পতিত সরকারের সাবেক মন্ত্রী গোলাম দোস্তগিরের অন্যতম সহযোগী, খুনের মামলার আসামি, এশিয়ান ট্রেডার্স পাথর ক্রাসিং ফ্যাক্টরীর মালিক তানভীর হাসান মিলন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এশিয়ান ট্রেডার্স পাথর ক্র্যাশিং ফ্যাক্টরিটি শ্রমিকদের জীবন কেড়ে নেয়ার একটি ফাঁদ । এখানে দালালদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ্রমিকরা ৩ থেকে ৬ মাস কাজ করার পর কেউ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন আবার কেউ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করে লোমহর্ষক এই তথ্য পাওয়া গেছে। শ্রমিক খেকো মিলনের নারী ঘটিত কেলেঙ্কারি এবং রূপগঞ্জে তার আধিপত্য বিস্তারের ভয়াবহ তথ্য আমাদের হাতে এসেছে।
জানা যায়, চোরাই পাথর সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা এশিয়ান ট্রেডার্সের মালিক তানভীর হাসান মিলন। তিনি সিলেট থেকে পাথর এনে তার ফ্যাক্টরিতে ট্রাস্ট করে এক মরণ নাশক মেডিসিন তৈরি করেন। তার এই গোপন খবর এলাকাবাসী জানেনা। শুধু যারা কাজ করেন তারাই কেবল জানেন মিলনের ফ্যাক্টরির মরণ নাশক মেডিসিনের খবর। এ গুলো কোথায় কার কাছে বিক্রি করা হয় সে খবরও নেই প্রশাসন সহ এলাকাবাসীর কাছে। তবে একটি সূত্র বলছে,পতিত সরকারের দোসর সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীরের সহায়তায় মিল এই মরণ নাশক মেডিসিন বিক্রি করে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। প্রশাসনকেও দিয়েছেন আর্থিক সুবিধা। মিলনের এশিয়া ট্রেডার্স এ কাজ করে এই পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। তারা চিকিৎসা সেবার অভাবে মরণ পথের যাত্রী। উন্নত চিকিৎসা করার জন্য একেক জনের ২০/২৫ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা সেখানে উন্নত চিকিৎসা কেন গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে চিকিৎসাসেবা নেয়ার সাধ্য তাদের নেই। মিলন যেসব দালালদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে শ্রমিক আনেন তারাও এখন আছেন বিপাকে। এরমধ্যেই কিছু দালান টাকার লোভে শ্রমিক সরবরাহ করেন।
জুলাই গণ-হত্যাকান্ড সহ একাধিক মামলার আসামী
মিলন কিভাবে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে রূপগঞ্জবাসি রীতিমতো অবাক। পাথর সিন্ডিকেটের হট স্পট নারায়নগঞ্জের রুপসীতে মিলন কায়েম করেছেন একক আধিপত্য। সরকার পরিবর্তন হলেও তার দাপট আগের মতোই আছে। নারায়নগঞ্জ জেলায় বালু ও পাথর বিক্রয়ের স্বর্গরাজ্য হচ্ছে, এশিয়ান ট্রেডার্স। যৌথ বাহিনীর অভিযানে ডেমরা সারুলিয়া ঘাট থেকে বিপুল পরিমান সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু রুপগঞ্জে রূপসীতে মিলনের পাথর ক্র্যাশিং ফ্যাক্টরী শ্রমিকদের মৃত্যু ফাঁদ এশিয়ান ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর লুটপাট নিয়ে সারাদেশে তোলপাড়,পাথর উদ্ধারে দুদকের অভিযান, লুট হওয়া সাদা পাথর ডেমরা সহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে উদ্ধার অভিযোগ চলছে। কিন্তু মিলন সিন্ডিকেট পাথর ব্যবসায় এখনো তৎপর রয়েছে। রুপসী এলাকায় রয়েছে মিলন ছাড়াও একাধিক পাথর ক্রাশিং কারখানা আছে। কারখানা গুলোতে যেসব পাথর ব্যবহৃত হয় সেগুলো সিলেট থেকে সরাসরি আনা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা