ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় এনসিপি-সংযুক্ত এক কর্মী আবদুর রহিম রিপনের ওপর তার শ্বশুর, মামাসহ স্থানীয় আওয়ামী প্রভাবশালীদের নৃশংস হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশি অসহযোগিতার অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট (শনিবার) দুপুরের খাবারের পর বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় হঠাৎ এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় রিপনের স্ত্রী কন্যাসহ চলে যান তার শ্বশুর মো. জসিম ও মামা মো. রাসেল (উরফে গনি)-এর বাসায়। রিপনের দাবি অনুযায়ী, তার শ্বশুর মো. জসিম, যিনি স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, মামা রাসেলসহ আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিপনের স্ত্রী রাহিমা বেগমকে ব্যবহার করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যান। একইসঙ্গে তারা রিপনের মাকেও কল দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আটকে রাখে। এরপর মো. জসিম, আলমগীর (আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত), আলাউদ্দিন, মাইনুদ্দিনসহ আরও কয়েকজন রিপনের বাসায় প্রবেশ করে তাকে অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে হত্যার উদ্দেশ্যে। হামলায় রিপনের বাম চোখে গুরুতর আঘাত, ডান হাত ভেঙে যাওয়া, এবং গলা ও মাথায় রক্ত জমাট বাঁধার মতো জখম হয়। রিপনের দাবি, কেয়ারটেকারের স্ত্রীর উপস্থিত বুদ্ধির কারণেই তিনি প্রাণে রক্ষা পান। পরবর্তীতে তিনি হাতিরঝিল থানার ওসিকে ফোন করলে এএসআই জাহিদুল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং আঘাতে ব্যবহৃত রডটি উদ্ধার করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ওই রডটি থানায় জমা দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় মামলা করতে গেলে তিনি বারবার পুলিশি অসহযোগিতা ও হয়রানির শিকার হন। বরং পরবর্তীতে তার স্ত্রীর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধেই নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, “এএসআই জাহিদুল আমাকে জানিয়েছেন, তারা আমাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ওসি রাজুসহ থানাকে তারা ম্যানেজ করেছে।” তার দাবি, একাধিকবার তথ্য সরবরাহ করার পরও ১ নম্বর আসামি মো. জসিমসহ কারও বিরুদ্ধেই হাতিরঝিল থানা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
পরবর্তীতে ১ নম্বর আসামি ছাড়া অন্য আসামিরা আদালতে হাজির হলে, হাতিরঝিল থানার যোগসাজশে মামলাটি জামিনযোগ্য ধারায় রজু করা হয়, ফলে তারা সহজেই জামিন পেয়ে যায়। তবে বাদী নিজে ও তার প্রমাণ ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বশরীরে উপস্থাপন করলে, আদালতের নির্দেশে ১ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ৮ সেপ্টেম্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় রিপন নিজে কোর্টে হাজির হলে তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়। সুযোগে তার জমা দেওয়া সব প্রমাণ সরিয়ে ফেলা হয়, আর ১ নম্বর আসামিকে জামিন করিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর বাদী পুনরায় ১ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে একটি পিটিশন দায়ের করেন। শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেন, ঘটনাটির সম্পূর্ণ বিবরণ ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র নতুন করে জমা দিতে। রিপন তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিলে আদালত সেগুলো পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখেন।
ন্যায়বিচারের আশায় রিপন তেজগাঁও ডিসি অফিসে গিয়ে এডিসি’র কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং এএসআই জাহিদুলের হুমকির অডিও রেকর্ডিং হস্তান্তর করেন। এডিসি জাহিদুলকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন বলে রিপন জানান। তবে পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, এএসআই জাহিদুলকে শুধু অন্য থানায় বদলি করা হয়েছে, বরখাস্ত করা হয়নি।
চলমান হুমকি ও ভয়ভীতি
রিপনের অভিযোগ, হামলার পরও তিনি নিয়মিতভাবে হুমকি ও ভয়ভীতির মুখে আছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৫৮ মিনিটে অজ্ঞাত এক নম্বর থেকে পাঠানো এসএমএসে তাকে লেখা হয়
“২৪ ঘণ্টা সময় দিলাম, মামলা উঠাবি তাড়াতাড়ি, এলাকা ছেড়ে পালাবি নয়ত একটা বুলেট খরচ হবে আমার।”
রিপন জানান, মামলাটি চলমান থাকলেও আসামিদের পক্ষে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে জড়িত, যিনি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে রিপন ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বরং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলায় পাঁচ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। রিপনের দাবি, উল্লেখিত ঘটনার সব প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ এবং এএসআই জাহিদুলের হুমকির অডিও রেকর্ডিং তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

