ঢাকাMonday , 8 September 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘আসামি ধরে শাস্তি দিতে না পারলে চেয়ারে বসে আছেন কেন’

Link Copied!

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, আসামি ধরে যদি শাস্তি দিতে না পারেন, তাহলে আইন উপদেষ্টা চেয়ারে বসে আছেন কেন? উনি পদত্যাগ করুক। উপদেষ্টারা চেয়ারে বসে আছেন কেন?

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘আমরা ২৪ জুলাই যোদ্ধা’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এ কথা বলেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন। সঞ্চালনা করেছেন জুলাইয়ে আহত মো. আল মিরাজ।

বিক্ষোভ সমাবেশে শহীদ সায়েমের মা শিউলি আক্তার বলেন, আমার ছেলে সায়েম ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। বর্তমানে এক বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশ যে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, এর কোনো বিচার আমরা পাইনি। আমরা বিচারের জন্য রাজপথে ঘুরছি, কিন্তু বিচার পাই না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা কী করছেন? আমাদের ছেলেদের যারা হত্যা করেছে, তাদের ধরে কেন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আসামি ধরে যদি শাস্তি দিতে না পারে, তাহলে আইন উপদেষ্টা চেয়ারে বসে আছেন কেন? উনি পদত্যাগ করুক। উপদেষ্টারা চেয়ারে বসে আছেন কেন?

আমরা যে সন্তান হারা হয়েছি, সেটা কি উপদেষ্টারা বুঝতেছেন না? আমরা কেন এখন বিচার চাইব। বিচার চাওয়ার জন্য তো আমাদের ছেলেরা দেশ স্বাধীন করেনি।

আহত শারমিন আক্তার বলেন, আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যুদ্ধ করিনি। দেশকে পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করেছি। ইতোমধ্যে এক বছর পার হয়ে গেছে। আমরা না পেয়েছি নিজেদের স্বাধীনতা, না পেয়েছি অধিকার। আমাদের ভাইয়েরা এখনো হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। ওদিকে ফ্যাসিস্টরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আমাদের আর্তনাদ আপনাদের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। আপনাদের কি আরও রক্ত চাই? যারা এ দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন, তাদের মনে হয় আরও রক্ত চাই।

তিনি বলেন, আমরা জুলাই সনদ চেয়েছি। কিন্তু আমরা কি শুধু নিজেদের জন্য এই সনদ চেয়েছি! জুলাই সনদ শুধু একটি সনদ নয়। এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তির সনদ। আশা করি, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো টালবাহানা করবেন না। এসি রুমে এবং বিলাসবহুল বাড়িতে বসে আপনারা (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) কোনো সিদ্ধান্ত বা নীতিমালা দিয়েন না। আপনারা ওই সমস্ত পরিবারের কাছে যান, যারা হারিয়েছে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। যারা তাদের পরিবারের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছে। আপনারা ওই সমস্ত পরিবারের কাছে যান, যে শিশু জন্মের আগে তার পিতাকে হারিয়েছে। সেই পরিবারের কাছে যান। তাদের আর্তনাদ আগে দেখেন। এরপরে আপনারা সিদ্ধান্ত নেন।

ফ্যাসিস্টদের দোসরদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যদি মনে করেন আবারও ফিরে আসবেন, তাহলে দ্বিতীয়বার পালানোর রাস্তা পাবেন না।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনারা কি ফ্যাসিবাদী মতাদর্শে এখনো নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আপনারা আমাদের ন্যায্য অধিকার দেন। আমাদেরকে হয়রানি কইরেন না। আমরা বিভিন্ন তথ্য মন্ত্রণালয়ে বারবার জমা দেই; কিন্তু আমাদের তথ্য ঠিকমতো সাবমিট করা হয় না। প্রয়োজনে আপনারা সিস্টেম পরিবর্তন করেন। তারপরও আমাদের হয়রানি কইরেন না।

আহত সায়মান শাহাদাত বলেন, আমাদের জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। আহত এবং শহীদদের পুনর্বাসন করতে হবে। আসামিরা কেন বাইরে ঘুরে বেড়ায়, এটা আমরা জানতে চাই। যেসব পুলিশ জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, আমরা এর প্রতিকার এবং প্রত্যাহার চাই।
বিক্ষোভ সমাবেশে শহীদ নাজমুল হাসানের বাবা শাহ আলমসহ আহত ও শহীদ পরিবারের অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।