গুলো অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স দেয়ার নামে মাঝে মধ্যে দুই একটি নামমাত্র চালান আমদানী করা হয়। আর বেশির ভাগই চোরাই পাথর ক্রয় করা হয়। চোরাই পথে ক্রয়কৃত এ সমস্ত পাথর ক্র্যাশিং করে পাউডার বানিয়ে তা বিভিন্ন রি-রোলিং মিলের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে বিদেশী কোম্পানীর নাম ব্যবহার করে নকল লোগো দিয়ে প্যাকেটজাত পাউডার বিক্রয় করে থাকে। যে প্রক্রিয়ায় পাথর ক্রাশিং করা হয় তা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্তও নেই তাদের। এসব কারখানায় পাথর ক্রাসিং করার কারণে শুধু পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছেনা এমন নয়, মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক ঝুকিপূর্ণ। যার ফলে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এশিয়ান ট্রেডার্সে কাজ করতে আসা শতাধিক শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। তন্মধ্যে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যুর তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। বাকি গুলোও খুব কম সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে। এছাড়া অর্ধশতাধিক শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী দোসর পাথর খেকো তানভীর হাসান মিলন নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানাধীন রুপসী (বাসস্ট্যান্ডের পাশেই) খাঁদুন এলাকার বাসিন্দা। তানভীর হাসান মিলনের ভোটার আইডি নং-৪৬৩৮১২৭৬৭২। মিলনের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার ওপর হামলা, অস্ত্র সরবরাহ, এশিয়ান ট্রেডার্স পাথর ক্রাসিং কারখানায় কাজ করতে এসে শত শত শ্রমিকের মৃত্যু, দুর্নীতি,অনিয়ম, সন্ত্রাসীকান্ড সহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিস্তর অভিযোগ থাকলেও তাকে পুলিশ অজ্ঞান কারণে গ্রেফতার করেনি ।
মিলনের পিতা জহির উদ্দিন একজন সামান্য হকার ছিলেন। তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে জ্বালানী কাঠের গুড়ি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। লোক মুখে জানা যায়, জহির উদ্দিন অভাবের তাড়নায় চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে ছিলো। গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে তার বিচার হয়ে ছিলো। সেই থেকে “চোরা জহির” নামে পরিচিত এলাকার মানুষের কাছে। জহিরের মেঝ ছেলে মিলন অভাবের সংসারে বেশি লেখাপড়া করতে না পারায় ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে ঝুঁকে পড়ে। মিলল খাঁদুন এলাকায় একটি পাথর কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে কারখানার টাকা আত্নসাৎ করে আপন মামার সাথে যৌথ মালিকানায় ক্রাসার কারখানা স্থাপন করে। কিছুদিন না যেতেই মিলনের ধুর্তবাজিতে ব্যবসার বিনিয়োগ হারান মামা। অবশেষে যৌথ মালিকানার সমাপ্তি ঘটে। মিলন মিয়া অনেকের সাথে যৌথ ব্যবসা করলেও তা টিকেনি। মিলন তার চাচাত ভাই মঞ্জু মিয়ার ভাগিনা তাপসের সাথেও ব্যবসা শুরু করে। ৩/৪ বছর ব্যবসা করার পর অর্থ আত্মসাৎ কেলেঙ্কারিতে তা আর টিকেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে মিলনের সখ্যতা গড়ে ওঠে। খুলে যায় মিলনের ভাগ্যের চাকা। এমপির সহায়তায় মিলন