ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার আদর্শ কৃষক আবু জাহিদ ইবনুল ইকরাম জুয়েল গুণগত মানসম্পন্ন সুপার ফুড বিট রুট চাষে প্রথমবারেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্য এলাকার অন্যান্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। জুয়েল বরাবরই নতুন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি জানতে পারেন যে বিট রুট একটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ সবজি, যা বিশ্বব্যাপী সুপার ফুড হিসেবে স্বীকৃত। এতে প্রচুর আয়রন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন থাকায় এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হজমশক্তি বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক। বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো। এসব দিক বিবেচনা করে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ১০ কাঠা জমিতে বিট রুট চাষের সিদ্ধান্ত নেন। সফলতার মূল কারণের পিছনে রয়েছে,প্রথমবারেই সাফল্য অর্জনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে বলে জানান জুয়েল।উন্নত মানের বীজ নির্বাচন ব্যাবহার করে জুয়েল উচ্চফলনশীল এবং রোগ-প্রতিরোধী জাতের বিট রুটের বীজ সংগ্রহ করেন।সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে জমি ভালোভাবে চাষ ও উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য জৈব সার ব্যবহার করা হয়।পর্যাপ্ত পানি ও সুষম সার ব্যবস্থাপনা মাধ্যমে তিনি ড্রিপ ইরিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেন।নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রেখে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে গাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখা হয়েছে।প্রায় ৯০-১০০ দিন পরে বিট রুট সংগ্রহ শুরু হয় এবং প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন পান জুয়েল। তিনি প্রতি কাঠায় প্রায় ৪০-৫০ কেজি বিট রুট উৎপাদন করতে সক্ষম হন। বাজারে এই বিট রুটের চাহিদা ভালো থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি তার ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করেন।এই মৌসুমে জুয়েলের বিট রুট বিক্রি করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় হয়েছে, যা তার কৃষি উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করতে উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে বিট রুট চাষের পরিকল্পনা করছেন এবং অন্যান্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “আবু জাহিদ ইবনুল ইকরাম জুয়েলের এই উদ্যোগ এলাকার কৃষকদের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণার। আমরা তাকে আরও আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবো।” নতুন কিছু করার আগ্রহ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যে কৃষিক্ষেত্রে সাফল্যের নতুন দ্বার খুলতে পারে, তা প্রমাণ করেছেন আবু জাহিদ ইবনুল ইকরাম জুয়েল। তার এই সাফল্য অন্যান্য কৃষকদের নতুন চাষাবাদের দিকে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং দেশের কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

