জয়পুরহাটের কালাই উদয়পুর ইউনিয়নের টাকাহুত গ্রামে ইউপি সদস্যের জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ঠান্ডা মিয়ার বসতবাড়িতে ভিত্তিপ্রস্তর পিলারের রড কেটে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। টাকাহুত গ্রামে এ ঘটনা ঘটে৷ বুধবার (১৪ জানোয়ারি ) সকাল ৮ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটিতে একটি পাকা ঘর, তোলার জন্য ১২টি কলম উত্তোলন করা হলে বিল্ডিং এর পূর্ব দিকে ৩টি কলম কর্তন করে ফেলা হয়েছে প্রতিবেশীদের দাবি৷ ইউপি সদস্য যার পক্ষ নিয়ে এখানে এসে কলমগুলো কেটে ফেলেছে এটি সম্পূর্ণ অন্যায় করেছে৷ ভূক্তভোগী ঠান্ডা মিয়ার দাবি, আমার ভাই বাদশা মিয়া দুই শতক জমি প্রতিবেশী ফজলুর কাছে বিক্রয় করার পূর্বে বাদশা মিয়া আমার আঙিনার উপর দিয়ে যাতায়াত করত ওই দুই শতাংশ জমি আমার কাছে বিক্রি না করে প্রতিবেশি কাছে বিক্রয় করে৷ যেহেতু আমার ভাই অন্যের কাছে জমি বিক্রয় করেছে আমার জায়গা দিয়ে চলাচলের রাস্তা দিব না মানবিক হিসাবে আমি ৩ ফিট জায়গা ছেড়েছি৷ আমার ৭ শতাংশ জায়গার উপর কাঁচা বাড়ি ভেঙে পাকা বাড়ি ভিত্তিপ্রস্তরের কলম দাঁড় করিয়েছি৷ প্রতিবেশী ফজলু তাতে ব্যর্থ হয়ে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১৪ জানুয়ারি বেলা সকাল ৮ ঘটিকার সময় ৩০ থেকে ৫০ জন লোক এনে৷ আমার স্থাপনকৃত কলমে হেনশান হ্যামপার মেশিন দিয়ে কেটে ফেলে দিয়ে আমার ২ লক্ষ্যধিক টাকা ক্ষয়ক্ষতি করেছে অথচ ফজলুর বাড়ির পিছন দিকে চলাচলের রাস্তা রয়েছে৷ তিনি ওই দিকে না গিয়ে আমার জায়গা কেন ব্যবহার করবে৷ একজন ইউপি সদস্য একতরফা আমার বাড়িতে হামলা করেছে৷ আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷ স্থানীয় প্রতিবেশীরা বলেন ফজলুর রাস্তা বন্ধ করায়। এরই জেরে ওই ইউপি সদস্যে গ্রামবাসীকে নিয়ে তিনি বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা বের করে দেন। এলাকাবাসী মিলেই নতুন পিলারের কলম কেটে দিয়েছে৷ ঠান্ডা মিয়ার ছেলে আরিফুল বলেন, আমরা বাড়ি করার সময় প্রতিবেশী ফজলু রাস্তার জন্য কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অভিয়োগ দেন আমাদের উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে আগামী মঙ্গলবার বৈঠকের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি ফয়সালা হবে৷ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা তার প্রতিনিধি সরজমিনে এসে জায়গা মাপ যোগ করে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিবে আমরা মাথা পেতে নিব কিন্তু জাহাঙ্গীর ইউপি সদস্য একজন নির্বাহী অফিসারকে তোয়াক্কা না করে তিনি নিজেই আইন তৈরি করে আমার নতুন পিলারের কলম কেটে ফেলে দিয়েছে আমরা এর বিচার চাই৷ পরিবারটির দাবি, পাকা ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর পিলার কলম তৈরিতে রড সিমেন্ট বালি মিস্ত্রি ও লেবার খরচ আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও জানায়, স্থানীয় ঠান্ডা মিয়া তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ভাইদের কেনা জমিতে বাড়ি করছেন। ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন মিলে ওই ঠান্ডার বাড়িতে এক দফা হামলা করে। কান্না জড়িত কণ্ঠে ছাদিয়া বলেন, গত এক মাস ধরে আমরা বাড়ি তৈরির কাজে ব্যস্ত, আমরা এ দেশের নাগরিক। আমার নামে অভিযোগ থাকলে থানা পুলিশকে বলুক অভিযোগ করুক। জোর করে আমার বাড়িতে এসে কলম কেটে দিলো আমরা কার কাছে যাব। আমাকে মাধরধর করেছে আমাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানাই। ঠান্ডা মিয়ার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডা মিয়া কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করে খেত। মোটামুটি এক মাস ধরে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য কাজ শুরু করেন ঠান্ডা তার বিরুদ্ধে কোনদিন এই গ্রামে বিচার শালিস হয়নি, এই প্রথম কি ব্যাপারে তাও জানিনা আগামিকাল কলম গুলো কেটে দিয়েছে আমরা সুবিচার চাই। যাতে সুস্থভাবে সবাই আমরা চলতে পারি। অভিযুক্ত ফজলু মিয়ার বাড়িতে গেলে দরজায় তালা মেরে অন্যত্র চলে যান, তার ব্যবহৃত মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি৷ এদিকে হামলার বিষয়ে উদয়পুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে আপনার সাথে আমি পরে কথা বলব৷ কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন, ‘এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি উভয় পক্ষকে কাজ করার জন্য নিষেধ করা হয়েছে কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিন্তু এর পূর্বে ওখানে ভাঙচুর করা হয়েছে এটি এখন আদালতের বিষয়৷

