
ফাইল ফটো
নিজস্ব প্রতিবেদক : জামায়াত-শিবিরের নাশকতার আগাম খবর পাওয়া এবং নাশকতার ছবি তুলে সেগুলো আবার জামায়াত শিবিরকে সরবরাহ করার কাজে জড়িত ১০ থেকে ১২ সাংবাদিকের তালিকা তৈরি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ খবর জানিয়ে বলেছেন, ‘এসব সাংবাদিক নিজেদের পেশার সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যোগসাজশে সহিংসতার খবর এবং চিত্র ধারণ করে নিজেদের গণমাধ্যমে না দিয়ে তা সরবরাহ করে জামায়াত-শিবিরকেই। এর জন্য তারা মোটা অংকের মাসোহারা পেয়ে থাকেন। অনেকে আবার একই রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় টাকা ছাড়াই করে দেন এ কাজ।’
তিনি জানান, এসব সাংবাদিকদের সরবরাহকৃত খবর ও ছবি জামায়াত-শিবির নিজেদের ওয়েবসাইট, ব্লগ, ফেসবুকসহ অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
সম্প্রতি টেকনোলজিক্যাল অ্যানালাইসিস ও বাঁশেরকেল্লার অ্যাডমিন জিয়াউদ্দিন ফাহাদকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানান মনিরুল ইসলাম।
ফাহাদের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের নিয়মিত টাকা দেয়া হতো জামায়াত-শিবিরের দলীয় ফান্ড থেকে।’
রিমান্ডে ফাহাদ জানায়, শিবিরের বিভিন্ন নাশকতার চিত্র, বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে তাকে নিয়ে উসকানীমূলক লেখা প্রকাশ, হুমকি দেয়া, অনলাইনে ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশ, ফটোশপে নানা মিথ্যা ও আজগুবি ছবি বানানোসহ প্রযুক্তিগত ও টেকনিক্যাল কাজে ৩০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ২০১০ সালে। তাদের মধ্যে বর্তমানে ২০ জন ফুলটাইম কাজ করে চলেছে। তারা মিটিং-মিছিলে যায় না। তাদের কাজ অনলাইনে নানাভাবে বিভ্রান্তি ও উসকানীমূলক প্রচার চালানো। ধারণা করা হচ্ছে- ২০১৩ এর মার্চ মাসে দেলাওয়ার হোসেন সাইদীকে চাঁদে দেখা যাওয়ার আজগুবি খবর ও ফেসবুকে ছবি প্রকাশের কাজে এ টিমটিই কাজ করেছিল।
ফাহাদ জানায়, শুধু ওই ২০ জনই নয়, জামায়াত-শিবিরের বিশাল এ কর্মযজ্ঞে জড়িত রয়েছে বহু পার্টটাইম ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট। প্রতিমাসে ২ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার পর্যন্ত মাসিক মাসোহারা দেয়া হয় প্রত্যেককে। এমনকি যার বা যাদের ব্লগে ও পোস্টে যতো বেশি লাইক বা হিট পড়ে তাদের মাসোহারাও বেড়ে যায়। এভাবেই নিজেদেরে মতাদর্শের ব্লগার ও অ্যাক্টিভিস্টদের উৎসাহিত করা হয়।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘১২ মার্চ বাঁশের কেল্লার অ্যাডমিন ফাহাদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদ ডিএমপিতে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার ১২ মিনিটের মধ্যে বাঁশেরকেল্লা পেজে প্রকাশ করা হয়- ফাহাদ বাঁশেরকেল্লার কেউ না। এটা মূলত তারা করেছে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। এই পোস্ট যে দিয়েছে তাকেও গোয়েন্দারা সনাক্ত করেছে। খুব শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
জিয়াউদ্দিন ফাহাদসহ বাঁশের কেল্লার অ্যাডমিনদের সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি বাঁশখালিতে চিহ্নিত হওয়া জঙ্গি আস্তানার জায়গাটি জঙ্গিদের লিজ দিয়েছিলেন ফাহাদের বাবা বাঁশখালির সুলতানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছমিউদ্দিন। সে আস্তানায় ফাহাদ নিয়মিত যেতো বলেও জানিয়েছে সে।’

