চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবিরকর্মী আরিফ হত্যার মামলার আসামিদের ধরতে গিয়ে শিবিরকর্মীদের ককটেল হামলায় এক উপ পরিদর্শকসহ (এসআই) ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চাঁপাইবাবগঞ্জ শহরের শিবতলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন গলিতে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে আরিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি শিবিরকর্মী জীবন গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে আহতাবস্থায় ককটেলসহ গ্রেপ্তার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ককটেলের আঘাতে আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- নবাবগঞ্জ থানার এসআই মনির হোসেন, পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান, রেজানুর।
এ ঘটনায় পুলিশ ৩ শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শিবতলা মহল্লার কাউসার আলীর ছেলে শিবিরকর্মী জীবন (২০), রেহাইচর আদর্শপাড়া মহল্লার দানেশ আলীর ছেলে জুয়েল রানা (২৪) ও তার ভাই সোহেল রানা (২২)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার গোলাম মোর্ত্তুজা জানান, পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবিরকর্মী আরিফ হত্যার মামলার আসামিদের ধরতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁপাইবাবগঞ্জ শহরের শিবতলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এক গলিতে যায়। এ সময় পুলিশ তাদের ধরতে গেলে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৩টি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। ককটেলে স্প্রিন্টারের আঘাতে এসআই মনির হোসেন, পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান ও রেজানুর আহত হয়। একপর্যায়ে পুলিশ পাল্টা ৪ রাউন্ড সটগানের গুলি ছুঁড়লে শিবিরকর্মী জীবনের ডান পায়ের গোড়ালীতে গুলি লাগলে সে পড়ে যায়। পরে পুলিশ আহত শিবিরকর্মী জীবনকে তাজা ককটেলসহ গ্রেপ্তার করে।
এর আগে সকালে এ মামলার অপর ২ আসামি জুয়েল ও সোহেলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি আরো জানান, জীবন, জুয়েল ও সোহেল এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত আরিফের ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় ১৭ জন এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার রেহাইচর এলাকায় গত বৃহস্পতিবার সকালে শিবিরের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে শিবিরকর্মী আরিফকে দু’ হাত-পায়ের রগ ও গলাকেটে হত্যা করে তার সহযোগীরা।

