ঢাকাThursday , 16 October 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পর্যাপ্ত উৎপাদনেও নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতি

Link Copied!

চাল, ডাল, মাছ, মাংস, দুধ, সবজি— প্রায় সবখাতেই উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তবুও দেশ এখন নিরাপদ খাদ্যের মারাত্মক ঘাটতির মুখে। পরিসংখ্যান বলছে, উৎপাদনে রেকর্ড সাফল্য থাকলেও সেই খাদ্যের বড় অংশই ভেজাল, কেমিক্যাল বা দূষণের শিকার।

১৯৭২ সালে দেশে ধান উৎপাদন ছিল এক কোটি টন; ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৬০ লাখ টনে। চাল উৎপাদনে এখন বিশ্বে বাংলাদেশ তৃতীয়, মাছ ও পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, রসুনে তৃতীয় এবং আলুতে সপ্তম। গত অর্থবছরে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে ৫০১ লাখ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।

কৃষিজ উৎপাদনের এই উল্লম্ফন সত্ত্বেও ‘নিরাপদ খাদ্য’ এখন সবচেয়ে বড় সংকট। সরকারি-বেসরকারি গবেষণা অনুযায়ী, বাজারের বহু খাদ্যপণ্যে শিল্পোৎপাদিত রং, কেমিক্যাল ও অতিরিক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি রয়েছে। এসব বিষাক্ত উপাদান পানির সঙ্গে মিশে মাটি ও খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে, যার ফলে বাড়ছে ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ক্যানসারসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগ।

‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় থাকা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে চতুর্থ স্থানে। জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থা— এফএও, ইফাদ, ডব্লিউএফপি, ডব্লিউএইচও ও ইউনিসেফ— যৌথভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এফএওর আরেক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের খাদ্য সংকটে থাকা ১০ দেশের মধ্যেও বাংলাদেশ চতুর্থ। দেশে এখনও প্রায় ৭ কোটি ৭১ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পান না, এবং ১০ শতাংশের বেশি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের পুষ্টিবিদ ড. শারমিন হোসাইন বলেন,

“আমাদের দেশে সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার অনেক কৃষক জানেন না। ফলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যা খাদ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর।”

অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন,

“খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই দূষণ ঘটছে। অতিরিক্ত সার, কীটনাশক, সংরক্ষণে রাসায়নিক, এমনকি পাকানোর সময়ও রাসায়নিক মেশানো হয়। সরকারি তদারকি দুর্বল বলেই এ সমস্যা প্রকট হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য উৎপাদনে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তেমনি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে “খাদ্য সংকট নয়, নিরাপদ খাদ্যের সংকট” আরও ভয়াবহ আকারে দেখা দেবে।