যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রখ্যাত বিনিয়োগকারী ও স্ন্যাপচ্যাটের সাবেক প্রধান কৌশল কর্মকর্তা (সিএসও) ইমরান খান বাংলাদেশের ফিনটেক, স্বাস্থ্যখাত এবং সামাজিক ব্যবসায় বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস প্রস্তাব করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীরা যেন তাদের বিনিয়োগের অন্তত এক শতাংশ সামাজিক ব্যবসায় ব্যয় করেন অথবা সমমনা কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে একটি সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড গড়ে তোলেন। ইমরান খান প্রস্তাবটি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।
ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের দ্রুতবর্ধনশীল ফিনটেক, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক ব্যবসা খাতে এখন বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। জবাবে ইমরান খান জানান, অধ্যাপক ইউনূসের দারিদ্র্য দূরীকরণে আজীবন কাজ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, আমি আপনার কাজের বড় প্রশংসক। আপনি আমাদের সবার জন্য জাতীয় গৌরব।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ৪৮ বছর বয়সী ইমরান খান ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। বিনিয়োগ ব্যাংকিং খাতে টেকনোলজি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করেই তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। জেপি মরগ্যান ও ক্রেডিট সুইসের সাবেক ব্যাংকার ইমরান আলিবাবার রেকর্ড গড়া আইপিওতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া স্ন্যাপচ্যাটে যোগ দিয়ে মাত্র কয়েক মাসে কোম্পানির বাজারমূল্য শূন্য থেকে ৭২৮ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার কৃতিত্ব তাঁর।
বর্তমানে ইমরান খান ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রোম অ্যাসেটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তর ঘটছে এমন খাতেই তিনি বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী। তার পোর্টফোলিওতে রয়েছে পেমেন্টস, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি-নির্ভর খাত।
বৈঠকে ইমরান জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার মতে, বর্তমান বিধিবিধান আরও বিনিয়োগবান্ধব হয়েছে। বিশেষ করে ফিনটেক খাত নিয়ে তিনি আশাবাদী। বাংলাদেশ একটি ফ্রন্টিয়ার মার্কেট, যেখানে ফিনটেকের সুযোগ এখনো ব্যাপকভাবে অনাবিষ্কৃত। এখানে তরুণ জনগোষ্ঠী বৃহৎ এবং প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বিরাট, বলেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস ইমরান খানকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে তিনি শিগগির সফর পরিকল্পনার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।

