ঢাকাThursday , 4 December 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতিতে নিমজ্জিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ডিজি

Link Copied!

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিকরণে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’। অথচ প্রতিষ্ঠানটি নিজের মান সমুন্নত রাখতে পারছে না। বরং লাগামহীন দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতায় প্রতিষ্ঠানটিতে বিরাজ করছে এক অরাজক অবস্থা। খোদ শীর্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বেই অপকর্ম চলায় এর বিরুদ্ধে কারো প্রতিবাদ করারও জো নেই।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ আর নথি পর্যালোচনায় মিলেছে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তাকে গত ফেব্রয়ারি/২৪ মাসের শেষার্ধে মহাপরিচালক হিসেবে প্রেষণে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি একই অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম আর স্বজনপ্রীতিতে রেকর্ড গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তিও দীর্ঘ।
সূত্র মতে, মহাপরিচালকের দুর্নীতি আয়ের অন্যতম উৎস হচ্ছে বদলি বাণিজ্য। এক্ষেত্রে অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজের কয়েকজন স্বজন সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মহাপরিচালকের নিকটাত্মীয় যেমনঃ ভাই, বোন, বোন জামাই, শাশুড়িসহ নিকট আত্মীয় স্বজন। এর বাইরে মহাপরিচালকের একান্ত ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত অফিস সহকারী মো. রায়হান উদ্দীন আরেকজন হোতা। এ চক্র বদলি নির্দেশিকার শর্ত না মেনেই ২০২৫ সালে অনলাইন বদলির পরই ১৫৬৮ জন শিক্ষককে অফলাইন বদলি করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে।মজার বিষয় হচ্ছে, অনলাইন বদলি চালু করার সময় উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের জানানো হলেও অফলাইন বদলির ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে অতি গোপনে। বিষয়টি শুধু নিকটজন ও তদবিরকারকগণ জানে। অন্যদিকে বদলি নির্দেশিকার ৩.৬ ধারা অনুযায়ী নিজ উপজেলার শিক্ষকদের শহরের শূন্য পদগুলোতে বদলির সুযোগ না দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্য উপজেলা হতে শিক্ষক বদলি করে পূরণ করছে। একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক বদলী/ডেপুটেশন দেওয়ার তথ্য মিলেছে। এমনকি নীতিমালা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনসমূহে বদলি করার বিধান না থাকলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বদলি করা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রেও কোনো বিধি-বিধান মানা হচ্ছে না। সেখানেও ব্যাপক বাণিজ্য চলছে। তিনি পূর্ববর্তী মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত এটিইও গণের বদলির আদেশ বাতিল করে বদলী বাণিজ্য মেতে ওঠেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নিজ জেলায় শূন্য পদ থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য জেলার দূরবর্তী (১৫০/২০০ কিঃমিঃ) উপজেলায় বদলি করে হয়রানি করছেন। তবে চাহিদামাফিক উৎকোচ দিতে সম্মত হলে আদেশ সংশোধন করে কাছাকাছি করে দিচ্ছেন। অর্থের বিনিময়ে আদেশ ২/৩ বার পর্যন্ত সংশোধন করারও নজির রয়েছে। স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামে চট্টগ্রাম মহানগরীর ২০ টি কাজের মধ্যে ৬টি কাজ কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে দিয়েছেন। চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, মহাপরিচালকের শশুর পিটিআই সুপার হওয়ায় প্রশিক্ষণ শাখায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছেন।সেখানে প্রশিক্ষণের নামে হরিলুট চলছে। একইভাবে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, ওরিয়েন্টেশন ও কর্মশালার নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা অহেতুক সম্মানী ও টিএ বিল হিসেবে উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। একই তারিখে একাধিক টিএ/ডিএ উত্তোলনের নজির রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে সে সময়ে তিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং বিশেষ তদবির করে মহাপরিচালক হয়েছেন। তিনি অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করছেন। অপরদিকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সমমনাদের হয়রানি করছেন।শবনম মুস্তারি, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,সদর পাবনা, দীর্ঘ সাত বছর ধরে কর্মরত। এ কর্মকর্তার ননদ আওয়ামী সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হওয়ায় এ সুবিধা নিয়েছেন। আওয়ামী সুবিধাভোগী এ কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে তিনি মহাপরিচালকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। মহাপরিচালক আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তার বদলী বাতিল করে পুনর্বহাল করেন। সুদর্শনা কর্মকর্তা তাবসিরা লিজা সাভার উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। তার সাথে মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠতার পুরস্কার স্বরূপ তিনি তাকে জাপান সফরে পাঠান। একাধিক সূত্রে জানা যায়, মহাপরিচালকের সাথে গণশিক্ষা উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠতা আরো বেশি বেপরোয়া করে তুলেছে। নিরপেক্ষ তদন্ত চালালে আরো ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সূত্রের দাবি। শিক্ষক ও সচেতন মহলে দাবি উঠেছে তিনি যেসব অবৈধ বদলী আদেশ ও অনিয়ম করেছেন তা বাতিল করে মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তারা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।