দক্ষিণ ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই আগুনে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর বনভূমি ও বেশ কয়েকটি গ্রাম পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমলেও তা এখনও জ্বলছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় আট দশকের মধ্যে এটি ফ্রান্সে সবচেয়ে বড় দাবানল। এতে এখন পর্যন্ত একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত এক ডজন বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় অড অঞ্চলের বনভূমির ওপর ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন আরও দুইজন, যাদের মধ্যে একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী। ড্রোনে ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, আগুন ছড়িয়ে পড়েছে এমন বিস্তীর্ণ এলাকা প্যারিস শহরের আয়তনের চেয়েও দেড় গুণ বড়। এসব এলাকায় এখন পোড়া জমির বিস্তার ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। ভূমধ্যসাগরের নিকটবর্তী দাবানলটির অবস্থান স্পেনের সীমানা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। কয়েক মাসের খরা এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অঞ্চলের উদ্ভিদও ছিল অত্যন্ত শুষ্ক। ফ্রান্সের পরিবেশমন্ত্রী অ্যাগনেস প্যানিয়ে-রুনাশে বৃহস্পতিবার সকালে ফ্রান্স ইনফো রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, আগুন কিছুটা ধীরগতিতে ছড়াচ্ছে। তার ভাষায়, ‘রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকায় আগুনের গতি কমেছে। তবে এটি ১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দাবানল জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি। দীর্ঘদিনের খরার কারণে এ অঞ্চলের পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।’ অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা ক্রিস্তোফ ম্যাগনি ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএম-কে বলেন, ‘আশা করছি, দিন শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।’ এদিকে, দাবানলের উৎস কী ছিল, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও শুষ্কতা গ্রীষ্মকালে দাবানলের ঝুঁকি অনেক বেড়ে দিয়েছে। ফ্রান্সের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে দক্ষিণ ফ্রান্সের আরও কিছু অঞ্চলে নতুন তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে এবং তা কয়েকদিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

