ঢাকাSunday , 19 January 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিরাপদ খুলনা গড়তে কেএমপির ব্যাপক উদ্যোগ

খুলনা ব্যুরো
January 19, 2025 10:26 pm
Link Copied!

গত জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যূত্থানের পর সারাদেশের ন্যায় খুলনা মহানগরীতেও পুলিশিং ব্যবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ নানামূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। খুলনাকে একটি নিরাপদ শহরে পরিণত করার লক্ষ্যে বেশকিছু সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কেএমপি আশা করে নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে খুলনা মহানগরকে একটি নিরাপদ শহরে পরিণত করা সম্ভব হবে।
নিরাপদ শহর গঠনে চ্যালেঞ্জসমূহ
পুলিশ সদস্যদের সক্রিয়তা ও পেশাদারিত্বে ঘাটতি, নাগরিকদের আইন মান্যতায় ঘাটতি, মহানগরীর বেশ কিছু রাস্তার বেহাল দশা, শহর জুড়ে ড্রেন নির্মাণ কার্যক্রমের কারণে রাস্তা কাটাকাটি ও ব্যবহারযোগ্য রাস্তা সরু হয়ে যাওয়া, ইন্ডাস্ট্রি কম থাকায় বেকার মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তি ও মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা, মাদক কারবারি ও অবৈধ দখলদারিত্ব নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, সন্তান মানুষ করার বিষয়ে পিতামাতাদের গাফিলতি, স্পোর্টস এবং অন্যান্য ইতিবাচক কর্মকাণ্ড কম থাকা।
পুলিশ সদস্যদের মনোবল ও কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ
থানা, ফাঁড়ি এবং ক্যাম্প ভিজিট করে পুলিশ সদস্যদের সাথে মতবিনিময়, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার আয়োজন, কেএমপি’র সকল ইউনিটে পিঠা উৎসবের আয়োজন, পুলিশ লাইন্সের পুকুর হতে মৎস্য আহরণ করে অর্ধেক মূল্যে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ, পেশাগত কাজে উৎকর্ষতা প্রদর্শনের জন্য নগদ অর্থ পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চলমান পদক্ষেপসমূহ
জনগণের সাথে পুলিশের সম্পৃক্ততা বাড়াতে থানা এলাকায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়, ভোরবেলায় চুরি, ডাকাতি এবং ছিনতাই রোধকল্পে সকাল ৬টায় ট্রাফিক ডিউটি নিশ্চিত করা। ট্রাফিক ও ক্রাইম ডিভিশনের সমন্বয়ে যৌথ চেকপোস্ট কার্যক্রম, ক্রাইমের হটস্পটগুলোতে প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু করে রাত ১০ টা পর্যন্ত রেইড। মাদক বিক্রেতা এবং মাদকসেবীদের গ্রেফতার, মহানগরীর তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজদের অস্ত্রসহ গ্রেফতার করাকে অগ্রাধিকার। ১২ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের জন্য বড় অংকের টাকা পুরষ্কার ঘোষণা, কিশোর অপরাধীদের দৌরাত্ম কমাতে তাদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি অভিযান পরিচালনা, চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয় রোধে মহানগরীর ভাঙ্গারির দোকানগুলোতে ‘ক্রয়-বিক্রয় রেজিস্টার’ চালু, জনগণের সাথে পুলিশের দূরত্ব ঘোচানোর লক্ষ্যে এবং পুলিশিং কাজে সহযোগিতা আদায়ের লক্ষ্যে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক ‘সুধী সমাবেশ’, পুলিশ কনস্টেবলদের জন্য উিউটিকালে ব্যক্তিগত স্মার্ট মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যানজট নিরসনে ট্রাফিক ডিভিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ
“ছাত্র-জনতার অঙ্গীকার, নিরাপদ সড়ক হোক সবার” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নগরীতে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গমন করে ছাত্র-ছাত্রীদের ট্রাফিক আইন এবং নিয়মকানুন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম, গাড়ির চালক, হেল্পার এবং যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ট্রাফিক আইন ও নিয়ম সম্বলিত স্টিকার, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে ট্রাফিক সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর হতে গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে খুলনা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের পাশাপাশি নগরীর পুলিশিং কার্যক্রম পুরোদমে অপরেশনাল কাজে ফাংশন করা শুরু হয়। ভোরবেলা ট্রাফিক ডিউটি এবং ট্রাফিক ও ক্রাইম ডিভিশনের সমন্বয়ে যৌথ চেকপোস্ট চালুর ফলে ভোরবেলায় এবং সকালে চুরি ছিনতাই কমে গেছে। মানুষ রেলস্টেশন/বাস টার্মিনাল/লঞ্চঘাট থেকে নিরাপদে গন্তব্যে যাতায়াত করছে। সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সুধী সমাবেশ আয়োজনের ফলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ ভীতি কমেছে এবং জনগণ পুলিশের নতুন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে পাশে থেকে সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। নগরীতে চুরি, ছিনতাই হ্রাস পেয়েছে। মাদক