অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে শিশুদের জন্য অস্বাস্থ্যকর খাদ্য-পানীয়ের বিপণন সীমিত, আমদানি ও রপ্তানি খাদ্যে পুষ্টি মানদণ্ড কার্যকর এবং উচ্চ চিনি, লবণ ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত পণ্য সীমিত করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়ন কর্মকৌশল নির্ধারণ সম্পর্কিত সভায় এসব বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খাদ্য উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫টি মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সভা হয়। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি, খাদ্য, শিল্প, বাণিজ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তর প্রধান তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল নির্ধারণে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, ইউএনডিপি, ইউনিসেফের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধান অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা করেন।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে স্বাক্ষরকারী সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদারকি কমিটির মাধ্যমে যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা; কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ফলমূল-শাকসবজির প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ, তামাক থেকে বিকল্প ফসল চাষে প্রণোদনা দেওয়া, কৃষক সহায়তা, বাজার ও মূল্য স্থিতিশীলতা এবং কোল্ড স্টোরেজ ও পরিবহনসহ ফসল সংরক্ষণের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে সামনের ও পেছনের অংশে লেবেলিং বাধ্যতামূলক, শিশুদের জন্য অস্বাস্থ্যকর খাদ্য ও পানীয়ের বিপণন সীমিত এবং ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নিরাপদ ও পুষ্টিকর মাছ, দুধ, ডিম ও চর্বিহীন মাংস উৎপাদন ও বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নীত করা; অ্যান্টিবায়োটিক, হরমোন ও রাসায়নিক ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তদারকি, পরিদর্শন ও প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা; স্বল্প-লবণ সংরক্ষণ পদ্ধতি ও রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও নীতি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
একই সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাদ্য লেবেলিং ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের সামনের ও পিছনের অংশে পুষ্টি উপাদান, অ্যালার্জেন, সোডিয়াম, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বির তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা, শিল্পখাত পুনর্গঠন ও প্রণোদনার মাধ্যমে লবণ, চিনি, ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট হ্রাসে খাদ্যপণ্যের পুনর্গঠন উৎসাহিত করা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আমদানি ও রপ্তনি খাদ্যে পুষ্টি মানদণ্ড কার্যকর, উচ্চ চিনি, লবণ ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত পণ্য সীমিত করণ, নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্য নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য ও তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে পোর্টে স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করা হবে।
২০ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ (যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, আঘাজনিত অসুস্থতা ইত্যাদি) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা বৃদ্ধির নিমিত্ত ৩৫ টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে।
যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলা হয় স্বাক্ষরকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, জাতীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং আগামী প্রজন্মকে যথাযথভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। বরং সমন্বিতভাবে তা সুনির্দিষ্ট সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে করতে হবে। সে জন্যই ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে যৌথ ঘোষণা সই করা হয়েছে ৷
এখন প্রত্যেক মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দিক নির্দেশনামূলক সার্বিক সহযোগিতা করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো কারিগরি সমর্থন নিশ্চিত করবে।

