উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে যশোরের কেশবপুরে ১ হাজার ৭’শ ৫০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বারী, টরী ও বীনা সরিষার আবাদ হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলনে মাঠ ভরেছে। উপজেলা কৃষি অফিস চলতি বছর ২ হাজার ২’শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু কেশবপরে অতি বৃষ্টিতে বন্যা কবলিত হয়ে চাষ যোগ্য অনেক ফসলি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যার ফলে ইচ্ছা থাকা র পরেও চাষীরা সরিষা আবাদ করতে ব্যর্থ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্র ব্যহত হয়েছে। চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্র অর্জিত না হলেও গত বছরের চেয়ে বেশী জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। ফলে উপজেলার বিস্তৃত ফসলের মাঠজুড়ে এখন শুধু হলুদের সমারহ; নৈস্বর্গিক রুপের আভায় দিগন্ত ছুঁয়েছে হলুদে হলুদে। শীতের সকালে স্বেত কুঁয়াশার চাদরে মোড়ানো সোনালী রোদের উঞ্চতায় মৌমাছিরা মধু আহরনে গুনজন তুলেছে সরিষা ক্ষেতে। সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে বিভোর সারা মাঠময় পতঙ্গ। কেশবপুরে বিস্তৃত মাঠজুড়ে যেন সরিষা চাষের উৎসবে মেতেছে কৃষকেরা। আবহাওয়ার বৈরীতা না থাকায় কৃষকের মাঠে আগাম জাতের বারী সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। কেশবপুরের কৃষকেরা বোরো আবাদের আগে একই জমিতে আগাম বারী-১৪ ও বারী-৯ জাতের সরিষা চাষ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আর সরিষার বাম্পার ফলন ঘরে তোলার সাথে সাথে কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদপ্ত বার্ষিক লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত করতে সক্ষম হয়। পাশা-পাশি অধিক ফলনশীল বারী-১৪ ও বীনা-৯ জাতের এই সরিষা চাষ করে কৃষকেরা। গত বছর থেকে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা টরী-৭, বীনা-৯, বারী-১৫, বারী-১৭ ও বারী- ১৮ জাতের সরিষা চাষ শুরু করেছে। এ সব জাতের সরিষা ৬৫ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে কৃষকেরা ঘরে তুলতে পারে। যার ফলে কৃষকেরা সরিষা চাষের পরে খুব সহজে বোরো আবাদ করতে পারে। যে কারণে উপজেলাব্যাপী কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষে ঝুকছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার জানিয়েছেন, সরিষা চাষে চলতি মৌসুমে ২২’শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বন্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা পুরুন সম্ভব হয়নি। কিন্তু গত বছরের চেয়ে বেশী আবাদ হয়েছে। ফলনও ভাল হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে কেশবপুরের চাষীরা সরিষা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হবে।

