আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদ্য ঘোষিত প্রার্থী নির্বাচনে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ঘোষিত প্রাথী তালিকায় দল হতে বহিস্কৃত ব্যক্তির নাম। সাতক্ষীরা জেলার ৪ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সাতক্ষীরা সদর-২ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই আসনে যার নাম ঘোষণা করা হয়েছে ৫ আগষ্টের পর বাস স্ট্যান্ড, বাজার, বন্দর দখলকারী, চাঁদাবাজ, ভূমি দস্যু, চোরাকারবারীদের গডফাদার। দল থেকে বহিস্কৃত সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির অস্তিত্ব সংকটের জন্য এককভাবে দায়ী আব্দুর রউফকে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে স্বল্প শিক্ষিত আব্দুর রউফ অর্থের জোরে দল থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় এক নেতার সহযোগিতায় কেন্দ্রের মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিবকে ম্যানেজ করে বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার ছাড়াই মনোনয়নে নাম লেখাতে সফল হয়েছেন। যা চাঁদাবাজ, দখলবাজ, চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঘোষিত নীতির বিরুদ্ধে । সম্প্রতি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহম্মদকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে আব্দুর রউফকে ভূমি দস্যু হিসেবে গালিগালাজ করেন এবং রউফ কর্তৃক অবৈধ দখলকৃত সরকারী জমির উপর নির্মিত স্থাপনা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। সূত্রটি আরও জানায়, আব্দুর রউফের পরিবার এক সময় দিনহীন জীবনযাপন করতেন। তার মরহুম পিতার সামান্য জমি জায়গা ছিল। যার ফলে ছেলে মেয়ে কাউকেও পড়ালেখা করাতে পারেননি। পরবর্তী পর্যায়ে রউফ ও তার ভায়েরা আলাদীনের চেরাগের মত এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি জায়গা জোর দখলের মাধ্যমে মাছের ঘের করেন এবং চোরাকারবারীর মত কাজে যুক্ত হয়ে রাতারাতি বড় লোক বনে যান। বর্তমানে তার সব ভাইয়েরা শত কোটি টাকার মালিকও। যা তাদের আয়কর নথিতে আয়ের সঠিক হিসাব নিলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সকলের অভিমত। তাদের অর্জিত সম্পদের সঙ্গে আয়ের কোন মিল নেই। কারণ অর্জিত সম্পদ সম্পন্ন অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন। তারা বর্তমান যে সম্পত্তির/ সম্পদের মালিক সে অনুযায়ী আয়কর প্রদান না করেই সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলেছেন। আব্দুর রউফের মত একজন অশিক্ষিত, সন্ত্রাসী, ভূমি দস্যু, দখলকারী, চাঁদাবাজ, বহিস্কৃত ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য নাম ঘোষণা করায় রাতেই সাতক্ষীরা শহরে হাজার হাজার লোক মশাল মিছিল বের করে এবং তার নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই ভাবে সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডাঃ শহিদুল আলমের পরিবর্তে আলাউদ্দীনকে মনোনয়ন দেওয়ায় রাতে কালিগঞ্জে মশাল মিছিল হয়েছে এবং আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য যে, সাতক্ষীরা-৩ আসনে ডাঃ শহিদুল আলমের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ আসনে যার নাম ঘোষণা করা হয়েছে তিনি এলাকার রাজনীতির সঙ্গে কোন সময় যুক্ত ছিলেন না। উড়ে এসে জুড়ে নেওয়ার মত। লন্ডন থেকে এসেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারমানের কাছের লোক হিসাবে মনোনয়নে নাম লেখিয়েছেন। যা এলাকাবাসী ভালভাবে নেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত দলের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার ৪ টির মধ্যে ৩ টির পরাজয় এখনই নিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরা জেলার সামগ্রিক বিষয়টি পুনঃ বিবেচনার দাবী জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ।

