নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক কর কর্মকর্তা আবু তাহের হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী তারই গাড়িচালক মো. নাসির বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
নাসির ও তার সহযোগী মো. রাসেল তালুকদারকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
মরিরুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়িচালক নাসির প্রতিহিংসা পরায়ণ এবং ডাকাতি করে সম্পদ লুট করার উদ্দেশে তাহেরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এরপর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চলতি মাসের এক তারিখ রাতে নাসিরসহ ৮ জন তাহেরের রামপুরার বাসায় যায়। এরমধ্যে হত্যা ও লুটের মিশনে অংশ নেয় ৮ জন এবং বাইরে অবস্থান করে আরো ৪ জন।’
জানালার গ্রিল কেটে বাসায় ঢোকার পর চারজন কর কর্মকর্তা তাহেরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হত্যাকারীরা তাহেরের মাথায় চাপাতি দিয়ে আঘাত করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়।’
নাসির ৯ মাস তাহেরের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হরতাল-অবরোধে নাসির গাড়ি চালাতে পারবে না জানালে আবু তাহেরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর নাসির চাকরি করবে না জানিয়ে চলে আসে। চলে আসার পর ফোনে নাসির বেতনের টাকা চাইলে তাহের তাকে বাসায় এসে চেক নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু সে চেক নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে আবার কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই সে হত্যা ও লুটের পরিকল্পনা করে।’
নাসিরের পরিকল্পনা সম্পর্কে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘চাকরি চলে যাওয়ার পর নাসিরের সঙ্গে পরিচয় হয় ডাকাত আমিরের। নাসির আমিরের সহায়তা নিয়ে রাসেল, রুস্তম, সোহেল, নূর আলম, সুজন ও মাসুমকে সংগঠিত করে হত্যা ও ডাকাতির মিশনে অংশ নেয়।’
এই হত্যার সঙ্গে অন্যকোনো কারণ আছে কি না মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ খতিয়ে দেখছে বলেও মনিরুল জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর ও অন্য কর্মকর্তারা।

