অর্ধ শিক্ষিত কথিত ভাইস প্রিন্সিপাল পাকিস্তানী আয়েশা, এক সময়ের মিডিয়া পাড়ার বিতর্কিত চরিত্র শুভ্রা সরকার, কো-অর্ডিনেটর অবন্তী ও রিফাতের অনৈতিক দাপটে সিটিএসের শিক্ষিকা ও নারী কর্মকর্তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়ালের বান্ধবী হিসেবে পরিচিত এই চার নারীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। যারা জীবিকার তাগিদে রয়েছেন, তাদের সম্মান ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সিটিএস এ কর্মরত এক নারী কর্মী বলেন, নারী হয়ে এই চার নারী অন্য নারীর সর্বনাশ করেছেন। এই চার নারীর সহযোগিতায় নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যৌন হয়রানি করেন মাহমুদুর রহমান পিয়াল। তারা মাহমুদুর রহমান পিয়ালের জন্য দালালি করছেন। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে নানা কৌশল অবলম্বন করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। সম্প্রতি একাধিক নারী শিক্ষক তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। এই চার নারী ও আয়েশার কথিত স্বামী জিয়া নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে মাহমুদুর রহমান পিয়ালের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বাধ্য করেন। নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এমডির সাথে ভ্রমণে যেতে উৎসাহিত করেন। সম্প্রতি মাহমুদুর রহমান পিয়াল জিয়ার সহায়তায় অবন্তী ও রিফাতসহ একাধিক নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে নিয়ে কক্সবাজারে বিনোদন সফরের আয়োজন করেন। গুলশানস্থ কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুল(সিটিএস) ও মালিবাগ ও ওয়ারিস্থ কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (সিটিআইএস) এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়ালের বিরুদ্ধে স্কুলের শিক্ষিকা ও নারী কর্মকর্তাদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের প্রায় ৮০ ভাগ স্টাফ নারী। নিয়োগ দেয়ার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার স্থলে গুরুত্ব দেয়া হয় সৌন্দর্য ও যৌনতার ক্ষেত্রে উদারতাকে। যে নারী কর্মী এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়ালের কথায় সায় দিয়ে নিজেকে সমর্পণ করে, তার বেতন বৃদ্ধি করে, যোগ্যতার বাইরে পদোন্নতিও দেওয়া হয় দ্রুত। আর যে নারী কর্মী পিয়ালের কথায় সায় না দেয়, তার বেতন কমিয়ে দেওয়া হয়। মানুষিক ভাবে হয়রানি করা হয়। এক পর্যায়ে অপমান অপদস্থ করে কোন পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা নিয়মিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বাইরে কেবল সৌন্দর্য ও যৌন সম্পর্কে উদারতাকে বিবেচনায় নিয়ে চাকরি দেয়ার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হচ্ছে, স্কুলের বর্তমান ভাইস প্রিন্সিপাল পাকিস্তানী নাগরিক আয়েশা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটিএসের একজন নারী কর্মকর্তা বলেন, আয়েশা স্কুলে যোগদান করেছেন শিক্ষক সহকারী হিসেবে। চাকরির জন্য তার যখন ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম, তখন শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দেখাতে পারেননি। যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই কেবল সৌন্দর্য ও এমডির সাথে বিশেষ সম্পর্কের কারণে একজন টিচার এসিস্ট্যান্টকে ভাইস প্রিন্সিপাল বানিয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে বিরল। এমডির সাথে ভাইস প্রিন্সিপালের বিশেষ সম্পর্কের কোন আছে কি না জানতে চাইলে ঐ নারী কর্মকর্তা বলেন, তাদের কি বিশেষ সম্পর্ক স্কুলের সিসিটিভির আওতায় আমাদের সামনে করে? নাকি বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও করে রাখে? যে আপনাকে এর প্রমাণ দিতে পারবো? কেউ বিশেষ মুহূর্তের প্রমাণ রাখে না। এটা নানা উপসর্গ দেখে বুঝতে হয়।
পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে ঐ নারী কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে বলেন, যার শিক্ষক হবার যোগ্যতা ছিল না, তাকে কোন স্বার্থে ভাইস প্রিন্সিপাল বানানো হয়েছে? আয়েশার স্বামী জিয়া মাদ্রাসার দাখিল পাস। দুবাইয়ে আয়েশা ও তার স্বামী জিয়া গৃহকর্মীর কাজ করতেন। অথচ জিয়াকে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের রিক্রুট ম্যানেজার বানানো হয়েছে। এটা আয়েশার সাথে এমডির ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আয়েশার অপছন্দ হবার কারণে অনেক যোগ্য শিক্ষিকাকে অপমান করে বেতন না দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরা বলেন, ভাইস প্রিন্সিপাল আয়েশা, ম্যানেজার শুভ্রাসহ কয়েকজন নারী শিক্ষক এমডির জন্য শিক্ষিকাদের ম্যানেজ করার দায়িত্ব পালন করেন। এই স্কুলে নারীর নিরাপত্তা, সম্মান ও মানবাধিকার বলতে কিছুই নেই। এ সকল বিষয় জানার পরও স্কুলের পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা এবং মাহমুদুর রহমান পিয়ালের স্ত্রী রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির ঘনিষ্ঠ সহচর কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুলের এমডি মাহমুদুর রহমানের আয়কর, ভ্যাট ফাঁকি, সরকারের অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া ক্যাম্পাস পরিচালনাসহ সকল কেলেংকারি ছাপিয়ে এখন নারী কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। যা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং কানাঘুষা চলছে ভিতরে ভিতরে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুলশানস্থ কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুলের এমডির বিরুদ্ধে নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ অনেক আগে থেকেই স্কুল ক্যাম্পাসে চাউর ছিল। স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল পাকিস্তানী নাগরিক আয়েশার সঙ্গে মাহমুদুর রহমানের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল অনেকটা ওপেন সিক্রেট। এই ভাইস প্রিন্সিপাল আয়েশা দীর্ঘদিন সরকারি ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া অবৈধভাবে কর্মরত ছিলেন। মাহমুদুর রহমানের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেতেন না। সাবেক মন্ত্রী দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা থাকার কারণে নির্যাতিতরা মুখ খোলার সাহস পেতেন না।
কিন্তু সম্প্রতি একজন নারী শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাহমুদুর রহমানের যৌন হয়রানির বিষয়ে একটি পোস্ট করলে তাতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ঐ নারী শিক্ষক দীর্ঘ পোস্টে, কৌশলে স্কুলের এইচআর ম্যানেজার শুভ্রা কিভাবে মাহমুদুর রহমানের বাসায় নিয়ে যায় এবং শুভ্রা তাকে একা বাসায় রেখে আসলে মাহমুদুর রহমান কিভাবে যৌন হয়রানি করেন তার নাতি দীর্ঘ বিবরণ তুলে ধরেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসর মাহমুদুর রহমান বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে এ্যাডমিনকে ম্যানেজ করে পোস্টটি ডিলিট করিয়ে দেন। এমনকি মাহমুদুর রহমানের কালো টাকার জোরে ঐ ফেসবুক গ্রুপে এখন আর তার বিরুদ্ধে দেয়া পোস্ট অনুমোদন করে না।
উল্লেখ্য, এইচআর ম্যানেজার শুভ্রা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের দোসর ও দেশ টিভির কারাবন্দী এমডি আরিফের বান্ধবী। নাম প্রকাশ না করার একান্ত শর্তে কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুলের বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তা ও শিক্ষক এই প্রতিবেদককে বলেন, মাহমুদুর রহমানের যৌন হয়রানির বিষয় নতুন কিছু নয়। তার অত্যাচারে ভালো পরিবারের মেয়েদের কাজ করা কঠিন। তার আবদারে সায় দিলে পদোন্নতির পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধি হয়। সায় না দিলে চাকরিচ্যুত বা নানাভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ভাইস প্রিন্সিপাল পাকিস্তানী আয়েশা ও ফ্যাসিস্ট দোসর আরিফের বান্ধবী শুভ্রার সাথে মাহমুদুর রহমানের অনৈতিক সম্পর্ক ওপেন সিক্রেট ছিল। এখন আয়েশা ও শুভ্রা দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা এখন মাহমুদুর রহমানের জন্য মেয়ে ম্যানেজ করার মিশনে নেমেছেন। যা আমাদের সহকর্মীর সাহসী ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে।
মাহমুদুর রহমান পিয়ালের নারী শিক্ষিকাদের যৌন হয়রানি ও অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডসহ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্কুলের সাধারণ শিক্ষিকা ও নারী কর্মকর্তাগণ। এসব অভিযোগের ব্যাপারে বুধবার সন্ধ্যায় মাহমুদুর রহমান পিয়ালের মোবাইলে যােগাযোগ করা হলে তিনি একজন গণমাধ্যমকর্মীর রেফারেন্স দিয়ে বলেন, তিনি আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। এই বলেই মোবাইলের লাইন কেটে দেন।

