জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে দীর্ঘ ১৭ বছর পর উপজেলা এবং পৌর বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সম্মেলনে ৩ ঘন্টা ভোট গ্রহনের পর ফলাফল ঘোষনার পর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভোট কেন্দ্র আক্কেলপুর সরকারি ফজর উদ্দিন (এফইউ) উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে টাকা লেনদেন করে ভোট ও ফলাফল কারচুপির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন পরাজিত প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বাদশা, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আমিনুর রশিদ ইকুসহ তাদের কর্মী ও সমর্থকরা। পরে ওই ফলাফল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, প্রহসনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আগে থেকেই সাজানো ছিল ওই ফলাফল। পাতানো ফলাফলে বিজয়ীরা টাকার বিনিময়ে ভোট ক্রয় করে বিজয়ী হয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনারকেও তারা মোটা অংকের টাকা দিয়ে কিনেছেন। এসবই ছিল পাতানো একটি কাউন্সিল। পরে তারা কাউন্সিল মানি না মানবো না বলে বিক্ষোভ মিছিল করেন। জানা গেছে, বুধবার কাউন্সিলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে সাইকেল প্রতীক নিয়ে ১৪৮ ভোট পেয়ে কামরুজ্জামান কমল নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বাদশা চেয়ার প্রতীকে ১৩৪ ভোট পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানা মোরগ প্রতীকে ১৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটমত প্রার্থী ছাতা প্রতীকের আমিনুর রশিদ ইকু ৯৪ ভোট পেয়েছেন। অপর দিকে পৌর বিএনপির সভাপতি পদে চেয়ার প্রতীকে ৩০০ ভোট পেয়ে আফাজ উদ্দীন নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী ওয়াহেদ প্রামানিক সাইকেল প্রতীকে ২৮৭ ভোট পেয়েছেন। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে মোরগ প্রতীকে আমিনুল ইসলাম পল্টু ২৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী মামুনুর রহমান ছাতা প্রতীকে ২২৩ ভোট পেয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পরে উপজেলা বিএনপির সদ্য নির্বাচিত সভাপতি কামরুজ্জামান কমল বলেন, এই সম্মেলনে ভোটরা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আগামীতে যাতে দলীয় কার্যক্রম আরও সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারি সে জন্য সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাব। সংবাদ সম্মেলনে পরাজিত সভাপতি প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বাদশা অভিযোগ করে বলেন, তারা বিশ্বাসের মধ্যে জালিয়াতি করেছে। বিশ্বাসের সাথে বেইমানি করে ভোট ও ফলাফল দুটোই বিক্রি করেছে নির্বাচন কমিশনার। আমি এই নির্বাচন মানি না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এইচ এম ওবাইদুর রহমান সুইট বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহন শেষে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফলাফল ঘোষনা করা হয়েছে। ভোট গণনার সময় সকল প্রার্থী এবং তাদের এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন। এখানে কারচুপির কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনে পরাজিত হলে সব প্রার্থীই এই ধরনের বানোয়াট কথা বলে। তাদের অভিযোগ সত্য নয়।

