যশোরের কেশবপুরে সেই রোমান ব্রিকসটি পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ৩ দফা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেও আবার চালু করে ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে। ফলে প্রশাসন কর্তৃক ভাটা বন্ধে দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা কোন কাজেই আসছেনা। এ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর উচ্ছেদ আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যশোর পরিবেশ অধিদপ্তর সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর (২০২৪) যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা রোমান ব্রিকসটি ভেঙ্গে দেয়। ভেঙ্গে দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ভাটার কার্যক্রম শুরু করেন। এর পর এলাকাবাসি বিষয়টি নিয়ে আবারও বিভিন্ন দপ্তরের শরনাপন্ন হলে গত ৮ জানুয়ারী যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরেজমিনে আসেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে নিরুপায় হয়ে তারা ফিরে চলে যান। ফলে যা হবার তাই হলো, সর্বশেষ ১৪ জানুয়ারী ওই ভাটাই আবার ইট পুড়ানো শুরু করেছে এবং ভাটার ভেঙ্গে দেওয়া অংশ গুলো আবার গেঁথে নেওয়া শুরু করেছে। আর এভাবেই উপজেলার ১০নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান ১০ বছর আগে আইন কানুনের কোন তোয়াক্কা না করে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ ভাবে রোমান ব্রিকসটি বারুইহাটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, কওমি মাদরাসা, মন্দির, ব্যাস্ততম সড়ক এবং ফসলী জমির মধ্যে ভাটাটি স্থাপন করে। এ পর্যন্ত কয়েকবার প্রশাসন ভাটাটি ভেঙ্গে দিলেও তা বন্ধ করা যাইনি। কেশবপুরে ১৩টি ইটভাটার মধ্যে কেশবপুর ব্রিকস ও গাজী ব্রিকসের পরিবেশের ছাড়পত্রসহ বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। অন্য ইটভাটাগুলো পরিবেশ রক্ষা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে অবৈধ ভাবে ইট পুড়িয়ে পরিবেশ দুষিত করে চলেছে। রোমান ভাটাটি বন্ধ করতে বেলা মহামান্য হাইকোর্টে একটি মামলা করেন। যার ৫২৩ তাং ২৬/০৪/২০২২। আদালত ওই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অদিদপ্তর ও কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ঠ সকল দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এ বিষয়ে ভাটার মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কেশবপুরে ১৩টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ১১টিই অবৈধ। কিন্তু অন্যভাটার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না। শুধু আমার ভাটাটি ৩ দফা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। পরিবেশবাদী বেলা আমার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি মামলা করেছেন। আমি তার জবাবও দিয়েছি। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ইমদাদুল হক বলেন, বারইহাটি গ্রামে অবস্থিত অবৈধ ইটভাটা রোমান ব্রিকসেটি এলাকায় পরিবেশ দুষন করায় তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা শুনেছি ওই ভাটার মালিক সিদ্দিকুর রহমান আবার ভাটাটি চালু করেছে। তার বিরুদ্ধে আবারও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া কেশবপুরে অন্য যেসব অবৈধ ইটভাটা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

