মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় একটি স্কুলে শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২০ জনই শিশু। আর অন্য দুজন শিক্ষক। সোমবার (১২ মে) এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি গ্লোবাল। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের ওয়ে থেইন কুইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি বড় ধরনের ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহত হন অন্তত ৩,৮০০ জন মানুষ। এই প্রেক্ষাপটেই সেনাবাহিনী মে মাসজুড়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, যাতে করে পুনর্গঠন ও ত্রাণ তৎপরতা চালানো যায়। কিন্তু সেই ঘোষণার মধ্যেও স্কুলে চালানো হলো এ নিষ্ঠুর হামলা। এক শিক্ষক জানান, ‘আমরা শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু যুদ্ধবিমান এত দ্রুত ছিল যে পালানোর সময়ই পাইনি।’ স্থানীয় শিক্ষা বিভাগও প্রাণহানির এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। জান্তার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ চলছে। জান্তা সরকার একদিকে বিক্ষোভ দমন করছে বর্বরভাবে, অপরদিকে বহু জাতিগত গোষ্ঠী ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ যোদ্ধারা যৌথভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে সাগাইং, কারেন এবং চিন প্রদেশে লড়াই তীব্রতর হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জান্তা বাহিনী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হাতে বড় ধরনের ক্ষতিও স্বীকার করেছে। কিন্তু এইসব প্রতিরোধ এবং বিশ্বজনমতের চাপে পড়েও জান্তার বর্বরতা থামছে না।

