ঢাকাSaturday , 29 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধরাছোঁয়ার বাইরে পাউবোর দুর্নীতির বরপুত্র প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান

Link Copied!

মো. হাসানুজ্জামান দ্বীপ জেলা ভোলা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। এর আগে তিনি ছিলেন একই জেলার পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী। শুরু থেকেই তিনি এখানে বেশ আছেন। ফ্যাসিবাদের পতনের পরও আছেন বহালতবিয়তে। কারান্তরীণ সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে অবাধে করেছেন যত অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য ও জাল-জালিয়াতি। এখনো যা অব্যাহত। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির এন্থার অভিযোগ এসেছে দৈনিক পাঞ্জেরী কার্যালয়ে।
অভিযোগে প্রকাশ, মোঃ হাসানুজ্জামান বাড়তি পাওনা ছাড়া কোনো কাজ করেন না। তাকে খুশি না করালে ফাইল নড়ে না। তার মনোরঞ্জন ছাড়া অফিসের কোনো কাজই হয় না। তার কাছে বিধি ও নিয়মের কোনো বালাই নেই। তার কথাই নাকি এখানের আইন। তার ইচ্ছাই এখানে সব। সবাই যেন তার জমিদারীর নিম্নমানের প্রজা। তার আগ্রাসী আচরণ ও ব্যবহারে অতিষ্ঠ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে কাজ নিয়ে আসা ঠিকাদাররা।
ফ্যাসিবারে পতন হলেও মোঃ হাসানুজ্জামানের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি। বরং তিনি আগের মতোই ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, পানি উন্নয়ন বিভাগে তিনি যেন একাই রাজা। তার ভয়ে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারাক্ষণ অজানা আতঙ্কে থাকে। পান থেকে চুন খসলেই তিনি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেন। ফ্যাসিবাদের এই পরীক্ষিত দোসরের অবাধ রাজত্ব ও খবরদারি এখনো বহাল থাকায় বিস্মিত পুরো পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ফ্যাসিবাদের আমলে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছের লোক পরিচয়ে হেন অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতি নেই-যা সুচতুর প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান করেননি। ভোলায় বসে তিনি নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্য পরিচালনা করতেন। মূলত প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সায় থাকায় তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন। এখনো জায়গা মতো অর্থাৎ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের অর্থ-কড়ির মাধ্যমে ম্যানেজ করে নতুনভাবে দুর্নীতির পালে হাওয়া লাগিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
বলা যায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর আনুকূল্য পেয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন সার্কেলে রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন হাসানুজ্জামান। তিনি যেন এখানে একচ্ছত্র অধিপতি! অবৈধ অর্থ যেভাবে তিনি কামিয়েছেন, একইভাবে তা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আচ্ছা আছেন। ফলে দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। এক কথায় অনিয়ম-দুর্নীতিতে তার জুড়ি মেলা ভার। তার পাহাড়সম দুর্নীতি এবং ম্যানেজের বিষয়টি ভোলা পানি উন্নয়ন সার্কেলে এখন ওপেন সিক্রেট। ম্যানেজ মাস্টার হিসেবে তিনি বহুল পরিচিতি পেয়েছেন। সবার কাছে তিনি দুর্নীতিবাজদের জন্য মডেল।
স্বৈরাচারের আমলে পানির উন্নয়ন বিভাগে ভোলাসহ সারাদেশে যত কাজ হয়েছে, তার মাধ্যমে সেখানে শত শত নয়-হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। ‘সরকার কা মাল দরিয়ামে ঢাল’ নীতিতে মোঃ হাসানুজ্জামান শতভাগ বিশ্বাসী। কাজ না করেও ঠিকাদারের যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জনগণের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে পার পেয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর নামে ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে নিজেই হজম করে ফেলার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এভাবে তিনি উপরেরটা, নিচেরটা, মাঝেরটা পকেটস্থ করতেন।
ভোলা পানির উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালেই তরতর করে তার ভাগ্যের দুয়ার খুলে যায়। শুরু থেকেই তার জয়জয়কার। চাকরি জীবনের শুরুতে যেখানে ছিলেন এখনও সেখানেই আছেন। তার কথা একটাই- ‘টাকার নৌকা পাহাড়ের উপর দিয়ে চলে। অতএব রুপিয়া ফেলো তামাশা দেখো।’ বাস্তবে সে প্রমাণও তিনি সযত্নে রেখেছেন। ঠিকাদারদের উদ্দেশে তার আরেকটা বক্তব্য- ‘পানির নিচে কি আছে-না আছে, সেটা কেউ খোঁজ নিতে গেলে কখনো হিসাব মিলাতে পারবে না, অতএব চিন্তা কি মাল-কড়ি ছাড়ো, কাজের রিপোর্ট তো আমি দেব।’
মোঃ হাসানুজ্জানানের অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহকর্মীরা জানান, টাকা ছাড়া তিন কিছু বুঝেন না। টাকা পেলে নাকি তিনি দিনকে রাত এবং রাতকে দিন করতে ওস্তাদ। টেন্ডার বাণিজ্যের নামে রাষ্ট্রের অর্থ অবাধ লোপাট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি নাকি হাজার কোটি টাকা কামিয়েছে। এসব টাকার বেশির ভাগ পাচার করেছেন। খোঁজ নিলে বেগমপাড়ায়ও নাকি তার বাড়ি পাওয়া যাবে বলে তাদের অভিমত।
মোঃ হাসানুজ্জামানের এক ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তার চলাচল জমিদারী স্টাইলে। খরচের হাত খুবই প্রশস্ত। নামে-বেনামে তার কয়টা অ্যাকাউন্ট আছে বলে শেষ করা যাবে না। কেবল তার নয়, তার স্ত্রী ও বাচ্চারে স্বনামে-বেনামে অনেক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পদ রয়েছে। খোঁজ নিলে সহজেই এসব অবৈধ অর্থ ও সম্পদের হদিস পাওয়া যাবে বলে তাদের স্পষ্ট ধারণা। তাতে প্রমাণ মিলবে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার। অভিজ্ঞ মহলের মতে, হাসানুজ্জামানের মতো একজন কর্মকর্তা কীভাবে অর্থের পাহাড় গড়েছেন, হয়েছেন ধনকুবের-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা বের করা জরুরি। এ ব্যাপারে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন- দুকের জরুরি হস্তক্ষেপ দরকার। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে প্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্রশানের বিভিন্ন স্তরে ঘাঁপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসর হাসানুজ্জামানদের মুখোশ উন্মুচনে নির্মোহ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি।