ঢাকাMonday , 6 October 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাদেক এগ্রোর আড়াঁলে “আয়াত এগ্রো”

Link Copied!

মোঃ ওয়াহিদুর রহমান বেদল। আয়াত এগ্রোর মালিক। তিনি সাদেক এগ্রোর মালিক ইমরানের অন্যতম সহযোগী। তাঁর ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে আয়াত এগ্রো। ইমরান মতিউর কান্ডের পর জেল-হাজতে গেলেও বেদল রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। শূন্য পকেট থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন আয়াত এগ্রোর আড়ালে গরু চোরাকারবারি ব্যবসা করে।
পতিত সরকারের আমলে চোরাকারবারি এই বেদল সাবেক চীফ হুইপ আবদুস শহীদের নাম ভাঙ্গিয়ে পুরান ঢাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে ছিলেন। সেঁজে ছিলেন ডন। এলাকাবাসী তার অপরাধ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার দেখেছেন স্বচক্ষে। ছাগলকাণ্ডে মতিউরের পর ছাগলের রশির প্যাঁচে ‘সাদিক এগ্রো’, চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন আর নানা চমক দেশের গরু খামারীদের জন্য বড় দৃষ্টান্ত। এই গরু খামারের আড়ালেই দিনে দিনে উত্থান ঘটেছে ভদ্রবেশী গরু চোরাচালান সিন্ডিকেটের। তবে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণকারী গরু মাফিয়া মোহাম্মদ ইমরান হোসাইনের উচ্চবংশীয় পদমর্যাদার আড়ালে সিন্ডিকেটের কালোটাকা সাদা করার বীজ বুনে রেখেছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। ইমরানের ছত্রছায়ায় কয়েকজন গরু মাফিয়া চক্রের মধ্যে অন্যতম পুরান ঢাকার ওয়াহিদুর রহমান বেদল।
কে এই এগ্রো মাফিয়া বেদল? এক সময়ের বংশালের সীট ব্রোকারের কাজ করতেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। সীট ব্রোকার থেকে বনে গেছেন ‘শিল্পপতি বেদল’। রাতারাতি বেদলের শিল্পপতি হওয়ার সূত্র দেখতে গিয়ে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। উঠে আসে আরও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওয়াহিদুর রহমান বেদল (৫৩) বংশালের কসাইটুলীর স্থানীয় বাসিন্দা। স্থানীয়রা জানান, একসময়ে বেদলের কিছুই ছিলো না। কেরানীগঞ্জে গরুর খামার করার পর অল্প কিছুদিনের মধ্যে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে যায়। যেনো আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। জানা গেছে, আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্যে নিজের স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন ওয়াহিদুর রহমান বেদল। বংশালের মালিটোলাতে হাইরাইজ একটি ভবনে ফ্ল্যাট কিনেছেন। যেখানে ফ্ল্যাটের প্রতি স্কয়ার মূল্য ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও কসাইটুলীতে আরও একটি রেডি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। সেখানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। কেরানীগঞ্জেও নামে-বেনামে অর্ধশত জমি কিনেছেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন, গাড়ি-বাড়ি, বিদেশভ্রমন, স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করা এগুলোর উৎস কোথায়? তথ্য সূত্রে গেছে বেদল তার স্ত্রী এবং সন্তান নিয়ে পরিবারের ৪ সদস্য মিলে দেশ ছেড়ে আমেরিকা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। বেদল আওয়ামী লীগ আমলে নেতাকর্মীদের নিয়ে রিসোর্টে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটদের অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন। সেখানে কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়া করা হতো। যার নেপথ্যে ছিলো মাস্টারমাইন্ড বেদল ও ইমরান। বেদলের এগ্রো ব্যবসার অংশীদার হিসেবে রয়েছেন হাজী মোহাম্মদ বশির, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক, ৩২ নং ওয়ার্ড, বংশাল থানা আওয়ামী লীগ। এখন ক্ষমতা পালাবদলের সাথে সাথে বশির এলাকা থেকে গাঁ-ঢাকা দিয়েছেন। তবে বেদল প্রকাশ্যে বিএনপির এক নেতার শেল্টারে আয়াত এগ্রো পরিচালনা