ঢাকাSunday , 30 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পত্রিকার প্রচার সংখ্যার নামে গাঁজাখুরি! 

Link Copied!

গণমানুষের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যম। যে গণমাধ্যম সৎ, সাহসী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে লালন করে। সে গণমাধ্যমে দিনের পর দিন নয়, বছরের পর বছর নয়-যুগ যুগ ধরে চলে আসছে শুভঙ্করের ফাঁকি। যার অবসান হওয়া জরুরি। সংবাদপত্রের মালিক পক্ষ দায়বদ্ধতার কারণে কত কপি ছাপেন, তার প্রচার সংখ্যার একটা হিসাব দেন ডিএফপিতে। নিয়মিত করান অডিট কিন্তু এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চলে আসছে হিসাবের নামে নৈরাজ্য। একশ্রেণির সম্পাদক ও প্রকাশক যে পরিমাণ পত্রিকা ছাপেন, হিসাবে দেখানো হয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে! অভিজ্ঞরা এটাকে গাঁজাখুরি গল্প বলেন। যারা শত নয়, হাজার নয়-মাঝে মধ্যে ছাপেন মাত্র কয়েক ডজন, তাদের সার্কুলেশনের অডিট রিপোর্ট অবাক করবে যে কাউকে। অথচ এই অপকর্ম চলে আসছে। কিন্তু আর কত? আশঙ্কার ব্যাপার হলো, অডিটের নামে একটি মহলকে যত বেশি টাকা দেওয়া হয়, বিজ্ঞাপনের রেট নাকি নাকি তরতর করে ততই বেড়ে যায়। এভাবে ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে পত্রিকার সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অবাধ বিজ্ঞাপন বাণিজ্য করে আসছে একটি সুবিধাবাদী মহল। স্বচ্ছতার স্বার্থে যার অবসান হওয়া জরুরি। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় অনেক দৈনিক আছে, যেগুলো নিয়মিত ছাপা হয় না। কেবল কালেভদ্রে বিজ্ঞাপন পেলে কেউ কেউ ছাপেন। সরেজমিন ছাপাখানায় খোঁজ নিলে অথবা অফিসে ফাইল খুঁজলে যার সত্যতা মিলবে। অথচ কমিশনের বিনিময়ে তারা ক্রোড়পত্রও পান। এ নিয়ে তারা রাজার হালে আছেন। জায়গা মতো কিছু অর্থ ধরিয়ে দিয়ে একচাটিয়া বিজ্ঞাপন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ফাঁকিবাজ একটি শ্রেণি। পত্রিকা নিয়মিত কত সংখ্যা প্রকাশ করে মূলত প্রতিবছরের অডিট রিপোর্টের উপর নির্ভর করে সার্কুলেশন অনুযায়ী বিজ্ঞাপনের রেট বাড়ে। যে কারণে একশ্রেণির দৈনিকের মালিকপক্ষ পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছানের বদলে বিজ্ঞাপন ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করেছেন। ছাপাখানায় খবর নিলে যাদের শুভঙ্করের ফাঁকির চিত্র সহজেই সামনে চলে আসবে। গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৈনিক পত্রিকাগুলোর চলমান এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করা জরুরি। যারা অন্যের তথ্য ও খুঁত যত্নসহ তুলে ধরেন, তাদের মধ্যে খুঁত থাকা কোনোমতেই শোভন নয়। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরার বলে যারা কেবল বিজ্ঞাপন ব্যবসায় ব্যস্ত, তাদের এমন প্রতারণা আর কতকাল অবাধে চলবে! এদের লাগাম ধরা দরকার। স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী সম্পাদক-প্রকাশকসহ অভিজ্ঞ মহলের মতে, পত্রিকার সঠিক প্রচার সংখ্যা নিরূপণ করে বিজ্ঞাপনের রেট পুনঃ নির্ধারণ করা সময়ের দাবি।