গাজীপুরের শ্রীপুরে উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্স বাজানোয় প্রতিবাদ করায় মাংস বিক্রেতা মুক্তার হোসেনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবকদের বিরুদ্ধে। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ওই ব্যবসায়ী হামলাকারী ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এর আগে রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪ টায় উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামের হানিফার ছেলে। সে বরমী বাজারের মাংস বিক্রেতা। তাকে ওইদিন স্বজনেরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রাখে। অভিযুক্তরা হলো একই গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে রাহাত, মোজাম্মেল হকের ছেলে নাঈম, মুক্তার মোড়লের ছেলে সাঈদ, মজিবুর মোড়লের ছেলে রিনা আমীন , মজিদ ডাকাতের ছেলে মুরাাদ, আব্দুর রশিদের ছেলে লিটনসহ অজ্ঞাত তাদের ৭/৮ জন সহযোগী। হামলা শিকার ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত উচ্ছৃঙ্খল যুবক। তারা ঘটনার আগের দিন রাতে তার বাড়ীর পাশে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্সে গান বাজাতে থাকে। এ সময় তিনি যুবকদেরকে সাউন্ড কমিয়ে গান বাজানোর অনুরোধ করে। পরদিন রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাড়ীর পাশের মসজিদ থেকে আছরের নামাজ পড়ে বাড়ী ফিরছিলেন। পূর্ব থেকে উঁৎ পেতে থাকা উচ্ছৃঙ্খল যুবকেরা পরস্পর যোগসাজোসে দা, লাঠি সোঠা, চাপাতি নিয়ে তার পথরোধ করে। এ সময় বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে ওই যুবকেরা তার মাথায় চাপাতি দিয়ে এবং ডান পায়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারত্বক জখম করে। তার ডাকচিৎকারে ছোট ভাই রতন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা তাকেও লাঠি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে যুবকেরা আইনের আশ্রয় নিলে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে ভাগীনা উজ্জল ও ভাতিজা সোহেল তাদেরকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রাখে। অভিযুক্ত রাহাত, নাঈম ও সাঈদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে বন্ধ পাওয়ায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান জনান, অভিযুক্তদের সাথে হামলার শিকার ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেনের ভাতিজা হুমায়ুনের উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্স বাজানো নিয়ে পূর্ব বিরোধ ছিল। ওই ঘটনায় তদন্ত করতে গেলে অভিযুক্তরা আমার সামনেই মাংস ব্যবসায়ী মুক্তার হোসেন ও তার ভাইকে মারপিট করে মারাত্বক জখম করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহতদেরকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

