ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বুধবার লটারির মাধ্যমে পুলিশ সুপার পদে রদবদল করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিন ক্যাটাগরিতে এই রদবদল করা হয়েছে মর্মে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এটা খুবই ভালো কথা। এতে সুফল মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে। আসলে কি তাই? এতে বরং বিড়ম্বনার আশঙ্কায় হতাশ পদায়ন পাওয়া অধিকাংশ পুলিশ সুপার। আর ইসলামের দৃষ্টিতে লটারি হারাম।
প্রশাসনে রদবদল তথা নিয়োগ-বদলি রুটিন ওয়ার্ক। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর বদলির নিয়ম রয়েছে। এটা বিধি মোতাবেক করা হয়। আবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিক বদলি ও অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষ অপসারণ করা হয়। চাকরির ক্ষেত্রে এসব চলমান প্রক্রিয়া। যা চলে আসছে এবং চলবে বিধি মোতাবেক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এটা ঘটা করার সুফল কতটা মিলবে? এতে রদবদলকৃত কর্মকর্তারা কতটা লাভবান হবেন! মাঠে এর কতটা প্রভাব পড়বে। বরং তার মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে আবার বদলির। কারণ নির্বাচন কমিশনের হাতে যখন সব ক্ষমতা চলে যাবে, তখন তারা যদি আবার একইভাবে বদলি করে, তাহলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বদলির জন্য যারপরনাই সমস্যায় পড়বেন এই পুলিশ সুপাররা। আমারে দেশের বেশির ভাগ মানুষ মুসলমান। ইসলামী অনুশাসন মনে চলেন অনেকে। আর একটি ইসলামী দল লটারির মাধ্যমে প্রশাসনে বদলির দাবি তুলেছে। তড়িগড়ি করে সেই পথে হেঁটেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইসলামের দৃষ্টিতে লটারি হারাম। অথচ দলটি হারামের পক্ষে অবস্থান নিল! আর আজকের ক্ষমতাসীনরা তা বাস্তবায়ন করে পেলে। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। একইভাবে ওসি রদবদলের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
নতুন করে যাদের রদবদল করা হয়েছে, তারা এ নিয়ে সাময়িক খুশি হলেও আবারও বদলির আশঙ্কার পরিবার পরিজন নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। কারণ এতে তাদের সন্তানদের খেলাপড়ায় প্রভাব পড়তে পারে।

