অনেক আলোচনা-সমালোচনা, মামলা হামলার পর অবশেষে কেশবপুরের বারুইহাটি চৌরাস্তা মোড়ে অবস্হিত সেই অবৈধ রোমান ব্রিকসটি মাটির সাথে গুড়িয়ে দিলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। যার ফলে এলাকাবাসির দীর্ঘ ৯ বছরের ভাটা উচ্ছেদ দাবির আন্দোলন সংগ্রামের আনুষ্ঠানিক অবসান হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসি আনন্দে মিষ্টি বিতরণ করছে। সাধুবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ অন্য সকল সহযোগী ও নির্ভীক মিডিয়াকর্মীদেরকেও। উল্লেখ্য এর আগে এভাবেই ইট ভাটাটি পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতি বছর দফায় দফায় চিমনি ছাড়া দেওয়াল ভেঙ্গে দিলেও ভাটা মালিক আবুবক্কার সিদ্দিক তার অদৃশ্য শক্তির কারিশমায় প্রতি বারই ভাটার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যায়। তার এই ধৃষ্টতায় এলাকাবাসি অজানা আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তবুও হাল ছাড়েনি তারা ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করতে মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে লাগাতার পরিবেশ উপদেষ্টা, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে চলেছেন। সাথে সাথে কিছু নির্ভীক মিডিয়াকর্মীও অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে আঞ্চলিত ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদ লেখা অব্যাহত রাখে। যার প্রেক্ষিতে ইতোপূর্বেও একাধিকবার ভাটাটির সকল কার্যক্রম পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ভাটাটির বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (৩৩৭২/২০২২) দায়ের করেন। কিন্তু ইট ভাটা মালিক পতিত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ার কারণে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভাটাটি নির্দ্ধিধায় চালিয়ে গেছেন। এলাকার ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও মারপিট করা হয়। যশোর আদালতে ওই মামলা চলমান রয়েছে। কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে ২৯ জানুয়ারী বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তর সেই আলোচিত রোমান ব্রিকসটি চিমনিসহ ভেঙ্গে মাটিতে গুড়িয়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এলাকাবাসি বলেন, ইট ভাটার অনুমতি পাইনি তাই ভেঙ্গে দিয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু ইট ভাটা থাকলে আমাদের ছিনতাইকারী ও চোর ডাকাতের ভয় থাকে না। তাছাড়া এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতো। এ বিষয়ে মামলার বাদি নুর আলী বলেন, তাদের দীর্ঘদিনের দাবি আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই তারা আজ খুব খুশি। এ কাজে তাদের যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে, আইন কোন শক্তির কাছে মাথা নত করেনা। তারা যেহেতু ইট ভাটাটি চালু করার কোন অনুমোদন পাইনি তাই আইনের দৃষ্টিতে ইট ভাটাটি অবৈধ বিবেচিত হওয়ায় সেটা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