এশিয়ান ট্রেডার্স নামক একক মালিকানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেই থেকে মিলনের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন সে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বুনে শত শত কোটি টাকার মালিক। মিলনের বড় ভাই আলমগীর এক সময় কাপড়ের কারখানায় কাজ করতেন। আলমগীর আওয়ামী লীগের সহযোগী হয়ে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। খাঁদুনে রয়েছে টেক্সটাইল মিল। এ ছাড়া খাঁদুনে আরো মিলের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও ঢাকার বংশালে রয়েছে রেক্সিনের বিশাল পাইকারী দোকান। লোক মুখে জানা যায়, আলমগীর জুয়া খেলায় নাকি খুবই পারদর্শী ছিলেন। যে কারণে তাকে “জুয়াড়ি আলমগীর” নামে ডাকা হয়। এখন তিনি অনেক টাকা, একাধিক বাড়ি, গাড়ি জমির মালিক। জুলাই হত্যার দায়ে আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। খুনের মামলার আসামি আলমগীর প্রকাশ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। মিলনের ছোট ভাই মাসুম পাথর ক্রাসিং কারখানার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। বিনা দোষে ভাইকে কাজ থেকে বের করে দেয় মিলন। বর্তমানে মাসুম বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একমাত্র বোন ফেরদৌসীর ছেলে কাওছার কাজ করতেন মিলনের কারখানায় তাকেও বের করে দিয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে। মিলনের চাচাত ভাই ইয়াছিনকেও চুরির দায়ে অভিযুক্ত করে ফ্যাক্টরী থেকে বের করে দেয়া হয়। এমনকি তার মামাত ভাই অনুর ছেলে শাহাদাৎকেও কম বেতনে ৩/৪ বছর খাটিয়ে তাকেও বাদ দেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়, মিলনের অপকর্মের শেষ নেই। মিলন কাউকেই বিশ্বাস করেনা। স্বার্থের কারণে যে কোনো কারণ দেখিয়ে বের করে দেয়া তার স্বভাব। মিলনের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশের খাতায় মিলন পলাতক আসামী থাকলেও প্রকাশ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন ঠিকই। বর্তমানে নিজেকে বাচাঁতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে সখ্যতা গড়ার চেষ্টায় নানাভাবে তদবির চালাচ্ছেন। মিলন তার মুখশের আড়ালে এলাকায় জনসেবা মুলক কাজ করছেন। কিছুদিন আগে হজ্জ্ব করে হয়েছেন হাজী। মাথায় টুপি পড়ে সব সময় মিথ্যা কথা বলা মিলন নিজেকে ভালো মানুষ দাবি করেন। স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টানোর কৌসল হিসেবে এসব করছেন বলে এলাকাবাসির দাবী। অনুসন্ধানে জানা যায়,
পাথর খেকো তানভীর হাসান মিলনের রয়েছে ঢাকার পার্শবর্তী নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানাধীন রুপসীর মৈতুলী ও বরপা খাঁদুন এলাকায় এশিয়ান ট্রেডার্স নামক দুটি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া নরসিংদীর তারাব মাধবদী এলাকার মহিষাশুরা ইউনিয়নের বালুস্বর গ্রামে মিলনের রয়েছে ৩০ বিঘা সম্পত্তি। ওই সম্পত্তির ওপর গড়েছেন বায়জিদ ক্যামিক্যাল লিমিটেড নামক পাথর ক্রাসিং কারখানা। প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পাথর আসা শুরু করেছে। আগামী মাসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কারখানা চালু করার চেষ্টায় মগ্ন। এসব কারখানায় পাথর ক্রাসিং করে পাউডার