ঢাকাWednesday , 12 February 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ে গম আবাদে কৃষকদের আশার আলো

Link Copied!

ঠাকুরগাঁও জেলায় চলতি মৌসুমে গম চাষে আশাবাদী কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং চাষাবাদের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করায় তারা আশা করছেন, এবার গমের ভালো ফলন হবে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, গমক্ষেতের ফসল সুস্থ ও সবুজ রয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ কম হওয়ায় গম গাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ফলনের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর আবহাওয়া গম চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। পর্যাপ্ত রোদ, কম কুয়াশা ও সঠিক সময়ে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় গম গাছের বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও জেলায় গম চাষ হয়েছে ২১,০৫০ হেক্টর জমিতে। জেলার ৫টি উপজেলায় ভিন্ন ভিন্ন হারে গম চাষ হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ৬,২০০ হেক্টর, পীরগঞ্জ উপজেলায় ২,২৮৫ হেক্টর, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ৭,৪৮০ হেক্টর, রানীশংকৈল উপজেলায় ৩,৯৬৫ হেক্টর, হরিপুর উপজেলায় ১,১২০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহের সাথে গম চাষ করেছেন। সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে কৃষকরা ভারতীয় জাতের গমের বীজ ব্যাবহার করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বীজ সহজলভ্য, উচ্চ ফলনশীল, রোগ বালাই তুলনামূলক কম,গাছ খাটো জাতের হয় বলে ধারণা করছেন। তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া বিদেশি বীজের অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় জাতের গমের জন্য হুমকি স্বরূপ হতে পারে। কৃষক মো: আইনাল জানান “গত বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় গম ক্ষেতে কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি। ফলে আমরা ভালো ফলনের আশা করছি।”
অন্য কৃষক দেবাশীষ বিশ্বাস জানান, সরকারি সহযোগিতা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে গম চাষ আরও সহজ হয়েছে। তাছাড়া বাজারদর ভালো থাকলে লাভবান হবো। জেলার কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, রোগ প্রতিরোধ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষকদের উন্নত বীজ, সার ও আধুনিক চাষাবাদের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য ) আলমগীর কবির জানান, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা উন্নত জাতের গম চাষ করতে পারেন। সেই সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে রোগবালাই কমানো যায়। জেলা কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে গড়ে প্রতি হেক্টরে ৩.৫ থেকে ৪ টন গম উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি বাজারদর স্থিতিশীল থাকে, তবে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা এবার গম চাষ থেকে ভালো মুনাফা করতে পারবেন। ঠাকুরগাঁওয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা গম চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আশা করা যায়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে ঠাকুরগাঁওয়ের গম উৎপাদন নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তার সাথে ভালো ফলন হলে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।