ঢাকাTuesday , 28 October 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ছাড়াই প্রিমিয়াম হোল্ডিংসের ৪টি ভুয়া প্রকল্প!

Link Copied!

 মানুষের ৫টি মৌলিক চাহিদার অন্যতম বাসস্থান। সেই বাসস্থানকে নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে কথিত আবাসন কোম্পানি প্রিমিয়াম হোল্ডিংস লিমিটেড। ২০২১ সালে জন্ম নেয়া এই আবাসন কোম্পানি। প্রথমে পূর্বাচলের নাম ভাঙিয়ে দুটি প্রকল্প হাতে নেয়, এ দুটি হলো- পূর্বাচল গার্ডেন ও পূর্বাচল টাউন। এরপর আরো দুটি প্রকল্প হাতে নেয়। ভ্যালি-১ এবং ভ্যালি-২ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার পিছনে বেসরকারি হাউজিং কোম্পানির প্রকল্প রয়েছে প্রায় ২০ টি । এরমধ্যে প্রিমিয়াম গার্ডেনের নামে খালি জমিতে ৫ টি শুধু সাইনবোর্ড রয়েছে। হাউজিং কোম্পানি বলতে যা বুঝায় তার কোন অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, কিছু টাকার বিনিময়ে সাইনবোর্ড ভাড়া নিয়েছে ঢাকার কোম্পানি। তাদের নিজস্ব কোন জমি নাই। এরপর আসল পূরবাচল থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে মাত্র ১১ শতাংশ জমির উপর ছোট্ট একটি রঙিন চালের ঘর তুলে নাম দিয়েছেন প্রিমিয়াম টাউন। আসেপাশের পুরোটাই ধানি জমি অথচ প্রিমিয়াম হোল্ডিংস তাদের লিফলেট বিজ্ঞাপনে লিখেছে, চারিপাশের সরকারি রাস্তার ভেতরের সকল জমি তাদের ক্রয়কৃত । টাউনের সাইনবোর্ড লাগানো ধানী জমিতে চাষ করছেন কৃষক শাহজাহান মিয়া তিনি বলেন, এটা আমার জমি এ জমিতে আমি চাষ বাস করি। এলাকায় কিছু দালাল কোম্পানির সাথে মিলে এসব জমিতে নাকি প্লট করবে। কিন্তু জমি তো আমার। অথচ গুলশানের মতো দামী এলাকায় তিনটি বিশাল অফিস বানিয়ে ইতিমধ্যে প্রায় ১৩০০ শত প্লট বিক্রি করে ফেলেছেন। কোথায় এতো জমি, কোথায় থেকে এলো এত প্লট। খোঁজ নিয়ে জানাজায়, ১০০ শত কর্মচারী নিয়ে চলছে এই কথিত হাউজিং কোম্পানি। সুন্দরী রমনীদের ব্যবহার করেও চলছে প্লট বিক্রি। প্রতি মাসেই গ্রুপ টুরের মাধ্যমে চলে বিদেশ ভ্রমণ। গ্রুপ টীম বানিয়ে চলে সেলস কার্যক্রম। আবার কিছু দিন পরপর চলে কর্মী বদলের নাটক। কর্তৃপক্ষের ধারণা একই কর্মী আর কত সেলস বাড়াতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক মেয়ে সেলস কর্মী বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রওশন আল মাহমুদ খুবই চালাক প্রকৃতির মানুষ। তার হাতে কিছু নারী রয়েছে তিনি বিদেশে গিয়ে এগুলো ব্যবহার করে প্রবাসীদের কাছে প্লট বিক্রি করছেন। কোম্পানির পরিচালক, চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কেউই নথিভুক্ত মালিক নন। কেক কাটা, জন্মদিন, পরিচালক ম্যাডামের নানা উৎসবের দিনে অফিসে উপস্থিত হন কথিত এ সকল কর্মকর্তারা। এই সাবেক নারী কর্মী আরো বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউরোপের ভিসাধারী যেকোনো সময় বিদেশ পাড়ি দিতে পারেন। প্রতিবেদনের আরো সত্যতা খুঁজতে আমরা সরেজমিনে মাওয়া রোডের মুন্সিগঞ্জের বি চৌধুরী রাস্তাধরে এগুতে থাকি নতুনধরা প্রকল্প পার হয়ে ভাইয়া হাউজিং এর আগে নিচু জমির মাঝে পানিতে প্রিমিয়াম ভ্যালির কিছু সাইনবোর্ড রয়েছে। কিন্তু কোন নির্দিষ্টভাবে জমি ঘর অফিস নেই। প্রতারণা এখানেই শেষ নয় ভ্যালি- ২ নামে মাওয়া রোডে আরো একটু প্রজেক্টের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অনেকেই সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করেন ভবিষ্যতের আসায়। অথচ এখানেও চলছে, পুরোটাই প্রতারণা। আবাসন বিশেষজ্ঞ আফজাল হোসেন বলেন, একটি হাউজিং প্রজেক্ট করতে হলে ১১/১২ টি অনুমোদন প্রয়োজন। অথচ শতশত নামেমাত্র আবাসন কোম্পানি শুধু ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করেই হাজার হাজার প্লট বিক্রি করে যাচ্ছেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের পরিচালক হাসান সরকার বলেন, আমরা জুলাই ২০২৫ সালে ৩৬ টি আবাসন কোম্পানির অনুমোদন বাতিল করেছি। আপনাদের মনে রাখতে হবে রাজউক, গৃহায়ণ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ব্যতিত কোন কোম্পানির প্লট কেনা যাবে না। ভবিষ্যতে আপনারাই বিপদে পরবেন। রিয়েলএস্টেট হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া বলেন, যেসকল কোম্পানির অনুমোদন কাগজে ঝামেলা আছে তারা সবসময় মিডিয়াকে ভয় পায় এবং এড়িয়ে চলেন। খুব বেশি ফোকাসে আসতে চায় না। কোন প্রকার বিজ্ঞাপন এবং প্রচার প্রচারণায় আগ্রহী নয়। সকল কাজ গোপনে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে । এ ধরনের প্রতারক কোম্পানি থেকে সাবধান হতে বললেন রিহ্যাবের এই ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূইয়া। অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, প্রিমিয়াম হোল্ডিংস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পূর্বের ক্যারিয়ারও স্বচ্ছ নয়, তার ছেড়ে আসা আগের কোম্পানি গুলোর রেকর্ডও তেমন সন্মান জনক নয়। আরো জানাযায়, বেসরকারি আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় দুটি সংগঠন রিহ্যাব এবং বিএলডিএ এর সদস্যও নন প্রিমিয়াম হোল্ডিংস লিমিটেড।