ঢাকাWednesday , 1 January 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কেশবপুরে খেজুরের রস ও গুড়ের মৌসুমকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে মৃৎ শিল্পীদের

Link Copied!

খেজুরের গুড়ের মৌসুমকে সামনে রেখে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মৃৎ শিল্পীরা এখন খেজুরের রস-গুড় সংরক্ষণের জন্য ভাড়ও কলসী তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। পাল সম্প্রদায়ভুক্ত অনেকেরই আজ আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তারপরেও উপজেলার গৌরীঘোনা, ভেরচী, বুড়লী, কলাগাছি গ্রামসহ কয়েকটি গ্রামের মৃৎ শিল্পীরা বংশ পরম্পরায় বাপ-দাদার এ আদি পেশাটি আকড়ে ধরে আছেন। ইতি মধ্যে এ অঞ্চলের গাছিরা গুড় উৎপাদনে রস আহরণের জন্য খেজুর গাছ তোলার কাজ শুরু করেছে। আর কয়েক দিন পরেই গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে পড়বে তারা। এ জন্য গাছিদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ভাড়ের যোগান দিতে মৃৎ শিল্পীরা দিন-রাত এখন মহাব্যস্ত। সরেজমিনে উপজেলার গৌরীঘোনা গ্রামের পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, রবীন পাল ও তার স্ত্রী পারুল রাণী একমনে হাতের কারুকার্যের নিখুঁত ছোয়ায় ভাড় তৈরী করে চলেছেন। ছাঁচে ভাড় তৈরির নান্দনিক দৃশ্যটি খুবই মনোমুগ্ধকর । ভাড় বানানোর দৃশ্য অবলোকনের জন্য যে কেউ থমকে যাবেন। ভেরচী গ্রামের পাল পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, এ এলাকার পাল পাড়ার অনেক বাড়ির নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই ভাড় তৈরিতে ব্যস্ত। কারো সাথে বাড়তি কথা বলার সময় তাদের নেই। তবুও কাজের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় ভাড় তৈরিতে ব্যস্ত পুলিন, বিষ্ণুপদ,রাসমনিসহ কয়েকজনের সাথে। ভাড় তৈরি কাজে শুধু পুরুষ সদস্যই না বাড়ির গৃহিনী থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েরাও পড়ালেখার ফাঁকে তাদের বাবা মায়ের কাজে সাহায্য করছে। মৃৎ শিল্পী রবীন পাল জানান, ভাড় তৈরির প্রধান উপকরণ এঁটেল মাটি যা দূরের মাঠ থেকে সংগ্রহ করে বাড়িতে এনে তা পানি দিয়ে ভিজিয়ে কোদাল দিয়ে কয়েকবার ঝুরঝুরে করা হয়। এরপর পা দিয়ে ছেনে মোলায়েম করা হয়। মোলায়েমকৃত মাটি বোলে দিয়ে বালির সংমিশ্রণে মাটি চাপড় বানানোর পর ছাঁচে দিয়ে হাতের কারুকার্য দিয়ে ভাড়ের কানাসহ ভাড়ের উপরিভাগ তৈরি করা হয়। এই ছাঁচে ভাড়ের নীচের অংশ তৈরির পর পৃথক দুটি অংশকে জোড়া লাগিয়ে দুদিন রোদে শুকানো হয়। রোদে শুকানো ভাড়ে রং লাগিয়ে পাজায় (আগুনে) ৫ ঘন্টা ব্যাপী পোড়ানোর পর তৈরিকৃত ভাড়ের কানাছ (দড়ি) লাগিয়ে গাছিরা খেজুর গাছে রস আহরণের জন্য ব্যবহার করে থাকে। মৃৎ শিল্পী পারুল রাণী বলেন, প্রতিদিন তিনি ও তার স্বামী মিলে ৫০ থেকে ৬০টি ভাড় তৈরি করতে পারেন। মৃৎ শিল্পী গোপাল ও জয়দেব পাল বলেন, প্রতিটি ভাড় ২০/২২ টাকা করে বিক্রি করা হয়। এভাবে শ’খানেক ভাড় বিক্রি করে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লাভ করে থাকেন তারা।