন সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে কৃষি উপদেষ্টা যোগ করেন, সবজির দাম মোটামুটি সহনীয় আছে। দিন যাওয়ার সাথে সাথে আরও কমবে। তবে কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

উপদেষ্টার বক্তব্যে মনে হয় পেঁয়াজ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটা খুবই আশার কথা। খাদক ও কৃষকের সুফলের বিষয়টি উঠে এসেছে কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্যে। তার বক্তব্য ও মন্তব্য সময়োপযোগী। তার নির্দেশনা মতো দায়িত্বশীলরা সঠিক ভূমিকা পালন করলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদনকারী নিরীহ কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে, আর ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজসহ কৃষিপণ্য সহজেই কিনতে পারবেন।

নিয়মিত বাজার তদারকি করা হলে অসৎ ব্যবসায়ীরা কারসাজির সুযোগ পাবে না। মধ্যস্বত্বভোগীরা পাবে না অবৈধ সুযোগ। প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও ভোক্তা অধিদপ্তর সঠিকভাবে উৎপাদন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত মনিটরিং করলে মাঝখানে কেউ অবৈধভাবে সুবিধা নিতে পারে না। ঠকাতে পারে না কৃষককে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ক্রেতা সাধারণও। তাই অসৎ ব্যবসায়ীদের তদারকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষি উপদেষ্টার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে কৃষক ও ক্রেতা সাধারণের জন্য সুফল বয়ে আনবে।