বানানো হয় যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মহা ঝুঁকি। উক্ত পাউডার অবৈধ ভাবে ভিয়েতনামের ব্রান্ড নাম নকল করে প্যাকেটজাত করা হয়। প্যাকেটের গায়ে THN A GROUP এর MADE IN VIETNAM” THE NO.1 VIETNAM CACO3 POWDER লেখা রয়েছে। অথচ এগুলো বড় ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণা। এ ছাড়া রুপসীতে ভাঙ্গারীর ব্যবসা সহ মুড়াপাড়া পারাইন হাইলের ভিটায় স্টিল পণ্য আমদানী ও রপ্তানী এবং সরবরাহ করার ব্যবসা রয়েছে। নাম মাত্র ভ্যাট ট্যাক্স দিলেও রয়েছে ব্যাপক ফাঁক ফোকর।
জানতে চাওয়া হলে মিলন জানায়, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে এলসি দিয়ে আমদানী করা হয় এসব সাদা পাথর। আমদানী করা চালান/এলসি পেপার দেখতে চাইলে টালবাহানা শুরু করে এবং কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হোন। সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কারখানার সামনে পাথরের স্তুপ। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ভোলাগঞ্জের চুরি যাওয়া স্বদৃশ্য সাদা পাথর দেখা যায়। চোরাই পাথর কারবার ছাড়াও মিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী কারখানার শ্রমিক কর্মচারিদের হাত করে মজুদকৃত পণ্য নষ্ট করে নিজের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করার। এ ছাড়া রুপসী এলাকায় কল-কারখানা বেশি থাকায় ভাঙ্গারী কারবারেও জড়িত তিনি। মিলন তার বাহিনী দিয়ে আশে-পাসের ফ্যাক্টরীর মেশিনারীজ আসবাপত্র ভাঙ্গাড়ী হিসেবে অল্পদামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কল কারখানা ব্যবসায়ীরা, লাভবান হচ্ছে অসাধু চোরাকারবারী মিলন।
অভিযোগ উঠেছে, মিলনকে সকল ধরনের অপকর্মের বৈধতার শেল্টার দেন একজন ট্যাক্স আইনজীবি। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের পরিচয় বহন করেন। তাকে এশিয়ান ট্রেডার্সের প্রধান দায়িত্বে রেখেছেন। অন্যদিকে নিজের ছোট ভাইকে মিলনের নরসিংদীর নতুন ফ্যাক্টরী বায়েজিদ ক্যামিকেল লিঃ কারখানার ম্যানেজার বানিয়েছেন। সব কিছুতে তার স্বার্থ জড়িত। এ ছাড়া মিলনের বহু অপকর্মের সহযোগী এই ব্যাক্তি । মিলনের অপকর্মের তথ্য সংগ্রহ করায় ওই আইনজীবী নিজেই সংবাদ পত্রের অফিসে এসে নিউজ বন্ধ করার হুমকি দেয়।
মিলনের কারখানা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তা হচ্ছে, মিলন দেশের বিভিন্ন মঙ্গা এলাকার দরিদ্র অসহায় পরিবারের বেকার লোকজনদেরকে টার্গেট করে দালালের মাধ্যমে শ্রমিক এনে কাজ দেয়। এসব শ্রমিকদের নাম মাত্র বেতন ধার্য করা হয়। জীবিকার তাগিদে আসা সুস্থ সবল শ্রমিকরা কয়েক মাস কাজ করার পর আক্রান্ত হোন এক অজানা রোগে। এই অজানা রোগের কারণ অনুসন্ধান করে পাওয়া যায় পাথরের উড়ন্ত ধুলিকনা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে খাদ্য নালির মধ্যে ঢুকে ফুসফুসে আক্রান্ত করে, শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। কয়েক দিনের মধ্যে খাবারের রুচি হারিয়ে ফেলে। আস্তে আস্তে শরীরের মাংস পেশি শুকিয়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ অবস্থায় শ্রমিকরা চাকুরী ছেড়ে নিজের ঠিকানায় চলে যায়। কিছুদিনের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবার গরিব দুর্বল হওয়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় ক্রাসিং কারখানার মালিক মিলন ।
জীবিকার তাগিদে আসা ১৮ জন মৃতব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেছে অনুসন্ধানীনে। মিলনের কারখানায় কাজ করতে আসা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা শ্রমিকরা জানান। তারা জানান, জীবননগরের (শ্রমিক) শহিদুল মিয়া জানায়, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে আসা ৮ থেকে ১০ জন মারা গেছেন। জামালপুরের ৫ থেকে ৬ জন মানুষ মারা গেছেন। এ ছাড়া হরিপুর,বেনিপুর সহ পার্শবর্তী এলাকার বহু মানুষ মিলনের কারখানার শ্রমিক ছিলো। তারা সবাই মৃত্যু বরণ করেছেন। ময়মনসিংহের দাপুনিয়া শস্যমেলা মাষ্টারবাড়ীর মৃত-আনছার মিয়ার ছেলে জুলহাস দীর্ঘদিন মিলনের কারখানায় কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে বাড়িতে চলে যান জুলহাস। বহু চিকিৎসা করেও অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। জুলহাসের স্ত্রী ও ২ সন্তান তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। জুলহাসের মা মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে সন্তানের চিকিৎসা ও ভরণ-পোষণ চালাচ্ছেন। জীবন নগর হাসাদা গ্রামের বাবা ও ছেলে আজগর ও মারুফ একই সাথে মিলনের কারখানায় কাজ করতেন। আজগর আলী (৫৫) ও তার ছেলে মারুফ (১৬) অসুস্থ হয়ে গেলে ঢাকার মহাখালী বক্ষব্যাধী হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে মারুফের মৃত্যু হয়। আজগর আলীও অসুস্থ হয়ে আল্লাহর অশেষ কৃপায় জীবিত আছেন। জমি-জমা বিক্রি অতি কষ্টে চিকিৎসা চলিয়ে যাচ্ছেন।
হাসাদা গ্রামের একই বাড়ির মফিজ উদ্দিনের ছেলে মহিদুল এশিয়ান ট্রেডার্স পাথর কারখানায় কাজ করতেন। মহিদুল জানায় তার মেয়ে জামাই জুয়েল। মহিদুল নিজেও অসুস্থ হয়ে এখন মৃত্যুর পথযাত্রি। অসুস্থ মহিদুল সরকারের কাছে মিলনের বিচার চেয়ে সাংবাদিকদের জানায়, এমন পরিণতি যেনো আর কারো না হয়। এই মরণ ফাদঁ অচিরেই বন্ধের দাবি জানায় মহিদুল। হাসাদা গ্রামের আরেক জন শ্রমিক জমির উদ্দিনের ছেলে আজিজুল হক। তিনিও এই কারখানায় কাজ করতে এসে মৃত্যু বরণ করেন। তার স্ত্রী জানায় স্বামীর মৃত্যুর পর সব শেষ হয়ে গেছে, থাকার মতো আশ্রয় টুকুও তাদের হারিয়ে গেছে। একটি ছেলে সন্তান রয়েছে সেই পিতার চিকিৎসার দেনা পরিশোধ করে মায়ের দেখাশোনা করছে। তাদের দাবী যাদের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হোক। জীবননগর শুটিয়া গ্রামের হাফিজুল ইসলাম (৫০) একই কারখানায় কাজ করতে এসে মারা যান। হাসাদা গ্রামের ইদ্রিস মিয়া (৪০) মিলনের কারখানায় কাজ করতে এসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ইদ্রিস মিয়ার ছেলে জানায়, বাবার চিকিৎসা করতে গিয়ে সবশেষ। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। ইদ্রিস তার বাবার মৃত্যুতে ঘাতক মিলনের বিচার দাবি করেন। জীবননগর শুটিয়া গ্রামের কবির (৩০) এশিয়া ট্রেডার্স কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে বাড়িতে চলে যান। অনেক চিকিৎসা করেও তাকে বাঁচাতে পারেনি। কবিরের পিতা জানায়, কবিরের দুটি সন্তান আজ এতিম। ছেলের বউ অল্প বয়সে বিধবা। এর দায় কে নিবে? চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি আজ নিঃস্ব। তাদের স্বাভাবিক জীবন ধারনের ক্ষমতাও নেই। তারা এই বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। জীবননগরের আনারুল (৫০)। তিনিও মিলনের কারখানার শ্রমিক ছিলেন। চিকিৎসাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হয়। আনারুলের পরিবার অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করছেন। তাদের দাবি, এই হত্যার দায় কারখানা মালিক মিলনকেই নিতে হবে ।
হাসাদা গ্রামের আরেক যুবক ফরহাদ হোসেন (২৬)। গ্রামের লোকজনের সাথে কাজ করতে এসেছিলো মিলনের কারখানায়। তার জানা ছিলোনা এভাবে জীবন দিতে হবে বহু চেষ্টা করেও বাচঁতে পারলোনা সে অল্প দিনে তার জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। গাইবান্ধার সুমন মিয়া (৩০) পরিবার ছেড়ে কাজ করতে এসে জীবন দিতে হবে তা তিনি জানতেন না। সুমনের চাচা ভাতিজার মৃত্যর বিবরণ দিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, সুমনের চিকিৎসা করতে গিয়ে ভিটে মাটি সব বিক্রি করতে হয়েছে। সুমন মারা যাওয়ার পর তার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রংপুরের সজিব হোসেন কারখানায় কাজ করতে এসে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চলে যান। কিছুদিন পরে তার মৃত্যূ হয়। গাইবান্ধার সিদ্দিক মিয়ার (৫০) ফুসফুসের সমস্যায় চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয়। জীবননগর মেদেনীপুরের খালেক মিয়াও (৪০) একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নওঁগা পোড়াদহের মারেফত মিয়া (৩৭) মিলনের কারখানায় কাজ করতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার অভাবে অবশেষে তার মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার রাকিবুল ইসলাম (২৮) একই কারণে মৃত্যু বরণ করে। মহেশপুর গাংনী উপজেলার খোরশেদ আলম (৪০) এশিয়া ট্রেডার্স কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনিও একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। বাকী মৃত ব্যক্তিদের অনুসন্ধান চলমান। মানুষ গুলোর মৃত্যুর পর মিলন ভুক্তভোগিদের কোন খোজঁ নেয়নি। মিলনের দাবী, আমার ফ্যাক্টরীর বাইরে কেউ মারা গেলে এর দায়িত্ব তো আমার নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট অসহায় পরিবার গুলোর দাবী জানিয়েছেন যে, চুয়াডাঁঙ্গার জীবন নগর উপজেলার হাসাদা ও আশ পাশের গ্রামের ১৮ জন অসহায় শ্রমিকের পরিবারের কান্না যেন সরকার মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পায়। তারা বলেন, পাথর খেকো মিলন একটি পরিবারের পাশেও দাঁড়ায়নি। একজন পাথর শ্রমিক থেকে মিলন ও তার পরিবার কিভাবে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন তা খুজেঁ দেখার দাবী করেছেন রুপগঞ্জের রুপসী এলাকাবাসি। জানা যায়, স্বৈরাচার সরকারের দোসর মিলনের সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সাম্প্রতি মিলনের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে মিডিয়া কর্মী উজ্জ্বলকে আটকে রাখে। উজ্জ্বল সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মিলনের সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডবের শিকার হোন। পরে প্রশাসনের সহায়তায় মিলনকে মুক্তি করা হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রূপসীর খাঁদুনের একটি শোয়া ৭ শতাংশের জমি পাওয়ার নিয়ে দখল করে নেয় মিলন। জমিটি স্ত্রী শামিমা আক্তার শ্যামলীর নামে ক্রয় করা হয়েছে বলে জানায় মিলন। মুন নিবাস নামে সাইন বোর্ড টাঙ্গানো আছে। যার হোল্ডিং নং-৫৩/১ খাদুন ৫ নং ওয়ার্ড, তারাব পৌরসভা, রুপগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ। সূত্রমতে, খাদুন এলাকায় একাধিক দখলকৃত প্লট ও খালি জমি আছে মিলনের। পাথর খেকো মিলনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক চাঁদাবাজী সন্ত্রাসীর অভিযোগে মামলা, যার নং-৫৬০/২৫ আসামী- ১, তানভীর হাসান মিলন ২. আলমগীর প্রধান ৩. মাসুম প্রধান সর্ব পিতা জহির উদ্দিন প্রধান। এছাড়া মিলনরে সন্ত্রাসী বাহিনীর এক অংশের তালিকা রয়েছে ৪. নাঈম (৫০) পিতা- বাসার ৫. মাহিন (২৬) ৬. সামির (২২) উভয় পিতা- নাঈম ৭. হিমু (২৬) পিতা- লিটন ৮. কাউছার (২৭) মিলনের ভাগিনা ৯. আরিফ (২৭) পিতা- আতর উদ্দিন ১০. রবিন (২৯) পিতা- পিয়ার আলী ১১. গোফরান (২৮) ১২. মোস্তাকিম উভয় পিতা- সোহেল। সন্ত্রাসী হামলার আরেকটি মামলা রয়েছে যার নং-৪৫-২৯/১২/২৪ আসামী-১. মোঃ তানভীর হাসান মিলন (৪৮) (পলাতক) মোঃ আলমগীর প্রধান (৪৫) (পলাতক) উভয় পিতা- জহির উদ্দিন প্রধান। ৩. মোঃ ইব্রাহিম (২৮) পিতা মাজু। মিলন হজ্জ করে আভালো মানুষের মুখোশে বিএনপির ছত্রছায়ায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় মরিয়া। আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে মিলনের সখ্যতার প্রমাণ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর আওয়ামী লীগের পতনের পর এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর ফ্যাক্টরী লুটপাটের ঘটনা সহ লুট হওয়া মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ে মিলনের জড়িত থাকার অভিযোগ জানা গেছে। স্বৈরাচার সরকারের সন্ত্রাসীদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করা সহ হামলায় অংশ গ্রহণ করার অপরাধে আরেকটি মামলা হয়, যার নং-৭৪৯৫/১(৫) ২০/০৮/২০২৫ আসামী ১. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ২. আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ৩. হাবিবুর রহমান (পুলিশ প্রধান) এই মামলার ৩৬২ নং মামলার আসামী। তানভীর হাসান মিলনও (পলাতক) রাজধানীর ভাটারা থানায় অস্ত্র ও অর্থ যোগানদাতা হিসেবে মামলার আসামি। এই মামলার ১নং আসামী আওয়ামী দোসর এমপি খসরু চৌধুরী ২নং আসামী এমপি ওয়াকিল উদ্দিন, ৩নং আসামী এমপি টিপু মুন্সি, একই মামলার ৫৮ নং আসামী তানভীর হাসান মিলন (পলাতক) যার সি,আর,মামলা নং-৪২৫/২০২৫ইং ধারা ৩০২,৩০৭,৩৪,১০৯ দঃবিঃ। এছাড়া একাধিক মামলা রয়েছে। ছাত্র জনতার ওপর অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে হামলা করায় নারায়নগঞ্জ আমলী আদালতে একটি মামলা হয়, যার নং-৩৯-২০২৫ এই মামলার আসামী ১. শেখ হাসিনা ২. ওবায়দুল কাদের ৩. একেএম শামীম ওসমান। একই মামলার আসামী আলমগীর প্রধান। পতিত সরকারের দোসর এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর (সহযোগী) মিলনের বড় ভাই আলমগীর প্রধান ৯৬ নম্বর আসামি। মিলনের কাছে মামলা সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামিনের কোন প্রয়োজন নেই। বাদী আপোস করতে বাধ্য হবে। আপনারা নিউজ করে কিছুই করতে পারবেন না। আলমগীর ও মিলন বেশ কয়েকটি মামলায় আসামি বলে জানাগেছে। (প্রতিবেদন চলমান)।