করছেন। সরেজমিনে বেদলের রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন আব্দুল্লাহপুরে চরগুলগুলিয়ায় নাজিরা বাজার গ্রামে গড়ে উঠেছে আয়াত এগ্রো। নিভৃত এই পল্লীর মাঝে গড়ে তোলা হয়েছে আয়াত এগ্রো এন্ড রিসোর্ট নামে এক অভিজাত ও দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র। রিসোর্টের ভেতরে ঘুরে দেখা গেছে একই সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর হাতে গড়া আভিজাত্যের অপরূপ মিশেল। বিশাল আকৃতির পুকুরের চারপাশে নির্মানাধীন বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স কটেজ, দৃষ্টিনন্দন ঘাট, পানির কৃত্রিম ঝরনা ও আলোর ঝলকানি। প্রায় ৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই রিসোর্ট। নজিরবিহীন আভিজাত্যে ঘেরা রিসোর্ট টির কাগজে-কলমে মূল মালিক সাদেক এগ্রোর মোহাম্মদ ইমরান হোসাইন।
এ রিসোর্টে প্রায়ই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটদের অনুষ্ঠান আয়োজন করে কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়া করা হয়। মাস্টারমাইন্ড ইমরান জেল-হাজতে থাকায় এখন সব কিছুই দেখবাল করছেন বেদল। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওয়াহিদুর রহমান বেদলকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। গরু চোরাচালানে মাস্টারমাইন্ড ইমরান হোসেন ও বেদলের কালোবাজারীর সূত্রঃ ভারত, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চোরাইপথে গরু আনেন ইমরান ও বেদল। সেজন্য স্তরে স্তরে রাখা হয় দালাল। নানা জাতের এসব বিদেশি গরু রাখার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে তোলা হয়েছে গোপন ডেরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাচালানের রুট নিয়ন্ত্রণ করেন ইমরান ও বেদল। এর সঙ্গে যুক্ত সেখানকার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস। তিনি চোরাই পথে আসা গরু সীমান্ত পারাপার এবং স্থানীয়ভাবে দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, থাইল্যান্ড থেকে উন্নত জাতের গরু মিয়ানমার হয়ে উখিয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এর নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন ইমরান ও বেদল। তবে এই প্রক্রিয়ায় দেশে আসা গরু বছিলার সাদেক এগ্রোর খামারে রাখা হতো না। নানা মাধ্যমে সেগুলো রাখা হয় নরসিংদীর শেখ ক্যাটল ফার্মসহ ইমরানের বিনিয়োগকরা দেশের বিভিন্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গোপন ডেরায়। ইমরান জেল-হাজতে বসেই বেদলের মাধ্যমে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। জানা যায়, ওয়াহিদুর রহমান বেদল সাবেক চীফ হুইপ আবদুস শহীদের ক্যাশিয়ার ছিলেন। তিনি জেলে যাওয়ার পর সব টাকাই মেরে দেন বেদল। শহীদের তদবির বাণিজ্যের অন্যতম সহযোগী বেদল ৫ আগস্টের পর ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বিএনপির শীর্ষ এক নেতার শেল্টারে আয়াত এগ্রো পরিচালনা করছেন। প্রতিনিয়তই আয়াত রিসোর্টে মদের আড্ডা বসান বেদল। এদিকে ইমরান, মতিউররা কারাগারে থাকলেও নতুন করে মাংস ব্যবসায়ী খলিল সহ দুদক এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আলোচনার গল্পে ফিরে এসেছে। তথ্যমতে, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেকসাস থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় একটি চার্টার্ড বিমান। একে একে বেরিয়ে আসে ১৮টি ব্রাহমা জাতের গরু। আমদানিকারক সাদিক এগ্রো। