কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বারুইহাটি চৌরাস্তার অবৈধ রোমান ব্রিকসের কার্যক্রম। কোন আইনের তোয়াক্কা করছেনা ভাটা মালিক আববক্কার সিদ্দিক। গত ২৭ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ভাটাটি আংশিক ভেঙ্গে দিয়ে ভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। প্রশাসন কর্তৃক ভেঙ্গে দেওয়ার এ সপ্তাহের মধ্যে আবারও তিনি ভাটার সকল কার্যক্রম বহাল তবিয়তে চালু করে দিয়েছে। তাছাড়া ইট পোড়াতে প্রস্তুত করা হয়েছে কাঠ ও কয়লাসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি। এভাবেই অবৈধ ইট ভাটাটি পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রতি বছর দফায় দফায় ভেঙ্গে দিলেও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ভাটা মালিক তার ভাটার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার এই ধৃষ্টতায় আতঙ্কিত এলাকাবাসির মনে একটাই প্রশ্ন তার খুটির জোর কোথায়? তার পরও থেমে নেই এলাবাসি সম্প্রতি ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে এলাকাবাসী লাগাতার পরিবেশ উপদেষ্টা, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে চলেছেন। যার প্রেক্ষিতে যশোরের কেশবপুর উপজেলার বারুইহাটি চৌরাস্তা সংলগ্ন রোমান ব্রিকস ইট ভাটাটি বরাবরের মত ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক অবৈধ ভাটা উচ্ছেদের আওতায় ভেঙ্গে দেয়। কিন্তু আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো ভাটাটি ভেঙ্গে দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ভাটা মালিক আবারও তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। সম্প্রতি ইট পোড়ানোর সকল কার্যক্রম শেষ করে ফেলেছে। ভাটার যে অংশ ভালো রয়েছে সে অংশে ইট সাজানো হয়েছে পোড়ানোর জন্য। এছাড়া ইট পোড়ানোর সরঞ্জাম কয়লা ও কাঠ আমদানী করা হয়েছে। যে কোন সময় ইট পোড়ানোর জন্য ভাটায় আগুন দিতে পারে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসিরা। ইতোপূর্বেও একাধিকবার ভাটাটির সকল কার্যক্রম পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ভাটাটির বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (৩৩৭২/২০২২) দায়ের করেন। কিন্তু ভাটা মালিক পতিত সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ার কারণে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ভাটাটি নির্দ্ধিধায় চালিয়ে গেছেন। এলাকার ভুক্তভুগীরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী ও মারপিট করা হয়। যশোর আদালতে ওই মামলা চলমান রয়েছে। এতকিছুর পরেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কিভাবে ভাটাটি চালু রাখে তা নিয়ে এলাকাবাসির মনে এখন নানা প্রশ্ন বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে। এ বিষয়ে ভাটা মালিক আবুবক্কার সিদ্দিক বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই ভাটাটি যে ভাবে ভেঙ্গে দিয়েছে সে ভাবেই রয়েছে। আমরা ইট পোড়ানো বা ভাটার কোন কার্যক্রম চালু করিনি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি আমরা ভাটার কার্যক্রম চালুর অনুমতি পাবো। যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এমদাদুল হক বলেন, তারা ভাটাটি চালু করার কোন অনুমোদন পাইনি। আমরা যে অংশ ভেঙ্গে দিয়েছি সেটি মেরামত করে যদি ভাটার কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করে তাহলে ভাটাটি সম্পুর্ণ ভেঙ্গে দেওয়া হবে। যশোর জেলা প্রশাসক আজারুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর রোমান ব্রিকস ভেঙ্গে দিয়েছে। আবার কার্যক্রম শুরু করলে পরিবেশকে বলেন ত্রাাই ভাল বলতে পারবে এবং ব্যবস্থা নিবে।

