বাগেরহাট জেলা সদরের আওয়ামী লীগ নেতা, যাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেগ ইমদাদুল হক বাচ্চুর বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার রহিমাবাদ এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করেছেন বেগ মোকাররম হোসেন। তিনি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ছাড়াও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ঢাকা, শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা, মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা ও জেলা প্রশাসক বাগেরহাট বরাবর এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, যাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও রহিমাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বেগ ইমদাদুল হক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ বাবদ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪ লক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে ঠিকমতো ভাউচার প্রকাশ করতে পারে নাই। তাছাড়া সে ঐ বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে ৫০ লক্ষ এর অধিক টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছে। অভিযোগের মাধ্যমে আরো জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পূর্বের প্রধান শিক্ষক প্রসাদ মৃধার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা, বর্তমান প্রধান শিক্ষক নাসির হায়দারের কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা, সহকারি শিক্ষক মৌছুফা মৌরির কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা, বিমল কৃষ্ণ পালের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী আলমগীর বেগের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকাসহ নৈশ প্রহরী শেখ মাসুদ রানা, অফিস সহায়ক সোহরাব শেখ, পরিচ্ছন্ন কর্মী আলী বেগের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করেছে বেগ ইমদাদুল হক বাচ্চু। তাছাড়া কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর মুনিয়া আলম মুনার কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা, বিদ্যালয়ের আয়া নিলুফা ইয়াসমিনের কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকাসহ সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন শেখের কাছ থেকেও চাকুরী দেওয়ার সময় ঘুষ গ্রহণ করেছেন তিনি। আবেদনকারী বেগ মোকাররাম হোসেন তদন্ত সাপেক্ষে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেগ ইমদাদুল হক বাচ্চুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ সব দুর্নীতির বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির হায়দারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সভাপতি বেগ ইমদাদুল হক বাচ্চু বিদ্যালয়ের একাউন্টে মোট ৯ লক্ষ টাকা জমা প্রদান করেছেন। বর্তমানে মোট ১২ লক্ষ টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে রয়েছে। এর বেশি কোন তথ্য আমার জানা নেই। নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো লেনদেনের বিষয়ে তিনি জানেন না বলেও গণমাধ্যম কর্মীদের জানান এই প্রধান শিক্ষক। অভিযোগে উল্লেখিত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাথে কথা বলে টাকা লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেলেও কে কখন কোথায় কার কার সাথে লেনদেন করেছে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি কেউ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে যাত্রাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বেগ ইমদাদুল হকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নাই।

