জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পোশাকশ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলাসহ পৃথক পাঁচটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই পাঁচ মামলার মধ্যে তিনটির জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
রোববার (৯ নভেম্বর) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা পাঁচটি মামলায় আইভী হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তিন মামলায় জামিন স্থগিতের জন্য ওইদিনই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আবেদন করা হয়।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে নট টুডে করেছেন চেম্বার জজ আদালত।
আদালতে আজ আইভীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজু। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু জাগো নিউজকে বলেন, পাঁচ মামলায় জামিন স্থগিতের বিষয়ে শুনানিতে চেম্বার জজ আদালত জানতে চান সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, এসব মামলায় অন্যান্য আসামিদের মধ্যে কারা কারা জামিনে আছেন। তাদের তথ্য আইভীর জামিন শুনানিতে উপস্থাপন করার জন্য বলেছেন আদালত। আমরা আদালতে তা দাখিল করবো। মঙ্গলবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন এবং বিচারপতি সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ পাঁচ মামলায় আইভিকে জামিনের আদেশ দেন।
গত ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। সেসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পোশাকশ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলায় আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম। পরে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর মিনারুলের ভাই নাজমুল বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আইভি এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি। পরে তার বিরুদ্ধে আরও মামলা হয়।