উদ্ধারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত সাড়ে ৪ মাসে ১০,৬৬০ পিস ইয়াবা, ৯৪ কেজি গাঁজা, ৯৫৮ বোতল ফেন্সিডিল, ৪৫৬ লিটার বিদেশী মদ, ২০৮ লিটার দেশি চোলাই মদ, ৪ বোতল হুইস্কি, ৫ গ্রাম হেরোইন এবং ১৮০ পিস ট্যাফেনটাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। ২১৩ টি মাদকের মামলা হয়েছে এবং ২৪৪ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুলনা মহানগরীর তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী নুর আজিম, রিয়াজুল, হাড্ডি সাগর, রকি, ডাবলু এবং দুর্র্ধষ ছিনতাইকারী স্বাধীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের নিকট হতে ১১ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৬ রাউন্ড গুলি, ৬ টি বোমাসদৃশ বস্তু এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাচালানকালে কেএমপি পুলিশ স্বর্ণের বার এবং অলংকারসহ লুষ্ঠিত হওয়া ১৮৮ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। চুরি, ছিনতাই হওয়া ১৫ টি মোটর সাইকেল এবং ১৫ টি ইজিবাইক উদ্ধার হয়েছে। তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং এর অনেক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। কেএমপি’র ৮ থানা এবং ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার যৌথভাবে ১৩৩ জন নারী ও শিশু ভিকটিমকে উদ্ধার করে অভিভাবকের জিম্মায় প্রদান করেছে। ক্রাইম ডিভিশনের পাশাপাশি ট্রাফিক ডিভিশন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যানজট নিরসনে সচেতনতার পাশাপাশি ১১৫৬ টি যানবাহন আটক করেছে। বিভিন্ন অপরাধে ৪১৮১ টি যানবাহনে মামলা দেওয়া হয়েছে। কেএমপি কতটুকু সফল? পুলিশের সাফল্যের মাপকাঠি আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে নাগরিকদের অনুভূতি বা ভাবনা। নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেলে ধারণা করা যায় পুলিশ ভালো করছে। গত ৪ মাসে বেশ কয়েকটি বড় আকারের অনুষ্ঠান সাফল্যের সাথে অনুষ্ঠিত করা গেছে। যেমন- দুর্গাপূজা, ইজতেমা, ২৫ ডিসেম্বর, থার্টিফার্ষ্ট নাইট, কুয়েট ভর্তি পরীক্ষা, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা ইত্যাদি। পুলিশ কতোটুকু ভালো করতে পারছে সে ব্যাপারে নাগরিকরাই সবচেয়ে ভালো মূল্যায়ন করতে পারবেন। তার চেয়েও বড় কথা পুলিশ ভালো কাজ করার চেষ্টা করছে কিনা। পুলিশের আচার আচরণ কেমন? সে আগের মতো মানুষকে হয়রানি বা নিপীড়ন করে কিনা? সে সেবা দিতে অযথা ঘুরায় কিনা? ঘুষ বা অনৈতিক কোন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয় কিনা? মামলা তদন্তে নিরপেক্ষ থাকে কিনা? পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান কিনা ইত্যাদি। পুলিশ যতোই চেষ্টা করুক জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলার উন্নতি খুব বেশি উন্নতি করা সম্ভব নয়। পুলিশ একা চেষ্টা করে খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার। একযোগে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া দরকার। নগরবাসীর মধ্যে আইন মান্যতার সংষ্কৃতি গড়ে তোলা দরকার।
নিরাপদ খুলনা বিনির্মাণে ভবিষ্যত পদক্ষেপ
নগরবাসীকে একটি নিরাপদ শহর উপহার দিতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের বাইরে কেএমপি আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ‘এ্যাওয়ারনেস কার্ড’ তৈরি করা হয়েছে। কার্ডটি সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বিতরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণের সময় বিভিন্ন শ্রেনির নাগরিকের সাথে মতবিনিময় করা হবে। এই কার্ড নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াবে। ফলে নাগরিকেরা নিজে থেকেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সজাগ থাকবেন।অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, চিহ্নিত অপরাধী এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে সার্ভিলেন্স বাড়ানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাসা-বাড়ি ও অফিসগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নাগরিকদেরকে উৎসাহিত করা হবে। খুব শীঘ্রই খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় নগরীর ইজিবাইক ড্রাইভারদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করা যায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ হলে শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা অনেক উন্নত হবে। রাস্তায় জ্যাম কমবে। রাস্তায় দুর্ঘটনাও কমে আসবে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে মিনি ম্যারাথন রেস/দ্রুত হাটা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। শিশু কিশোরদের সাথে পুলিশের সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি সুন্দর বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।