মাদারীপুরের শিবচরের বহেরাতলা দক্ষিণ গ্রামের বাক ও প্রতিবন্ধি আলেকজান বেগমকে একটি বসতঘর করে দেয় আল আকীদা ফাউন্ডেশন। ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা আলেকজান বেগম। সংগঠন বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিত্তশালীরা যদি একজন অসহায় মানুষের পাশে দাড়ায় তাহলে দেশে আর অসহায় মানুষ থাকতো না বলেছেন বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আলেকজান বেগম শিবচর উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র এক নারী। তিনি জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধি। ২ বোন আর বাবা মাকে নিয়েই ছিল তাদের সংসার। বাবা মা মারা যাওয়ার পর একা হয়ে যায় আলেকজান বেগম। বোনের বিয়ে হয়ে যায়। বাবার ভিটায় একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন তিনি। বোন মারা যাওয়ার পর এক ভাগ্নিও তার নানার ভিটায় খালা আলেকজানের ঝুপড়ি ঘরের পাশে একটি ঘর করে থাকতে শুরু করে। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পরতো আলেকজানের। শীতেও বাতাস ঘরে ঢোকার কারণে অনেক কষ্টে এই ঘরেই বসবাস করতেন আলেকজান। ৪৭ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও বিয়ে হয়নি তার। তার কষ্টের কথা জানতে পারেন আল আকীদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এইচ বাবুল সাহেবের। তিনি সিদ্ধান্ত নেন আলেকজান বেগমকে একটি ঘর দেয়ার। আল আকীদা ফাউন্ডেশন এর আগেও অনেক অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে বলে জানান আকীদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এইচ বাবুল। বর্তমানেও একাধীক মানুষকে ঘর তৈরি করে দেয়ার কাজ চলমান আছে। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে আলেকজান বেগমকে ঘরটি বুঝিয়ে দেয় আল আকীদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এইচ বাবুল। সে সময় তার সাথে ছিলেন বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী উকিল ও আল আকীদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ইকবার হোসেন। আলেকজান বেগমকে ঘরটি বুঝিয়ে দেয়ার সময় আল আকীদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সারা দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে। কয়েকটি জেলায় আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল বারী উকিল বলেন, আল আকীদা ফাউন্ডেশনের মত বিভিন্ন সংগঠন ও বিত্তবান মানুষেরা যদি অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতো তাহলে দেশে অসহায় মানুষগুলোর কষ্ট থাকতো না। আলেকজান বেগমের মত অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে বিত্তবানদের আহ্বান করেন চেয়ারম্যান।

