ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানির উৎস বা “ফায়ার হাইড্রেন্ট” না থাকায় পুরো শহর আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে। শহরের চৌরাস্তা, আর্ট গ্যালারি, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কালীবাড়ি বাজার, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠ, ঠাকুরগাঁও রোড বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অফিস আদালত অবস্থিত। এ সব এলাকায় আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ফায়ার সার্ভিসের পানি বহনকারী গাড়ি দিয়ে প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানো হলেও, গাড়ির পানি শেষ হয়ে গেলে নতুন করে পানি সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক জনরবের সম্পাদক মো. নাজমুল বলেন, পরিকল্পিত শহরে আগুন নেভানোর জন্য রাস্তার ধারে ‘ফায়ার হাইড্রেন্ট’ বসানো জরুরি। এগুলো সরাসরি পানির পাম্পের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং এতে পানির অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হাইড্রেন্টের মাধ্যমে দ্রুত পানি সরবরাহ করতে পারে। শহরের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলরা সদিচ্ছা দেখালে পুরো ঠাকুরগাঁও শহরে এমন হাইড্রেন্ট স্থাপন সম্ভব। পৌর শহরের হাজীপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আবু নূর বলেন, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠ শহরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য সমস্যার জন্য ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ব্যবহার করেও সমাধান হয় না। তাই মাঠের চারপাশে পানির সোর্স বা ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন খুবই জরুরি। ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হক বলেন, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনের জন্য আমরা জেলা প্রশাসন, পৌর সভাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। আগুন লাগলে বড় গাড়ির পানি শেষ হয়ে গেলে পুনরায় পানি আনতে যে সময় লাগে, তার মধ্যেই ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হাইড্রেন্ট স্থাপন দরকার। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান জানান, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে ইতোমধ্যে মিটিং হয়েছে। তারা একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আমরা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কাজ করছি। শহরের নাগরিকরা মনে করেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন জরুরি। এতে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে ঠাকুরগাঁও শহরকে আগুনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করা সম্ভব।