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় শুল্ক বিভাগ সব গরু জব্দ করে। পাঠিয়ে দেয় সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে। উচ্চ আদালতে রিট করে সাদিক এগ্রো। রিট খারিজ হয়। এরমধ্যে তিনটি গরু মারা যায়। ২০২৪ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, গরুগুলো জবাই করে মাংস হিসেবে তাদের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করবে। কেজিপ্রতি দাম ২৮০ টাকা। ১৫টি গরু বিক্রির অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়। নিলামে গরুগুলো পায় বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি গরুর আমদানিকারক সাদিক এগ্রোর সেই ইমরান হোসেন। ১৫ গরুর ১০টি জবাই হয়। গোপনে ৫টি চলে যায় সাদিক এগ্রোতে। পরে একটি গরু তোলা হয় জাতীয় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে। ‘ব্রাহামা জাতের গরু দেখলেন প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। তখনও জালিয়াতির ঘটনা অজানা। এরপর আসে কোরবানির ঈদ। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক এগ্রোতে ‘কোটি টাকায় বিক্রি হলো খানদানি গরু’ শিরোনামে খবর বের হয়। দুই কোটি ৬০ লাখ টাকায় তিন গরু কিনে ক্রেতা হজে গেলেন। ঈদের কয়েকদিন আগে ঘটল আলোচিত ছাগলকাণ্ড। ক্রেতা আয়কর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে। দেশজুড়ে শোরগোল। মতিউর গ্রেফতার। সাদিক এগ্রো উচ্ছেদ। ‘খামারি-মন্ত্রণালয় মিলেমিশে ব্রাহমা জালিয়াতি’ শিরোনামে খবর বের হয় গণমাধ্যমে। সামনে আসে ১৫ ব্রাহমার ৫টি গায়েব করে দেয়ার ঘটনা। দৃশ্যপটে দুদক। ৩ জুলাই, ২০২৪। পাঁচ গরু জব্দ। উত্তাল ১৬ জুলাই, সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা। আসামি ইমরানসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা। গরুগুলোর আশ্রয় আবার সাভারের কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন খামারে। আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন। এ বছরের ৩ মার্চ গ্রোপ্তার হন ইমরান। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে। হঠাৎ আবার আলোচনায় ব্রাহমা গরু। সোশ্যাল মিডিয়ায় সয়লাব। এবার দৃশ্যপটে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ৫৯৫ টাকায় মাংস বিক্রি করে আলোচনায় আসা খলিল। সঙ্গে দুদক ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ব্রাহমা গরুর মাংস।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর খুঁজতে গিয়ে যা জানা গেল,কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে থাকা পাঁচটি ব্রাহমা গরু বিক্রির নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর খামার চত্বরে নিলাম। ‘চাকা বাংলা ডিজিটাল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পুরো প্রক্রিয়া প্রচার করে। তাতে দেখা যায়, নিলামে উপস্থিত ছিলেন ১০ থেকে ১২ জন। ছিলেন খলিলুর রহমানও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন খামারের এক কর্মকর্তা বলেন, আগে থেকেই খলিলকে গরুগুলো দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নিলামে অংশগ্রহণকারী বাকিরাও খলিলের লোক।
‘চাকা বাংলা ডিজিটাল’ ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন এস এম রিপন বলেন, ‘আমি সোর্সের মাধ্যমে জেনেছি। প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করতে সাভারে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন খামারে গিয়েছিলাম। তবে আমাকে ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি। সেখানে কোনো গণমাধ্যমকর্মীও ছিলেন না। পরে এক কর্মকর্তার কাছ থেকে ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে দিয়েছি।’
খলিলুর রহমান বলেন, ‘নিলামে অংশ নেন ১৩ জন। আমি তিনটি গরু নিলামে পেয়েছি। বাকি দুটি গরু আমার এক বড় ভাই সাইদ পেয়েছেন। সাইদ পরে গরুগুলো আমাকে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আমাকে ফোন করে নিলামে অংশ নিতে বলেন। আমি ১২০০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি করেছি। সবার সামনে গরু জবাই করা হয়েছে।’ মৃত গরু জবাইয়ের অভিযোগ বিষয়ে খলিল বলেন, ‘একটি গরু জবাইয়ের একটু আগে নিস্তেজ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মারা যায়নি। এখন আমার বিরুদ্ধে ফেসবুক ও ইউটিউবে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের গবাদি পশু নিলামের শর্তে বলা হয়, নিলামের গবাদি পশু জবাই করে খামার থেকে মাংস নিতে হবে। কিন্তু ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহমা গরু নিলামের জন্য প্রচারিত বিজ্ঞপ্তির সেই শর্ত রাখা হয়নি। আগের নীতিমালা পরিবর্তন না করেই নতুন নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবাদি পশু সরবরাহ নিতে হবে। তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত কমিটির উপস্থিতিতে পশু জবাই নিশ্চিত করতে হবে। নিলামে ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০ টাকায় পাঁচটি গরু কেনেন খলিল। পরে খিলগাঁওয়ে তাঁর দোকানের সামনের সড়কে সেগুলো জবাই করেন। প্রতি কেজি মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেন। পাঁচ ব্রাহমার মাংস বিক্রি করেন প্রায় ৭২ লাখ টাকা। জবাইয়ের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান। তিনি এই ব্রাহমা জালিয়াতি মামলার আসামি। মামলার বাদী ছিল দুদক। গরু জবাইয়ের সময় দুদক কর্মকর্তা ও একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গরুগুলো সাভারের খামার থেকে গাড়িতে তোলার সময় খুবই ক্ষ্যাপাটে ছিল। খলিলের দোকানে আনার পরও চঞ্চল ছিল। তবে তিনটি গরু জবাইয়ের পর চার নম্বর গরুটিকে রশি বাঁধা অবস্থায় মাটিতে নিস্তেজ পড়ে থাকতে দেখা যায়। উপস্থিত লোকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘মরা গরু জবাই করছে কেন?’ উপস্থিত একজন অভিযোগ করেন, মরা গরু জবাইয়ের ভিডিও প্রকাশের পর খলিলের লোকজন তাঁকে হুমকি দিচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) ড. এবিএম খালেদুজ্জামান বলেন, ‘গরু জবাই দেখতে আমার অফিসিয়াল দায়িত্ব ছিল না। এ বিষয়ে একটি কমিটি আছে; আমি সেই কমিটিতে নেই। কিন্তু দুদকের কর্মকর্তারা আমাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে থাকতে বলেছিলেন। সে জন্য গিয়েছি। তবে আমাদের সামনে কোনো গরু মারা যায়নি।’ কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন খামারের পরিচালক ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গরুগুলো জব্দ করেছে দুদক। নিলামের জন্য দুদকই আদালতের অনুমতি নিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। পরিচালক বলেন, ‘আগের নিলামের শর্তে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার থেকে গরুগুলো জবাই করে মাংস আকারে নিয়ে যাওয়ার শর্ত থাকলেও পরে তা কিছুটা শিথিল করা হয়। ক্রেতা তিন দিনের মধ্যে গরুগুলো নিয়ে তাঁর নিজস্ব জায়গায় জবাই করতে পারবেন। আমরা খলিলসহ অনেককে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নিলামে অংশ নিতে বলেছিলাম। নিলাম কিংবা গরু জবাই পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হয়নি। যিনি সর্বোচ্চ দাম হাঁকিয়েছেন, তাঁকেই আমরা গরু দিয়েছি।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘গরুগুলো জব্দ করে দুদক আমাদের কাছে রেখেছে। আমরা শুধু প্রক্রিয়াগুলোর সঙ্গে ছিলাম, এর বাইরে আর কিছু নয়।’ ব্রাহমা জালিয়াতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘একটি গরু অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। মারা যেতে পারে– এমন শঙ্কায় সব গরু নিলামে বিক্রির জন্য আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত অনুমতি দিয়েছেন।’
বিতর্কিত ব্যক্তির হাতে ব্রাহমা গরু মাংস ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান আওয়ামী লীগের শাসনামলে কখনও মাংসের দাম কমিয়ে আলোচনায় এসেছেন। কখনও নিম্নমানের মাংস বিক্রির কারণে সমালোচিত হয়েছেন। ক্রেতাদের সঙ্গে মারামারি, সড়ক দখল করে ব্যবসা করার মতো অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভোক্তাদের জন্য কম দামে মাংস বিক্রির প্রচারণা চালাতে তাঁকে ব্যবহার করা হতো। আবার লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বারবার ভারতীয় গরু আমদানির দাবিও তুলতেন তিনি। এখন অবশ্য সুলভ মূল্যের সেই বিক্রেতা খলিলের বিরুদ্ধে বেশি দামে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠছে।