সরকারি মালিকানাধীন জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি যমুনা অয়েল লিমিটেডে অভিনব এক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে তেল পরিবহনের জন্য সাড়ে ১৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংকলরি ভাড়ায় নেওয়া হলেও চুক্তিপত্রে লরিটির সক্ষমতা দেখানো হয় মাত্র ৯ হাজার লিটার। ফলে অতিরিক্ত সাড়ে ৪ হাজার লিটার তেল লরিতে ভরে ডিপোর বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে যমুনা অয়েলের কিছু কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ট্যাংকলরির মালিক সরাসরি জড়িত। যমুনার নথি অনুযায়ী, ২৭ জুলাই মেসার্স আছিয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে এই চুক্তি হয়। লরিটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঢ-৪২-০০১২। চুক্তির জন্য জমা দেওয়া ক্যালিব্রেশন সনদে ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা দেখানো হলেও প্রকৃত সক্ষমতা ১৩,৫০০ লিটার। আরও বড় প্রশ্ন উঠে আসে যখন দেখা যায়, সনদে স্বাক্ষরকারী বিএসটিআই খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আলাউদ্দিন হুসাইন ওই সময় খুলনায় ছিলেনই না তিনি জানুয়ারিতেই ঢাকায় বদলি হয়েছেন। সনদের কিউআর কোড স্ক্যান করেও সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি গাড়ির (ঝিনাইদহ-ঢ-৪১-০০৩৮) প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে সনদটি জাল বলে প্রমাণিত হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে তখন আসে যখন বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেল পাঠানোর সময় লরিটির ধারণক্ষমতায় অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ডিজেল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। ঘটনা গোপন করতে যমুনা অয়েল ও আছিয়া এন্টারপ্রাইজ দ্রুত চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেয়। তবে এখানে আবার অসঙ্গতি দেখা যায় ৩ আগস্ট তারিখে বাতিলের চিঠি দেখানো হলেও ১৭ আগস্টও লরিটি ডিপো থেকে তেল পরিবহন করেছে। পরে ১৮ আগস্ট নতুন আরেকটি বাতিলের চিঠি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আমাদের সাংবাদিক যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তফা কুদরত-ই-ইলাহী ‘র সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, “লরির প্রকৃত সক্ষমতা ও জমা দেওয়া সনদের মধ্যে পার্থক্য থাকায় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। কেন ও কীভাবে এই অনিয়ম হলো, তা তদন্ত করা হবে।”
অন্যদিকে কোম্পানির একাধিক কর্মকর্তা জানান, লরির প্রকৃত ধারণক্ষমতা গোপন করার উদ্দেশ্য ছিল বাড়তি তেল নিয়ে যাওয়া। পরে এসব তেল কারিগরি ক্ষতি হিসেবে দেখিয়ে হিসাব মেলানো হয়। তাদের মতে, যমুনা অয়েলে তেল চুরির ঘটনা নতুন নয়, তবে এবার তা জাল সনদ দিয়ে আরও পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।

